বৃহস্পতিবার ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ বৃহস্পতিবার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ কী

অনলাইন ডেস্ক:- প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরে একটি স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পরই শিক্ষাবিদ-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ কী হবে?

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া আগামী নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাসংক্রান্ত বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জনস্বাস্থ্য বিষয়ক করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, কমিটি বেশ কয়েক পৃষ্ঠার জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বা করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী টিকা নেননি, তাদের দ্রুত টিকা নিতে হবে; প্রতিদিন সবাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা যাবে না; এখন কেবল এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ছয় দিন ক্লাস করবেন, আর বাকিরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই দিন ক্লাসে যাবে। শ্রেণিকক্ষে বসার আকার আগের চেয়ে ছোট হবে। বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনাকুনি সিস্টেমে বসাতে হবে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো জটলা করা যাবে না। স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। ওয়াশরুম পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ৫ বছরের ওপরের বয়সীরা মাস্ক পরবেন। আর তা তদারকি করবেন শিক্ষকরা। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত দিকগুলো নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বৈঠক আজ

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। এমনকি স্কুল খুলে দেওয়ার পরে দৈনিক বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয় আছে। এটা এজন্য যে, সংশ্লিষ্ট সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।’

সরকারি প্রস্তুতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খোলার প্রস্তুতি চলছে দুই ভাগে। একটি খোলার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজ; পরে কিভাবে চলবে; আরেকটি টিকা দেওয়া। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট তিন দফা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিবারই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রতিষ্ঠান প্রস্তুতের জন্য বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোপূর্বে তৈরি ৪২ পৃষ্ঠার গাইডলাইনও পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি কত দূর 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ অন্যান্য জনবলের সমস্যাসহ নানামুখী সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং অন্য পরিকল্পনাগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা-ই বড় চ্যালেঞ্জ। তারা বলছেন, আগে স্বাস্থ্য, পরে শিক্ষা। এত কাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল সংক্রমণের কারণে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা–বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে সংক্রমণ প্রতিরোধেই জোর দিতে হবে। প্রাক্-স্কুল, প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বয়স ও আচরণে পার্থক্য আছে। সর্বজনীন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক বিধিবিধান করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, তা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। পরে কয়েক দফা চেষ্টা করেও এই মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর খোলা সম্ভব হয়নি।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/ব্রিজ

Categories: শিক্ষা

Leave A Reply

Your email address will not be published.