সোমবার ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ সোমবার

বাংলাদেশে সম্পত্তির হিন্দু ও বৌদ্ধিস্ট নারীর অংশিদার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

অনলাইন ডেস্ক:– ।। সুভাষ সাহা্ ।।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েরা যাতে পিতা/ স্বামীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার পান, সেই লক্ষ্যে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল আইন কমিশন।

কমিশন বলছে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তিতে পুত্রের সাথে কন্যাকেও পূর্ণ ও সমান অধিকার দিতে হবে।

তবে এই সংস্কারের উদ্যেগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সম্পত্তিতে মেয়েদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিপক্ষ মতও রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলছেন, দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

বাবা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার দিয়ে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব করেছে জাতীয় পর্যায়ে গঠিত ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’।

কয়েকটি মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারী সংগঠনের উদ্যোগে প্রস্তাবিত আইনের একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই সেটি আইনমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত এই আইনটির পক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিপক্ষ মতও রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলছেন, দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও হিন্দু আইন সংস্কার নিয়ে কাজ করেন নীনা গোস্বামী, যিনি বলছেন প্রচলিত বিভিন্ন প্রথা অনুযায়ী হিন্দু আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

”তাই সময়ের প্রয়োজনে তার পরিবর্তন করলে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রত্যেকে উপকৃত হবেন।” বলছেন নীনা গোস্বামী।

তবে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কেউ মনে করছেন বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা হিন্দু আইন সংস্কারের উপযোগী নয়।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বলেন, “বিবাহ নিবন্ধনের বিষয়টি যেমন ঐচ্ছিক করা হয়েছে তেমনি পর্যায়ে ক্রমে অন্যগুলোও ঐচ্ছিক করা উচিত।” বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা উচিত।

“সবাই ভারতের কথা বলেন, কিন্তু ভারত এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এক নয়।”

এদিকে আইন কমিশন বলছে তাদের মাঠ পর্যায়ের গবেষণা দ্বারা তারা এর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন।

১৯৩৭ সালের হিন্দু আইন অনুযায়ী, মেয়েরা কোনো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নন। তবে বিধবা হওয়ার পর সন্তান নাবালক থাকা অবস্থায় তারা শুধু বসতবাড়ির অধিকারী হন। দীর্ঘ ৮৪ বছরেও এই আইনে পরিবর্তন আসেনি।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ‘যুগোপযোগী’ করতে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট একটি নতুন আইনের সুপারিশ করে আইন কমিশন। সেখানে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকারসহ ৯ দফা সুপারিশ করা হয়।তবে এ বিষয়ে পরে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

এরপর ২০১৮ সালে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নিয়ে ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২০’ এর খসড়া তৈরি শেষ হয় গত মার্চে।

খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “আইনটি ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ২০২০’ নামে অভিহিত হবে। এটি সমগ্র বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিক ও যারা হিন্দু ধর্ম পালন করেন তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে আইনটি কার্যকর হবে।”

প্রস্তাবিত এ আইনে ১৭টি ধারা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ ১৯৭৯ তে বাংলাদেশ সরকার স্বাক্ষর করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এর বিরোধিতাকারীরা বলছেন, নতুন আইন হলে হিন্দু সম্পত্তি বণ্টনে জটিলতা বাড়বে। তারা বলছেন, এ ধরনের আইন হলে যে মেয়ের সম্পত্তি নেই তাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবেন না অথবা যৌতুক দাবি করবেন।

নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালক (প্রোগ্রাম) রিনা রায় বলেন, ‘খসড়া উত্তরাধিকার আইনটি নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের আইনজীবী, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের হিন্দু নেতারা অংশ নেন।

‘এ আইন নিয়ে আমরা কমিউনিটিতে আলোচনা করেছি। হিন্দু নারী-পুরুষেরা এর পক্ষে মত দিয়েছেন। সবার মূল্যবান মতামত আইনের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের প্রস্তাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব উত্তরাধিকারীর মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনে সম–অধিকারের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা ও সিডও সনদে বিষয়টিকে সবসময় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

খসড়াটি আইনমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে রিনা রায় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খসড়াটি তুলে দেয়া হবে।’

নতুন আইনের বিষয়ে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্তী বলেন, ‘অবশ্যই আমরা প্রচলিত আইনের সংশোধন চাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমঅধিকারের জন্য কাজ করছি। অবশ্যই চাই আইনটি সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হোক।

আমরা সাধারণ হিন্দু নারীরা যেটা বুঝি, বাবার সম্পত্তি যদি তার ছেলে সন্তান পায়, তাহলে আমরা মেয়েরা কেন পাব না? দেশের সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা আছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছি।’

দিপালী চক্রবর্তী বলেন, ‘উত্তরাধিকার আইনসহ আমাদের চারটি দাবি রয়েছে। এর মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন আইন বাধ্যতামূলক করতে হবে, ধর্ষণের শিকার নারীকে আইনি সহায়তা দিতে হবে। এক স্ত্রী থাকা অবস্থায় যৌক্তিক কারণ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা করা এবং বিধবা নারীকে স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার ও পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার দিতে হবে।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত হিন্দু আইন যুগোপযোগী করার পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যমান হিন্দু পারিবারিক আইন যেটা আছে, সেটা ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যকর। এর মধ্যে নতুন কোনো আইন প্রণীত হয়নি।

‘অথচ নেপাল, ভারতেও পারিবারিক সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন নতুন আইন হয়েছে। তারা সময়োপযোগী করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ আইন করতে গেলে ‘মানি না, মানব না’ বলে যারা স্লোগান দেবে, তারা আসলে বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান। ব্রিটিশ আমলেও বিরোধিতাকারীরা এই স্লোগান দিয়েছিল। আজকেও অনেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিয়ে বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান।’

আইন সংস্কারের পক্ষে ফ্রিল্যান্সার লেখক সমদ্দার রতন ফেসবুকে লিখেন, ‘হিন্দু সমাজে যৌতুক প্রথা একটা বিরাট সমস্যা। এই প্রথার সূত্রপাত যে মেয়েদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার না থাকা থেকে হয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

‘বাবা-মা তাদের মেয়েদের কিছু দিতে চান। এর মহৎ দিকটা ছিল সেটাই, যা পরবর্তীতে ছেলেপক্ষের জোর-জবরদস্তিমূলক আদায়ে রূপান্তরিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্পত্তিতে নারী সমানাধিকার পেলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা ঘটবে যৌতুক প্রথায়। এত সহজে বিলুপ্তি যে ঘটবে না, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ক্রমে যে একটা পরিবর্তন সূচিত হবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।’

তবে তার মতের বিরোধিতাও চলছে ফেসবুকে। সমদ্দার রতনের পোস্টে আইনজীবী ডাল্টন সৌভাত হীরা কমেন্ট করেন, ‘এ আইনের ফলে যৌতুকের হেরফের তো হবেই না, বরং উল্টো সম্পত্তির জন্য নারী নির্যাতন (যেমন: মুসলিম ফ্যামিলি কোর্টে প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে) সেটা শুরু হলেও খুব বেশি আশ্চর্য হব না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুপ্রভাত পালও তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার বিপক্ষে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই উত্তরাধিকার আইন হওয়া উচিত। তবে সেটি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরও পরামর্শক্রমে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘আইন কমিশনের খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তার কারণ হচ্ছে এ আইনের বিষয়ে তাদের (হিন্দু) মধ্যে কিছু মতপার্থক্য আছে।

আমরা চাই আইনটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। সে জন্যই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব।’

‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’-এর প্রস্তাবের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা আলাপ-আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।

‘এই লকডাউনের পরেই তারা আমার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর যারা বিরোধীপক্ষ আছেন, তাদের সঙ্গেও আলোপ-আলোচনা করব।’

তিনি বলেন, ‘তারা বিরোধিতা কেন করছেন, সেটা জানতে চাইব। আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। আলোচনা শুরু হবে এই লকডাউনের পরে। বর্তমান পরিস্থিতিটা একটু স্বাভাবিক হলেই।’

‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’-এর প্রস্তাবে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকারের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও ২০১২ সালে আইন কমিশনের সুপারিশে আরও বেশ কিছু বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। কমিশনের মোট ৯টি সুপারিশ হলো:

১. হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় জরিমানা ও কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হবে।

২. আইনে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট কারণে স্বামী বা স্ত্রী কিংবা উভয়ের উদ্যোগে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করা যাবে এবং বিচ্ছেদের পর ফের বিয়ের সুযোগ থাকবে।

৩. সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বহুবিবাহ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।

৪. ভিন্ন বর্ণ বা গোত্র এবং উপবর্ণের পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিয়ের আইনগত বৈধতা থাকবে।

৫. স্বামী, স্ত্রী, অবিবাহিত পুরুষ বা নারী এবং বিধবা নারী বা বিপত্নীকদের দত্তক নেয়ার অধিকার থাকবে এবং দত্তক শিশুদের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে ভেদাভেদ থাকবে না।

৬. উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা (যেমন: শারীরিক ও মানসিক রোগ ও অক্ষমতা এবং নারীর অসতীত্ব, বন্ধ্যত্ব) বিলোপ করতে হবে।

৭. উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে পুত্রের সঙ্গে কন্যার পূর্ণ ও সমান অধিকার থাকতে হবে এবং বিধবা পূর্ণস্বত্বে উত্তরাধিকারী হবেন।

৮. সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার পর স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের ভরণপোষণের দায়-দায়িত্ব যেমন নেয়া প্রয়োজন, তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে অর্থাৎ স্বামীর অবর্তমানে বা অর্থ উপার্জনে অক্ষমতাজনিত কারণে সচ্ছল বা কর্মজীবী নারীদের বৃদ্ধ মা-বাবা বা সন্তানদের ভরণপোষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকা দরকার।

৯. নাবালক সন্তানদের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে মা ও বাবার সমান অধিকার থাকবে।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / সুভাষ সাহা / রূপা

Categories: জাতীয়,ধর্ম ও নৈতিকতা,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.