বৃহস্পতিবার ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ১৩ মে, ২০২১ বৃহস্পতিবার

প্রসঙ্গ;মুনিয়া, নাজমুল ইসলাম খানের উদ্দেশ্যে পোলক ঘটক

অনলাইন ডেস্ক:- আমরা হুদাই দেশ রুপান্তর এবং সময়ের আলো পত্রিকাকে দোষ দিচ্ছি। তাদের আগে বা পরে একই লেখা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি লেখা বলছি, রিপোর্ট বলছিনা—কারণ এটা কোনও এক জায়গায় বসে লেখা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তা বিতরণ করা হয়েছে। সঙ্গে বিতরণ করা হয়েছে টাকা। কোনো রিপোর্টার এই রিপোর্ট করেনি এবং রিপোর্ট করার জন্য কারও মন্তব্যও নেয়নি। সুতরাং রিপোর্টার সম্প্রদায়ের উপর এই অপকর্মের দায় বর্তায় না।

কোনও সহসম্পাদক বা সম্পাদনা সহকারী এই লেখা সম্পাদনা করেছেন কিনা, তাও বলতে পারিনা। দেশ রুপান্তর পত্রিকায় হেডলাইন নতুন এবং লেখার প্রথমাংশ নতুন আঙ্গিকে সাজানো। বাকিটা একই লেখা। কোনও সাব-এডিটরকে দিয়ে এটা করানো হয়েছে কিনা জানিনা। হয়তো কাউকে এই গোলামী করতে বাধ্য করা হয়েছে। ছবিগুলোও সরবরাহ করা। “পোশাকের মতই বদল” হওয়া মুনিয়ার তিনজন কথিত প্রেমিকের ছবি সরবরাহ করা হলেও বোধগম্য কারণেই তার চার নম্বর পোশাকটির ছবি সরবরাহ করা হয়নি।

তিনজনের ছবি ছাপলে আরেকটি ছবি যে বাকি থেকে যায়, এ বিষয়টিও ছাপার আগে চিন্তা করার অবকাশ পায়নি মিডিয়াগুলো। লেখাটি প্রথম প্রকাশ করা হয় কয়েকটি অখ্যাত চটি ওয়েবসাইটে। সেই লেখা গলাধকরণের পর প্রথম বমি করেছে দৈনিক দেশ রুপান্তর এবং দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ। আলোকিত বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে লেখাটি এখনো আছে, প্রকাশ হয়েছিল ২৯ এপ্রিল। পত্রিকাটির সম্পাদক কাজী রফিকুল আলম একজন পরহেজগার প্রবীণ ব্যক্তি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এনজিও আহছানিয়া মিশনের টাকায় তিনি এই পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে আছেন মাহমুদ আনোয়ার হোসেন। তাই এধরণের লেখা পাঠকদের উদ্দেশ্যে বমি করার জন্য কাকে দায়ী করব বুঝতে পারছি না। তাঁরা আমাদের শ্রদ্ধাস্পদ। একই সঙ্গে অপকর্মে যুক্ত হয়েছিল সময় টেলিভিশন।

তারা দুইরকম শিরোনামে দুইবার লেখাটি পোস্ট করেছিল। সময় টিভি গতকাল তাদের ওয়েবসাইট থেকে লেখা দুটি সরিয়েছে। আরও কয়েকটি ছোটখাট পত্রিকা বা অনলাইন সেই বমি খেয়েছে এবং উগরে দিয়েছে। এখন আমি যে নামটি বলব, তা উল্লেখ করা বিব্রতকর। শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই নাইমুল ইসলাম খানের আমাদের সময় ডট কমেও গতকাল একাধিকবার লেখাটি আপলোড হয়েছিল, এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাইম ভাইয়ের গোচরে এই লেখা প্রকাশ করা হয়েছে, তা বিশ্বাস করতে চাইনা। কারণ, গতকাল তিনি নিজেও সাংবাদিকতা রক্ষায় সাংবাদিকদের এই চলমান প্রতিবাদে শরিক হয়েছেন। তার জ্ঞাতসারে লেখাটি তার ওয়েবসাইটে আপলোড হয়ে থাকলে তিনি বুক ফুলিয়ে আমাদের সঙ্গে সোচ্চার হওয়ার কথা নয়।

নাইমুল ইসলাম খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় প্রচলিত প্রথা ভেঙ্গে অনেক প্রকার নতুনত্ব সংযোজনের সাহস দেখিয়েছেন। নাইম ভাইয়ের কাছে তাই অনুরোধ, তিনি এবার এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমি ভূমিকা নেবেন। তাঁর পত্রিকায় কিভাবে কার হাত দিয়ে এই লেখা প্রকাশ হল, তিনি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করবেন -শুধু এতটুকুই চাই। আমরা এবার আমাদের চিনে নিতে চাই। এই নতুন ধারার নেতৃত্ব দিন নাইম ভাই।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / (পোলক ঘটক )

Categories: খোলা বাতায়ন,মিডিয়া

Tags:

Leave A Reply

Your email address will not be published.