সোমবার ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ সোমবার

ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা

অনলাইন ডেস্ক :

রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। আইসিইউ ও সাধারণ বেডের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। ঈদের পর থেকেই এসব হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ সংকট দেখা দেয়। গত তিন দিনে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন ঢাকার বাইরের দুই শতাধিক রোগী রাজধানীতে আসছেন আইসিইউয়ের জন্য। সাধারণ শয্যার জন্য রোগী আসার সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। রোগীদের আইসিইউয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন মাত্র দুই একটা বেড খালি হচ্ছে। কোনো রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেই বেড খালি হয়।

ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা

গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। শেষে ভর্তি হতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেক রোগী। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সামনে ‘সিট খালি’ নেই জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি টানাতে বাধ্য হয়েছে।

বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকরা জানান, অপেক্ষমাণ রোগীদের চাপ অনেক বেশি। শয্যা খালি না থাকায় বেশিরভাগ রোগীকেই ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে নিজেই নিজের সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতেই হবে।

ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা

করোনাসহ সব ধরনের রোগী চিকিত্সা সেবা নিতে ঢাকায় আসছেন। গত কয়েকদিন ঢাকার বাইরের করোনা রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। আগত রোগীদের অভিভাবকরা বলেন, ঢাকার বাইরে আইসিইউ বেড পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। শুধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বেশিরভাগ জেলায় আইসিইউ নেই। এ জন্য জীবন বাঁচাতে রোগীকে ঢাকায় ছুটে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বেড মিলছে না। এই অবস্থায় রোগীরা রাজধানীতে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ভর্তি হতে না পেরে আবার ফিরে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলেন, যেসব রোগী ভর্তি হতে না পেরে ফেরত যাচ্ছেন তাদের ভাগ্যে কী হচ্ছে জানি না। তাদের অনেকে রাস্তায় কিংবা বাসায় গিয়ে মারা যাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে অনেকে সিলিন্ডার অক্সিজেন দিচ্ছেন। কিন্তু আইসিইউয়ের রোগীদের প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৭০ লিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। যেটা সিলিন্ডার অক্সিজেনের মাধ্যমে সরবরাহ সম্ভব না।

ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা

আমেরিকায় যখন সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তখন সেখানে আইসিইউয়ের সংকট এমন হয়েছিল যে, বৃদ্ধদের বদলে তরুণদের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে এমন অবস্থা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে ছেলের জন্য আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পালকে। পরে ওই মা মারা যান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, এখনো সময় আছে, মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে সবারই মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যারা মাস্ক পরবে না তাদের টঙ্গীর সংশোধনাগারের মতো সংশোধনাগারে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকদের মাস্ক তৈরি করে গরীবদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদানের জন্য আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/ব্রিজ

Categories: করোনা ভাইরাস

Leave A Reply

Your email address will not be published.