শনিবার ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ শনিবার

পালটে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ

অনলাইন ডেস্ক:-নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) কে হতে যাচ্ছেন নগরপিতা, এমন প্রশ্নের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোটাররা। পাশাপাশি দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থকদের মাঝেও চলছে নির্বাচনি আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত আসন্ন নাসিক নির্বাচনে দলীয়ভাবে বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না তা নিয়েও শেষ হচ্ছে না জল্পনা-কল্পনার। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নাসিক নির্বাচনে অংশ নিলে এবার পালটে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ।

বিএনপিদলীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা বেশ দৃঢ়। ইউনিয়ন পরিষদের চলমান নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নিলেও সিটি করপোরেশনের মতো বড় একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেবে না কেন্দ্রীয় বিএনপি। সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা ইস্যুতে ইতোমধ্যে মাঠে নামা বিএনপিকে আবারও ঘরমুখো করতে চাচ্ছেন না অনেকেই। এ ‘ফ্লো’ ধরে রাখার অন্যতম সুযোগ হতে পারে নাসিক নির্বাচন।

এদিকে কে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। মাঠের রাজনীতিতে এগিয়ে থাকা এ নেতাকে প্রথম নাসিক নির্বাচনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল নিজের দল থেকেই। আর গতবার তার প্রতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মতি থাকলেও শেষ অবধি নিজের ইচ্ছাতেই তিনি প্রার্থী হননি। তবে এবার দলগতভাবে নাসিক নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির প্রার্থী হতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন এ নেতা।এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জানিয়েছেন, বিএনপি সব সময়ই গণমুখী, নির্বাচনমুখী একটি দল। তবে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই বিধায় আমার দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু যদি কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে তৃণমূলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই প্রার্থী দেব আমরা। তবে আমার দল প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচনের জন্য। এদিকে বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে শোনা যাচ্ছে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের নামও। দলের ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত এ নেতা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বড়। দল নির্বাচনে গেলে তৃণমূলের চাওয়াটাই হবে সবার চাওয়া।

অপরদিকে সাবেক নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে ২ বারের সিটি করপোরেশন আমলের ১৮ বছর মেয়র পদে থাকা আইভী শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাবেন কিনা, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। দলীয় সূত্র জানায়, ১৮ বছরের ক্ষমতাকালে মেয়র আইভীর সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের দূরত্ব, নিজ দলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বামপন্থি নেতাদের সঙ্গে মেয়র আইভীর গভীর সখ্যে বহু বছরের ক্ষোভ চেপে আছেন নেতাকর্মীরা। মূলত মেয়র আইভী ইস্যুতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এবার পরিবর্তনের দাবি তুলে আসছে কয়েক বছর ধরেই। মেয়র আইভী ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়ে আলোচনায় আছে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সহ-সভাপতি চন্দন শীলের নাম।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার নিয়ে বিষোদগারকারী রফিউর রাব্বিকে নিয়ে ত্যাগী নেতাদের রেখে গতবার নৌকার মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন সেলিনা হায়াত আইভী। আমরা গত ১৮ বছরের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না, আমাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এবার বন্ধ করতে চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে সিদ্ধিরগঞ্জের কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ঘরে থাকতে পারেননি অথচ মেয়র আইভী গত ১৮ বছরে এ অঞ্চলের ত্যাগী নেতাদের নামটিও বলতে পারবেন কিনা সন্দেহ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত আমলেও আমরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, ঘরবাড়িতে থাকতে পারিনি, সে সব তিক্ত ইতিহাস মনে হলেও আমাদের গর্ব হয় এই ভেবে যে, দলের জন্য ন্যূনতম ত্যাগ স্বীকার করতে পেরেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, দল ক্ষমতায় থাকার পরও দলীয় মেয়র আইভীর কাছ থেকে একের পর এক মামলা উপহার পেয়েছি আমরা। মহানগর আওয়ামী লীগের ২ বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা গত ২৫ বছর ধরে দলের হাল ধরে আছেন। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ২ বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও তিনি। অথচ তার বিরুদ্ধে দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই মেয়র আইভী নিজে বাদী হয়ে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন। এমন বহু ঘটনায় হাজারো নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম জানান, সাধারণ মানুষ যখন সাবেক পৌর আমল থেকে এখন অবধি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ে, করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে না থাকা নিয়ে, জলাবদ্ধতার অভিশাপ আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করে তখন নিজেকে নিজেই অভিশাপ দিতে হয়।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের কাছে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, নির্বাচন এলেই আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যাচার শুরু করে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলেই নির্বাচন করব, নতুবা দলের বাইরে গিয়ে করব না। অপরদিকে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতি দলের বাইরেও একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে বেশ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা।

বিষেরবাঁশী.কম /ডেস্ক / রূপা

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.