শুক্রবার ৩ বৈশাখ, ১৪২৮ ১৬ এপ্রিল, ২০২১ শুক্রবার

অস্থির খেজুরের বাজার, নজরদারির পরামর্শ ব‌্যবসায়ীদের

অনলাইন ডেস্ক:-আসছে রোজার মাস। ইতোমধ‌্যেই রোজাকেন্দ্রিক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব‌্য কেনাকাটার ধুম পড়েছে।  আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে অস্থির হয়ে উঠেছে খেজুরের দাম। প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ দামে। ক্রেতারা বলছেন, এখনই সিন্ডিকেট ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে না আনলে রোজা-নাগাদ আরও বাড়বে। আর খুচরা ব‌্যবসায়ীরা বলছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই ভ্রাম‌্যমাণ আদালের অভিযান চালাতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি জিহাদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা। বড়ই খেজুর ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকা মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়। আজওয়া খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। ম্যার্জুয়েল মরিয়ম বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়, আম্বার ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়, সুক্কারি খেজুর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, সুগাই ৫০০ থেকে ৫০০ টাকায়, সুফরি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, তিউনিসিয়ান খেজুর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, কালকি খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দুবাইয়ের দাবাস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, মুনতাজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

খেজুরের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর রোজাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে। এবারের রোজার মাসে চাহিদা রয়েছে ৩৫ হাজার টনের কিছু বেশি।

নাম প্রকাশ না করে কারওয়ান বাজারের একজন ফল বিক্রেতা বলেন, ‘আপাতত সপ্তাহখানেক খেজুরের দাম একই থাকবে। এখনো খেজুর মজুদ করছেন ব্যবসায়ীরা। সদরঘাটে দেশের বৃহৎ ফলের আড়ত বাদামতলী। সেখানে প্রতিদিনই প্রায় সব আড়তেই বস্তা ও  প্যাকেটজাত খেজুর মজুদ করা হচ্ছে। শবে বরাতের পর খেজুরের দাম কিছুটা বাড়বে, আর রমজানের শুরুর আগের সপ্তাহে দাম বাড়বে মোটাদাগে।’এজন্য এখনই নজরদারিসহ ভ্রাম‌্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর পরামর্শ দেন এই ব্যবসায়ী।

কারওয়ান বাজারের ফল বিতান ট্রেডার্সের সামনে এসেছেন ক্রেতা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সামনে রোজা। চলতি সপ্তাহে বাড়তি একদিন ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই আগে আগেই রোজার জিনিস (পণ্য) কিনছি। তবে গত বছরের তুলনায় খেজুরের দাম অনেক বেশি।’

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রোজাকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুরের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব পণ্যের মজুদ ও সরবরাহে কোনো সংকট হবে না।’

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ‘রোজাকে ঘিরে বাজারে যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ আছি। ঢাকাসহ সারাদেশে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে রোজাকেন্দ্রিক অভিযান চলবে।’ 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.