সোমবার ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ সোমবার

এক মুনিয়ার অসমাপ্ত গল্প!

অনলাইন ডেস্ক : বসুন্ধরা ট্যাগ লাগানো মুনিয়া মালির টবে থাকা একটি ‘চারা গোলাপ’ গাছের চরিত্র।টাকা দিয়ে কিনেছিল বসুন্ধরার বনিক। রাজকুমারের চোখ পড়েছে রূপসী গোলাপ চারার দিকে।মেঘ না চাইতে বৃষ্টি।খুশিতে আত্মহারা না ফোটা গোলাপের। রঙিন চশমায় নিজেকে রাঙিয়ে বিভোর মুনিয়া।বনিকের হাতের ছোঁয়া আর পরিচর্যায় মোহাবিষ্ট অল্পবয়সী রূপসী। বনিকের ভালোবাসার আলতো স্পর্শে পুলকিত সে।মালির ঘামের সাথে বনিকের দামি আতর বা পারফিউমের পার্থক্য বুঝে গেছে।বিগলিত মুনিয়া। মাটির সোঁদা গন্ধ আর ভালো লাগেনা তার। এই ভালো লাগার শেষটা জানার অভিজ্ঞতা অবশ্য ওর হয়নি।

‘মানবিক বনিক’ সরলমনা মুনিয়াকে আদর করে ফুলশয্যায় জায়গা করে দেয়। মুনিয়ার সামনে স্বর্গের হাতছানি।স্বপ্নের ডানাগুলো উঁকি মারে বারবার। চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে।বনিকের বানিজ্যিক প্রেমের অথৈ সাগরে মুনিয়ার হাবুডুবু! ঘরবাঁধার স্বপ্নে কচি বয়সে ‘পাগলমন’।লাখ টাকার স্যুটে রঙিন স্বপ্নে জীবন টালমাটাল। বসুন্ধরার অধিপতির সাথে লিভটুগেধার! চাট্টিখানি কথা? সদ্য স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে দ্বিতীয় বর্ষে।

জীবন শুরুর আগেই এতো সুখ ? ঘুমের ঘোরে খটকা;স্বপ্ন নয় তো? চোখ কচলে মিলিয়ে দেখে সবই হাতের কাছে।বিয়ে নিয়ে তাড়াহুড়ো মাথায় নেই! হোক না মধ্যবয়সী বিবাহিত প্রেমিক!তাতে কী? রাজকুমারের রাজরানী বলে কথা।সাত কপালের ভাগ্য। জীবন তো একটাই।কচিবয়সের আবেগী উচ্চাভিলাষে মুনিয়া এখন মাতোয়ারা।বনিক আকাশে পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। অনেক বড় বড় স্বপ্ন।জীবন তো একটাই। মাটির ঘরে মালির নার্সারির ফুলদানি এখন রাজকুমারের কোলদানিতে ! এতো আদর,এতো ভালোবাসা, এতো রোমাঞ্চ?এইতো জীবন। আঁচও করেনি দাসীর বেশি কিছু ভাবা তার দুঃসাহস!

আভিজাত মালির ঘরোয়া ইফতার পার্টির আগ পর্যন্ত ঠিকঠাক ই ছিল সব।বোঝার বয়স যে এখনো অনেক দূর!তা বুঝলো যখন ভ্রম কাটলো।ততোক্ষণে সব শেষ! আভিজাত মালির জালে ফেঁসে গেছে আগেই। বুঝেনি বোকা রূপসী। কেন ফেসবুকে যুগল ছবি পোষ্ট দিতে গেলে ? এ দুঃসাহসের আগে একবারও মনে হয়নি কাজটা অপরিণত মস্তিস্কের ফসল?আচ্ছা বলুন তো ভদ্র মহোদয়গণ, মুনিয়ার দোষটা কোথায়? একাধিক নাগরের সাথে প্রেম করেছে এমন তথ্যও তো নেই?প্রতারক সাহেদের ফাঁদে পা দিয়ে কতো সহজসরল মানুষ ই না সর্বশ্রান্ত হয়েছে। প্রতারিত সবার জন্য করুণার শেষ নেই। কৈ? কেউ কী এঁদের গালমন্দ করেছেন? সবাই প্রতারককেই তিরস্কার করেছে।অথচ বসুন্ধরা কাণ্ডে দেখছি মেয়েটিকে একতরফা দোষারোপ করা হচ্ছে।

মেয়েটিকে ফুঁসলে কাবু করছিল প্লেবয় রাজকুমার। এটা তো খুবই সহজ কাজ কথিত উঁচু মহলে। একটা অডিও ভাইরাল হয়েছে।’মানবিক বনিক’ ২২ বছরে মুনিয়াকে ফোনে তুইতাকারি করে শাসাচ্ছে,”পঞ্চাশ লাখ টাকা চুরি করেছিস। টাকাটা দে। নইলে পুলিশ আসছে।”ফোনের অপর প্রান্ত থেকে মুনিয়া কান্নাকাটি করে বলছে মিথ্যা কথা। কে বলেছে তোমাকে একথা। কেন আমাকে ব্লেম দিচ্ছো…?

“আচ্ছা বলুন তো-পঞ্চাশ লাখ টাকা মেয়েটি আল্গানোর ক্ষমতা রাখে? তাড়ানোর অজুহাত হতে পারে।এই অপবাদ সইতে না পেরে ভয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুনিয়া অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয়।বনিক জানতো পঞ্চাশ লাখ টাকার ভয়ে সে পালাবে।কিন্তু পালিয়েছে ঠিকই বনিকের জীবনও তছনছ করে দিয়ে গেছে!

বিষের বাঁশী/ডেস্ক / সুভাষ সাহা

Categories: blog

Leave A Reply

Your email address will not be published.