মঙ্গলবার ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ মঙ্গলবার

‘কারখানায় কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে’, নির্দেশ অনন্ত জলিলের

অনলাইন ডেস্ক :-দেশে প্রতিদিনই যেখানে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে পোশাকখাতের কারখানা মালিকরা করোনা স্বাস্থ্যবিধি বা কঠোর বিধিনিষেধ মানায় কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

কেননা তাদের দাবির মুখে রোববার (০১ আগস্ট) ভোর থেকে খুলছে শিল্পকারখানা। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে পোশাক শিল্পমালিকদের কার্যক্রমে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিচের পোস্টটি করেছেন,  

‘এত দ্বারা এ.জে.আই গ্রুপ ও এ.বি গ্রুপে কর্মরত সকল কর্মকর্তা এবং শ্রমিক ভাই বোনদের উদ্দেশে জানানো যাইতেছে যে, আগামী ১ আগস্ট থেকে আমাদের ফ্যাক্টরি সম্পর্ণভাবে খোলা থাকবে। তাই সবাইকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো, কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে।’

তার স্ট্যাটাসের নিচে মাহবুব নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘শিল্পকারখানা খুলবে ১ আগস্ট আর লকডাউন ৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে গ্রামে আটকা পড়া শ্রমিকরা কি স্পেসশিপে করে ঢাকায় পৌঁছাবে?’

ফাতেমা তিথি নামে আরেকজন কমেন্টে বলেছেন, ‘আপনি সব সময় বলেন আপনি শ্রমিক বান্ধব, এই তার নমুনা? আপনার সিনেমায় যেমন ক্ষমতা থাকে শ্রমিকদের তো তা নেই, একটিবার চিন্তা করলেন না গণপরিবহন না চললে কিভাবে তারা ফিরবে? শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলুন, নয়তো গণপরিবহন চালুর ব্যবস্থা করুন।’

গত ৩০ জুলাই কারখানা চালুর সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে যে চিঠি দেন সেখানে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সেখানে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের লকডাউনের মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হবে কিনা তা উল্লেখ ছিল না। এর আগে গত বছরও সাধারণ ছুটির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রপ্তানিমুখী শিল্প চালু রাখার সুযোগ দেয় সরকার। সেবারও গণপরিবহন বন্ধের মধ্যেই গ্রাম থেকে কারখানামুখী শ্রমিকের ঢল নামে রাস্তা-ঘাটে। সীমাহীন কষ্টে তারা পৌঁছান কর্মস্থলে। শিল্পমালিকদের দায়িত্বহীন আচরণে সমালোচনার ঝড় ওঠে নানা মহলে।

কোরবানি ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধে সব শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয় সরকার থেকে। সেই অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনও জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রথম থেকেই কারখানা বন্ধের বিরোধিতা করছিল তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা এবং তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দৌড়াদৌড়ি এবং সবশেষ ২৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ’র সভাপতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রম প্রায় শেষ হওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাজারে পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। এবং দেশের কারখানায় ক্রয় আদেশ আসছে আগের তুলনায় অনেক বেশি হারে।

অবশেষে গত ৩০ জুলাই শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, পহেলা আগস্ট থেকে চলমান কঠোর বিধি নিষেধের আওতা বহির্ভূত থাকবে রপ্তানিমুখী সকল শিল্প ও কলকারখানা। শিল্পমালিকরা ঢাকা এবং শিল্প এলাকায় থাকা শ্রদিকদের দিয়েই আপাতত কারখানা চালু থাকবে এমন আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র তা বলছে না। কারখানা চালুর ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা ও শিল্পাঞ্চলমুখী শ্রমিকদের ঢল নামে। ফেরি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রাকের মতো পরিবহন তো আছে পায়ে হাঁটাসহ যে যেভাবে পারছে কাজে যোগ দিতে রওনা হচ্ছে গ্রাম থেকে।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.