বৃহস্পতিবার ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ১৩ মে, ২০২১ বৃহস্পতিবার

হেফাজতের দুই নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক:- হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা মেহেদী হাসান ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নেওয়ার জন্য থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন। মামলাটি এখনও নথিভুক্ত হয়নি। 

সোমবার (৩ মে) রাত ১০টার দিকে সদর মডেল থানায় এজাহারটি জমা দেন তিনি। এজাহারে তিন জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেকজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কে. দাস মোড়ের বাসিন্দা সানাউল হক চৌধুরী (৫৫)।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির দেওয়া এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এজাহারে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংগঠিত হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে প্রত্যক্ষভাবে আসামিরা মদদ দিয়েছেন। এই তাণ্ডবের ঘটনা নিয়ে মাওলানা মেহেদী হাসান তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। যার উদ্দেশ্য ছিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর মানহানি করা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির করা।
এতে আরো বলা হয়, মেহেদী তার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে মোকতাদির চৌধুরী এমপিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় হামলাকারী উল্লেখ করে ফাঁসি দাবি করেন।
মেহেদীর ওই স্ট্যাটাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর অভিপ্রায়ে বাকি দুই আসামি প্রচার করেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার খবরে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় মাদ্রাসাছাত্র ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।
এই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাক বাংলো, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবন, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরসহ ৩৮টি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এর আগে শনিবার (১ মে) সন্ধ্যায় হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারক উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নেওয়ার জন্য সদর মডেল থানায় এজাহার জমা দেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। হেফাজতের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয় এজাহারে। তবে এজাহারটি মামলা হিসাবে এখনও নথিভুক্ত হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার কাছে চিঠি দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / রুপা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,আইন-আদালত,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.