শুক্রবার ৬ কার্তিক, ১৪২৮ ২২ অক্টোবর, ২০২১ শুক্রবার

বন্ধু মেসিকে ‌’আরাধ্য জয়ে’ নেইমারের অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক:– যেই শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় খেলাটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি শনিবার সেই আরাধ্য জয়ের দেখা পেলেন মারাকানার মাঠে। ২৮ বছর পর লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে জয়ী হল আর্জেন্টিনা।  

সবশেষ ছয়টি আসরে ফাইনালে খেলে শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। খোদ লিওনেল মেসি ব্যর্থ হয়েছেন চারটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে।

তাই আজকের জয়টি মেসিদের জন্য অন্ধের ষষ্ঠির মতো। তাও আবার জয়টা এলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে। তাই তো শিরোপা জিতে রিও ডি জেনেইরোর মাঠে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেলে পড়েন মেসি-ডি মারিয়ারা।

২৮ বছর পর কোপা জিতে মেসিরা যখন উল্লাসে মত্ত তখন নেইমারদের বুকফাটা কান্না। ঘরের মাঠে শত্রুপক্ষকে পেয়েও কঠিন শোধ না নেওয়ার যন্ত্রণায় নেইমারদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।

কান্না থামিয়ে বন্ধুর এই মাহেন্দ্র ক্ষণে তাকে শুভেচ্ছায় সিক্ত করতে ভুললেন না ব্রাজিলিয়ান ফেনোমেনন। জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান।

ফাইনালের আগে বারবারই নেইমার বলছিলেন, ‘মেসি হচ্ছে আমার গ্রেট ফ্রেন্ড। কিন্তু মাঠে যেহেতু আমরা একে অপরের বিপক্ষে, তখন হয়তো বন্ধুত্ব থাকবে না।’ 

মাঠে সেটাই দেখা গেল। আজ দুই বন্ধুর একসঙ্গে হাসার কোনো সুযোগই ছিল না।

মারাকানায় ফাইনাল শেষে হাসলেন মেসি, কাঁদলেন নেইমার। শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসলেন বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলারটি। অন্যদিকে নেইমার জিততে না পারার হতাশা নিয়ে কাঁদলেন। জার্সি টেনে এনে হতাশায় মুখ ঢাকলেন, চোখের জল লুকালেন। তাকে এসে জড়িয়ে ধরে স্বান্তনা দিলেন কোচ তিতে।

মেসির জন্য প্রথম হলেও নেইমারের জন্য প্রথম ছিল না। নেইমার এর আগে কনফেডারেশন্স কাপ জিতেছিলেন। তবে, নেইমারের জন্যও প্রথম ছিল। কোপা আমেরিকায় প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ। ২ বছর আগে যে ব্রাজিল কোপা জিতেছিল, সেবার খেলতে পারেননি নেইমার। এবার তিনি মুখ ফুটেই বলেছিলেন, ‘আমিও প্রথম কোপা আমেরিকা জিততে চাই।’

কিন্তু জয়টা এলো মেসির জন্যই। দিনটাই আর্জেন্টিনার। ২২তম মিনিটে এঞ্জেল ডি মারিয়ার চিপ শটে সেই যে একমাত্র গোল হলো, সেটাই হয়ে দাঁড়ালো শিরোপা নির্ধারণী।

তবে, খেলা শেষ, সুতরাং আবারও বন্ধুত্ব ফিরে এলো মেসি-নেইমারের মধ্যে। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠার আগে এগিয়ে এসে মেসিকে অভিনন্দন জানালেন নেইমার। শিরোপা জয়ের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মেসিকে। মেসিও প্রিয় বন্ধুকে মনে হয় যেন দীর্ঘদিন পর কাছে পেলেন। জড়িয়েই ধরে রাখলেন দীর্ঘক্ষণ। এক আবেগঘণ দৃশ্যের অবতারণা হলো তখন।

পুরস্কার বিতরণের পর দেখা গেলো আরও একটি মধুর দৃশ্য। মেসি এবং নেইমার দু’জনই মিশে গেলেন একই রঙে। দু’জনের কারো গায়ে ছিল না কোনো জার্সি। জার্সি খুলে পাশাপাশি বসে ছবি তুললেন তারা দু’জন।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / রূপা

Categories: খেলাধূলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.