শুক্রবার ৬ কার্তিক, ১৪২৮ ২২ অক্টোবর, ২০২১ শুক্রবার

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন: “কেতাবে আছে গোয়ালে নেই”

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ-১৯৭৯-এ বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষর করেছে। যেখানে নারীর অধিকার ভোগ ও চর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।কিন্তু সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত সম অধিকার থেকে শুধুমাত্র বাংলাদেশে বঞ্চিত হিন্দু নারীরা।প্রতিবেশি ভারতে সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে অনেক আগেই।

এ বঞ্চনা থেকে একমাত্র রাষ্ট্র ই পারে মুক্তি দিতে।ধর্মের নামে অনাদিকাল থেকে হিন্দু নারীদের প্রতি নীরবে এ অবিচার চলছে। সম্পত্তিতে সমান অধিকার একপেশেভাবে পূর্ণভাবে ভোগ করছে পুরুষরা।কৌশলে হিন্দু নারীদের ঘুম পারিয়ে রাখা হয়েছিল এতোকাল।অথচ সংবিধানের আলোকে এ বৈষম্যের সুযোগ নেই। পঞ্চাশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনা হয়েছে হিন্দু নারীদের এই বঞ্চনার বিষয়টি।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কমিশনের মাধ্যমে একটি উত্তরাধিকার আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিরোধিতায় গলা উঁচু করছে একপেশে সুবিধাভোগীরা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভূতপূর্ব এ উদ্যোগকে বানচাল করতে নানা অপপ্রচারে নেমেছেন একশ্রেণীর লোক।কমিশন মনে করে,সম্পত্তিতে সমান অধিকার না থাকার কারণে হিন্দু নারী ও মেয়েরা বিভিন্ন ভাবে বঞ্চনা,বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।উল্লেখ্য,জাতীয় পর্যায়ে গঠিত ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ’ কোয়ালিশন আইনটির খসড়া তৈরি করেছে।

মুসলমান,খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য সংবিধানের আলোকে সমন অধিকার আইন কার্যকর করেছে রাষ্ট্র। সুবিধাভোগীদের একটি অংশের লাগামহীনভাবে বিরোধিতার কারণে হিন্দু নারীদের সম অধিকার সুবিধার আওতায় আনতে পারে নি সরকার।শত শত বছর ধরে ব্রাম্মন্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে হিন্দু নারীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।হালে হিন্দু নারীরা জেগেছে। তাঁদের দাবির প্রেক্ষিতেন্যায় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে দাঁড়িয়েছেন।এদিকে ভূঁইফোড় কিছু সংগঠন সিন্ডিকেট করে প্রস্তাবিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইনটির বিরোধিতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার নেত্রী জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা গুপ্ত এ প্রতিনিধিকে বলেন,’সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রশ্নে একটি কমন আইন থাকা উচিৎ।বিলম্বে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইনটি কার্যকর করা হলে আজন্ম বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হিন্দু নারীদের দুর্দশা দূর হবে।আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা পাবে।এটি কারো করূণার বিষয় নয়,নারীদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রস্তাবিত আইনটি যত দ্রুত সম্ভব পাস করা হলে একটি যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি হবে বাংলাদেশে।।

বিষেরবাঁশী.কম/ ডেস্ক/ সুভাষ সাহা

Categories: blog

Leave A Reply

Your email address will not be published.