বৃহস্পতিবার ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ১৩ মে, ২০২১ বৃহস্পতিবার

ভরাডুবির পর ধর্মীয় বিভেদের জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে বিজেপি!

অনলাইন ডেস্ক :–ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় চরম ভরাডুবির পর ধর্মীয় বিভেদের জন্য অনেক ভুয়ো খবরও ছড়াচ্ছে বিজেপি। এমন অভিযোগ তুলেছেন সিপিআইএম নেত্রী ঐশী ঘোষ।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিভেদের জন্য অনেক ভুয়ো খবরও ছড়ানো হচ্ছে।  বাম কর্মী-সমর্থকরা হামলার শিকার হলেও যে কোনও তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে নেবেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি বারবার বলেছে, তারা দুই শতাধিক আসনে জিতবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা পশ্চিমবঙ্গে বারবার সফর করেছেন। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রাবন্তীর মতো জনপ্রিয় একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও মাঠে নামিয়েছে। তৃণমূলের শতাধিক নেতাকে দলে বাগিয়ে নিয়েছিল।

এত কিছুর পরও নির্বাচনে জিততে পারেনি, বিভিন্ন আসনে বিশাল বিশাল ব্যবধানে হেরেছে নরেন্দ্র মোদির দল।এমনকি ২০১৯ সালে জেতা সংসদীয় আসনগুলোতেও চরমভাবে ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি। দুই শতাধিক আসনে রেকর্ড গড়ে আবারও পশ্চিমবঙ্গের মসনদে মমতার দল।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐশী ঘোষ বলেন, ‘কমপক্ষে জনমতকে সম্মান করা উচিত তৃণমূল কংগ্রেসের।  যে জনমত আপনাদের দেওয়া হয়েছে বাংলার মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য, আমাদের মানুষের ওপর হামলা চালানোর জন্য নয়। আপনাদের দলের সদস্যরা আমাদের দলীয় কার্যালয়, বাড়িতে হামলা চালাচ্ছেন। এটা বরদাস্ত করা হবে না।’

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ছাত্র আন্দোলনের অতি গুরত্বপূর্ণ নেত্রী।  এবারের নির্বাচনে তিনিও পরাজিত হন।  ১৯৭৭ সাল থেকে জামুড়িয়ায় টানা জয়ী সিপিআইএম এবার ২০২১ সালে হারলো।

জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা ঐশী ঘোষ। তার সেই ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেয়। অভিযোগ, আরএসএসের শাখা সংগঠন এবিভিপি তার ওপর হামলা করে।  ঐশীর ওপর হামলার ঘটনায় ভারতজুড়ে প্রবল আন্দোলন হয়েছিল।

এদিকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংতার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসকে তোপ দেগেছেন সিপিএআইমর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।  তিনি বলেন, এটা কোন ধরনের ‘বিজয় উৎসব?’

সোমবার টুইটারে ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক ছবি পোস্ট করে ইয়েচুরি বলেন, ‘এই ধরনের ভয়ানক হিংসা কি তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয় উৎসব? নিন্দনীয়। প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং প্রত্যাখান করা হবে। (করোনাভাইরাস) মহামারীর মোকাবিলার পরিবর্তে এরকম হাঙ্গামা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বরাবরের মতো সিপিআইএম মানুষকে রক্ষা করবে, সাহায্য করবে, ত্রাণ প্রদান করবে।’

ভোটের ফল প্রকাশের পর ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তি বজায়ের পরও পরিস্থিতির উন্নতির হয়নি।  

তৃণমূলের হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে বিজেপি।  বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক টুইটবার্তায় দাবি করেন, ‘নন্দীগ্রামের কেন্দামাড়ি গ্রামে  বিজেপির নারী কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় তৃণমূল দুষ্কৃতীরা।  নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে তাদের ওপর এভাবে নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের আসল পরিবর্তন না করে এটাই কি সাধারণ মানুষের পাওনা?’

সহিংসতা নিয়ে যা বলছে তৃণমূল কংগ্রেস

এদিকে সহিংসতার ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরিণাম বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘ফলপ্রকাশের পর ট্রোলারদের ছুটি দিতে পারত বিজেপির আইটি সেল।  প্রতিটি ঘটনাই দলের অন্তর্কলহ।  বাংলায় বিজেপির তিনটি দল রয়েছে।  পরস্পরকে তারা ঘৃণা করে।  গত ৪ মাস ধরে মো-শা (মোদি ও অমিত শাহ) এখানে এসে ঘৃণা ছড়িয়েছে।  শান্তি ও সম্প্রীতি চায় বাংলা। বিভাজন চায় বিজেপি।’

বিষেরবাঁশী .কম / ডেস্ক /রূপা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.