বৃহস্পতিবার ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ১৩ মে, ২০২১ বৃহস্পতিবার

ভারতের পশ্চিম বাংলার নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশিদের উৎসাহ!

অনলাইন ডেস্ক :–ভারতের পশ্চিম বাংলার নির্বাচনের ফলাফল কি আমাদের দেশকে প্রভাবিত করবে ? আমার অবশ্য তা’ জানা নেই । তবে আজকের প্রথম আলো পত্রিকার lead news “মমতার তৃণমূলই আবার ক্ষমতায়” সংবাদটি দেখে কেন যেন আমার মনে হচ্ছে তা’ হলে বোধ হয় ভারতের পশ্চিম বাংলার নির্বাচনের ফলাফল আমাদের দেশকে কোন না কোনভাবে প্রভাবিত করতে পারে । নইলে এমন lead news কেন ?

ভারতের পশ্চিম বাংলার মত একটি রাজ্যের নির্বাচনে কে জিতল বা কে হারল তা’ নিয়ে আমাদের আগ্রহ থাকলেও তা’ নিয়ে আমাদের এত বেশী মাথা ব্যথা থাকতে হবে বলে আমি মনে করি না । তবে এ বারের ফলাফল যে আমাদের একটি ক্ষতির সম্ভবনাকে প্রলম্বিত করল সেটি বোধ হয় নিশ্চিত করে বলা যায় । কয়েক বছর আগে তিস্তা চুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসে মমতার একগুয়েমীর কারণে তিস্তা চুক্তি করতে ব্যর্থ হন । মমতার নাকি এক কথা – পশ্চিম বাংলার মানুষকে বন্চিত করে তিস্তার জল বাংলাদেশকে দেয়া চলবে না ।

কিন্তু মমতা বোধ হয় ভুলে যান যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তিস্তার জলে বাংলাদেশেরও হিস্যা আছে ।এরপরও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে মমতার গ্রহণযোগ্যতা বেশী বলে মনে হয় । কি কারণে তা’ আমার অজানা । রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার একটি চরম নোংরা বিষয় এতে কোন সন্দেহ নেই । ভারতের বিজেপি নামক দলটি ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে যে রাজনীতি করে তা’ যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, একই রকমভাবে তৃণমূলও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করে থাকে যা তারা চাতুর্যের সাথে করে বলে সহজে দৃশ্যমান নয় সেটিও সমর্থনযোগ্য নয় ।

মমতার রাজত্বকালে কয়েকবার পশ্চিম বাংলা ভ্রমনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি বাম আমলে পাড়ায় পাড়ায় যে সিণ্ডিকেট রাজ গড়ে উঠেছিল তা’ মমতার আমলে আরো বিস্তার লাভ করেছে বলে বহু জন বলেছেন । বাম আমলে নারীদের সুরক্ষা অনেকটা নিশ্চিত হলেও তৃণমূল আমলে নারী সুরক্ষা ভূ-লুন্ঠিত হয়েছে । মমতার সোনার ছেলেদের দ্বারা বহু নারী ধর্ষিত ও নির্মমভাবে নিহত হলেও তার যথাযথ বিচার হয়ইনি, কোন কোন ক্ষেত্রে মমতা সে ধর্ষণের দায় নারীর উপরই চাপিয়েছেন বলে জানা যায় । মমতার আমলে বেকারত্ব বেড়েছে এবং নতুন শিল্প-কারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি । এ ছাড়া দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতো পূর্বের সকল নজিরকে নাকি ছাড়িয়ে গেছে ।

তাই এবারের নির্বাচনে প্রবল মমতা বিরোধী হাওয়া বইলেও বিজেপির প্রকাশ্য বা দৃশ্যমান ধর্মীয় মেরুকরণ তাদের সাফল্যের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । অন্য কোন দলও তার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি । মমতার এবারের বিজয় পশ্চিম বাংলাকে কতটা এগিয়ে দেবে তা’ ভবিষ্যতই বলবে । যদি পশ্চিম বাংলার ভবিষ্যৎ অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় তার দায় মমতাকে দিয়ে লাভ হবে না । কারণ ইতোমধ্যেই বস্তিতে বাস করা মমতার ভাইপো দৃশ্যমান কোন ব্যবসা ছাড়াই নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে বস্তি ছেড়ে কয়েক কোটি টাকা দামের escalator লাগান বাড়ীতে বসবাস শুরু করেছেন এবং কলকাতার মত শহরে ৩৫টি আবাসিক প্লটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ, মমতার অতি প্রিয় কেষ্ট ( অনুব্রত মণ্ডল ) মাগুর মাছ বিক্রেতা থেকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি হয়ে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে শুনা যায় এবং তার মুখের ভাষা ও প্রকাশ্য হুমকি শুনলে রাজনীতিকদের সম্পর্কে মানুষের মনে ভীতি ও ঘৃণার সন্চার হয় এবং মমতা দৃশ্যমান কম দামী শাড়ী ও হাওয়াই চপ্পল পড়লেও দামী iPhone ছাড়া mobile ব্যবহার করেন না বলে জানা যায় ।

এত কিছু জেনেও যারা মমতার হাতেই ক্ষমতা তুলে দেন ভবিষ্যতে তারা কোন দুর্ভোগে পড়লে তার দায় কোনভাবেই মমতাকে দেয়া যায় না । আমাদের দেশ থেকে যারা ভারত ভ্রমনে যান এবং ভারতের পরিচিত জন যারা ভারত ভ্রমন করেন তাদের সকলেরই একটি কথার মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় – ভারতের পশ্চিমের রাজ্যগুলো যেভাবে উন্নত এবং অগ্রসর হয়েছে সে তুলনায় পশ্চিম বাংলা একেবারেই পিছিয়ে আছে । এবার মমতা যদি পূর্বের ভুলগুলো শুধরে পশ্চিম বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তা’ হলে প্রমাণিত হবে যে মানুষ যথার্থ নেতৃত্ব বেছে নিয়েছেন । মমতার যে জিনিষটি সবচেয়ে দৃষ্টিকটূ তা হচ্ছে তার মুখের ভাষা এবং প্রতারণা । নন্দীগ্রামে প্রচারণার এক পর্যায়ে পায়ে আঘাত পেয়ে যে নাটক করেছেন তা’ প্রতারণার নামান্তর । অবশ্য এরূপ প্রতারণা তিনি নাকি পূর্বেও অনেক বার করেছেন বলে জানা যায় ( জ্যোতি বোসের আমলে শাড়ী-ব্লাউজ ছিড়ে পুলিশের অত্যাচারের নাটকটি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম )। তাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে ভাষায় মমতার মত একজন রাজনীতিক প্রকাশ্য জন সভায় গালিগালাজ করেছেন তা’ কোন ভদ্র সমাজে উচ্চারিত হয় না ।

তিনি যে বস্তি থেকে উঠে এসেছেন এবং বস্তির খিস্তি যে তিনি আজো ভুলেননি তা’ সবাইকে তিনি জানাতে বোধ হয় সদা ব্যস্ত । এ দেখে ভারতের পশ্চিম বাংলার মানুষের রুচিবোধ সম্পর্কে মনে প্রশ্ন জাগলে তা’ খুব একটা দোষের বলে মনে হয় না । তবে “জনতা জনার্দন” বলে যতই জনতার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হোক না কেন জনতা কিন্তু সর্বদা সঠিক রায় দেয় না – পৃথিবীর ইতিহাসে এ কথা বহু বার প্রমাণিত হয়েছে । তবু গণতন্ত্রে জনতার রায়কে শ্রদ্ধা জানাতেই হবে এবং মানতেই হবে । এত বিরূপ ধারণার মধ্যেও মমতার এবারের বিজয় নিশ্চিতভাবেই প্রবল চমক দিয়েছে এবং এ বিজয় অবশ্যই বেশী মাত্রায় অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য ।

শুভ কামনা রইল মমতার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্যে । ইতোমধ্যে খবর পাওয়া গেছে – বিজেপি অভিযোগ করেছে যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সরকারী হিসেবে ৯ জন নিহত হয়েছে যার মধ্যে ৫ জন বিজেপি কর্মী ও ৪ জন সাধারণ মানুষ । কলকাতা থেকে এক বন্ধু মেসেন্জারে জানাল যে ২৪ ঘন্টা টিভিতে বলেছে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিজেপির ৪ জন এবং তৃণমূলের ১ জন নিহত হয়েছে । বিরোধীদের অভিযোগ মতে তৃণমূল বিরোধীদের শত শত বাড়ীঘর আক্রমন করছে । এ হিংসা গণতন্ত্রের জন্যে চরম লজ্জার । সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এবং এ হিংসা বন্ধ হোক এ কামনা করি ।

বিষেরবাঁশী .কম / ডেস্ক / (অমলেন্দ্র সাহা ) /রূপা

Categories: আন্তর্জাতিক,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.