সোমবার ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ ২১ জুন, ২০২১ সোমবার

বাংলায় ডক্টরেট ডিগ্রিধারী প্রথম নারী ড.নীলিমা ইব্রাহিম

অনলাইন ডেস্ক:- নীলিমা রায় চৌধুরী তাঁর পিতার দেওয়া নাম। ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি মুলঘর, ফকিরহাট, বাগেরহাট জেলা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে- বাংলাদেশ) জমিদার প্রফুল্ল রায় চৌধুরী ও কুসুম কুমারী দেবীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। নীলিমা রায় চৌধুরীর বাল্য কিংবা শিক্ষাজীবন দারুণ গৌরবোজ্জ্বল, চারটি বিষয়ে লেটার নম্বর নিয়ে ম্যাট্রিক পাস করেন,তিনি ১৯৩৭ সালে খুলনা করনেশন গার্লস স্কুল থেকে। ১৯৩৯ সালে কলকাতায় ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে যথাক্রমে স্কুল লেভেল ও ইন্টার লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

পরবর্তীতে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে কলা ও শিক্ষার উপরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, পরবর্তীতে ১৯৪৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ‘সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটক’—উক্ত বিষয়ে ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনিই প্রথম বাঙালি নারী, যিনি বাংলায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।নীলিমা চৌধুরী ১৯৪৫ সালে ইন্ডিয়ান আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। অতঃপর তিনি নীলিমা ইব্রাহিম নামেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি পাঁচ কন্যাসন্তানের জননী। তারা হচ্ছে খুকু, ডলি, পলি, বাবলি ও ইতি।তিনি বরাবরই ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক । তিনি যথাক্রমে খুলনা করনেশন গার্লস স্কুল, লোরেটো হাউস, ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন এবং অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, যেখানে তিনি ১৯৫৬ সালে অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং ১৯৭২ সালে বাংলা অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলা একাডেমির চেয়ারপারসন হিসেবে এবং বিশ্ব নারী ফেডারেশনের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস চেয়ার পারসনের দায়িত্ব পালন করেন।ড. নীলিমা বরাবর রাজনীতি–সচেতন শিক্ষক ছিলেন। তাই পাকিস্তান সামরিক সরকারের বাঙালি দলননীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বারবার।

১৯৬১ সালে কবিগুরুর জন্মশতবার্ষিকী পালনকে পূর্ব পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৪ সালে দাঙ্গায় নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। বিহারিরা পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় হানা দিয়ে অনেক হিন্দুকে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বি.সি রায় থাকতেন পুরান ঢাকায়। তাঁর বাড়িটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নীলিমা ইব্রাহিম ছুটে যান। পুলিশ এবং মিলিটারির সঙ্গে অনেক ঝক্কিঝামেলা শেষে চার দিন পর জগন্নাথ কলেজের শরণার্থীশিবির থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং আধুনিক বাঙালি জাতীয়তা চেতনায় একদল নতুন সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মী তৈরির কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। বাংলা বিভাগের সেই আদর্শবাদী, বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের ব্রতী, অঙ্গীকারদীপ্ত অধ্যাপিকা নীলিমা ইব্রাহিম বিপুল ছাত্রসমাজকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতে পেরেছিলেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো হচ্ছে :- (উপন্যাস)বিশ শতকের মেয়ে ১৯৫৮এক পথ দুই বাক ১৯৫৮কেয়াবন সঞ্চারিনী ১৯৫৮বহ্নিবলয় ১৯৮৫(নাটক)দুইয়ে দুইয়ে চার ১৯৬৪যে অরণ্যে আলো নেই(মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক) ১৯৭৪রোদজ্বলা বিকেল ১৯৭৪সূর্যাস্তের পরনব মেঘদূতরমনা পার্কে(প্রবন্ধ)আমি বীরাঙ্গনা বলছিশরৎ প্রতিভাড.নীলিমা তাঁর কাজ ও সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডের জন্য অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন,সে গুলো হচ্ছে ঃবাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯)জয় বাংলা পুরস্কার (১৯৭৩)মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭)লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯)বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতি পদক (১৯৯০)অনন্য সাহিত্য পদক (১৯৯৬)বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬)বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৯৭)শেরে বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭)থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮)একুশে পদক (২০০০)।

অধ্যাপিকা ড. নীলিমা ইব্রাহিম ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক/ বিধান চন্দ্র রায় /রূপা

Categories: সাহিত্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.