মঙ্গলবার ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ মঙ্গলবার

জন্মাষ্টমী উদযাপনে বিশেষ নির্দেশনা পূজা উদযাপন পরিষদের

অনলাইন ডেস্ক :-করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সব প্রকার সমাবেশ, শোভাযাত্রা বন্ধ রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি ও বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে আগামী ৩০ আগস্ট মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাবতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

শনিবার (৩১ জুলাই) শুভ জন্মাষ্টমীর আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী দেশের সব জেলা এবং মহানগর পূজা কমিটির প্রতি এই অনুরোধ করেন।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ১১ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১ উপলক্ষেও একই নিয়ম অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়। পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যথাসময়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

শুভ জন্মাষ্টমীর আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ আবির্ভাবতিথি জন্মাষ্টমী উৎসব আগামী ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছরের মার্চ মাসের মধ্যভাগ থেকে বাংলাদেশও বৈশ্বিক করেনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে করোনা পরিস্থিতির সংক্রমণের হার কিছুটা স্তিমিত হলেও বর্তমানে এই সংক্রমণের হারের পুনঃঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকার জীবন ও জীবিকার সময় করে দিয়ে মাঝে মাঝে বিধিনিষেধ/লকডাউন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সংক্রমণের হারকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু জনগণের বৃহদাংশের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার প্রবণতা সরকারের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে, যদিও সরকার এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে করোনা প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। এর পরেও এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ করোনা অতিমারির হট স্পট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায় সরকারের সময়ে সময়ে ঘোষিত স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নীতিমালার আলোকে নিজেদের জীবনাচারে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মন্দির/দেবালয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি পালনের ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করার অনুরোধ জানান তারা।

১। মন্দির/দেবালয়ের প্রবেশদ্বারে মন্দির কর্তৃপক্ষ হাত ধােয়ার ও স্যানিটাইজেশনের প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

২। দর্শনার্থী/ভক্ত এবং মন্দিরে অবস্থানকারী পুরােহিতসহ সকলকে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে।

৩। মন্দির/দেবালয়ে আগত ও অবস্থানরত সকলকে সরকার ঘােষিত নির্দেশনার আলােকে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

৪। মন্দির/দেবালয়ে অপ্রয়ােজনীয় কারণে জনসমাগম পরিহার করতে হবে এবং দীর্ঘকাল অবস্থান না করার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

৫। একান্ত জরুরি না হলে মন্দিদেবালয়ে গমনে বিরত রেখে ঘরে থেকে প্রার্থনা করা যেতে পারে।

৬। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকল প্রকার সমাবেশ, শােভাযাত্রা/মিছিল থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭। নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন, অন্যকে সুরক্ষিত থাকতে সহযােগিতা করুন।

৮। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

৯। করােনা সংক্রমণ পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয় তাহলে ১১ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যথাসময়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।

১০। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এর সকল স্তরের শাখা কমিটিসমূহ আওতাধীন সকল মন্দির/দেবালয় কর্তৃপক্ষকে উপরােক্ত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলতে সহযােগিতা করবেন এবং উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিষদের সকল স্তরের কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে সমন্বয় সাধন করবেন।

এসময় বিজ্ঞপ্তিতে ২০২০ সালেও করােনা অতিমারীর কারণে বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে রথযাত্রা, শুভ জন্মাষ্টমী ও শারদীয় দুর্গাপূজা সীমিত পরিসরে পালন করার জন্য সনাতনী সম্প্রদায়ের জনগােষ্ঠীকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তরফ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: ধর্ম ও নৈতিকতা

Leave A Reply

Your email address will not be published.