শুক্রবার ৬ কার্তিক, ১৪২৮ ২২ অক্টোবর, ২০২১ শুক্রবার

পূজায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা!

অনলাইন ডেস্ক:-   প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এবার নাশকতার আশঙ্কা থেকে পুরো পূজা পর্বে একই রকম সতর্ক থাকার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ১২-১৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা ও দশেরা পালিত হবে। সেই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা এবং অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নজরদারি রাখতে হবে।

অনেক প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকই মনে করছেন, দুর্গাপূজায় এমন নাশকতার সতর্কবার্তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে সরকার এমন বার্তা দিয়েছে কিনা, তা স্মরণ করতে পারছেন না প্রবীণ আমলাদের অনেকেই। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই সতর্কবার্তার সম্পর্ক রয়েছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের ব্যাখ্যা, জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি মূলত নিশানা করে জনবহুল স্থান, উৎসবের ভিড় বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে, যেখানে নাশকতা ঘটালে বড় ধরনের ক্ষতি করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্দেশ্যের প্রচারও সম্ভব। দশেরা, দুর্গাপূজায় রেকর্ড ভিড় হয়। জঙ্গিরা মনে করে, তখন নাশকতা ঘটাতে পারলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠবে, অস্থিরতা বাড়বে। একইভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে গোষ্ঠী-বিরোধে উস্কানি দেওয়াও সহজ হবে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিই যে সেই তৎপরতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, সেই ব্যাপারে তারা মোটামুটি নিঃসন্দেহ। যার অন্যতম উদাহরণ কাশ্মীরে সাম্প্রতিক নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড। এই অবস্থায় উৎসবমুখী রাজ্যগুলিকে এ ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েই রেখেছে কেন্দ্র। পূজার সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা নতুন সংযোজন।

নাশকতা ঠেকাতে নজরদারির প্রশ্নে দু’টি পথ ধরতে চাইছে প্রশাসন। একটি পথ পুলিশের, অন্যটি নাগরিক-সচেতনতা এবং নজরদারি। কিছু দিন আগে পূজার বিধি প্রকাশ করেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তাতে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট অনুশাসনের আওতায় পূজা করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে পূজার ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালনের উপরে জোর দিয়েছে।

করোনায় বিধিনিষেধ পালনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের উপরে নজরদারির বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছে সরকার। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হল তার উপরে নজর রেখে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের। বড় পূজাগুলোতে ক্লোজ্ড সার্কিট ক্যামেরা এবং ‘ওয়াচ টাওয়া’ বা নজরমিনার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘন বসতিপূর্ণ, স্পর্শকাতর, গুরুত্বপূর্ণ এবং মিশ্র এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা হচ্ছে।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.