রবিবার ২২ ফাল্গুন, ১৪২৭ ৭ মার্চ, ২০২১ রবিবার

শামসুজ্জোহা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত,অবৈধ বলে দাবি হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক:- নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য  সেলিম ওসমান ও ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানে পিতা ভাষা সৈনিক শামসুজ্জোহা নামে নামাঙ্কিত বন্দর উপজেলার  মুছাপুর ইউপির  ত্রিবেনী এলাকায় অবস্থিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করেন পরিচালনা পর্ষদ। স্কুল পরিচালনা পর্ষদের  সভাপতি,  মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন নিয়ম বর্হিভুত ভাবে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করে। সভাপতি প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে বরখাস্ত অবৈধ বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই  স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থায়ী বরখাস্ত করেছিলেন পরিচালনা পর্ষদ। মোকদ্দমায় শিক্ষা বোর্ডের ডিজি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা বোর্ডের ইন্সপেক্টর, নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহ বলেন, হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি তাকে বরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু হিসাব কমিটির প্রধান জাহাঙ্গীর মাস্টারের স্কাক্ষরের পরে আমি স্বাক্ষর করেছি। আমি কোন সামগ্রী ক্রয় করেনি। সামগ্রী ম্যানেজিং কমিটি ক্রয় করে। হিসাব তাদের মধ্যে গোলমাল হতে পারে। আমি দুর্নীতি করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে অবৈধ ভাবে বরখাস্তসহ আমার বেতন ভাতা  আটক  রেখেছে। জানুয়ারি মাসেও আমার নামে এমপিও’র টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। কিন্তু ইএফটির পার্সওয়ার্ড বদল করে তারা আমার বেতন সংক্রান্ত তথ্য সিটে লিপিবদ্ধ না করে ব্যাংকে  ফেরত পাঠালে আমি আমার প্রাপ্য বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাকে স্কুল থেকে সরানোর জন্য আগে থেকেই ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। অবৈধ ভাবে বরখাস্ত করার আগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর মাস্টার ও স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি আব্বাস উদ্দিন মাস্টার আমাকে ৩ লাখ টাকা দেয়ার চেষ্টা করে।স্কুল থেকে সেচ্ছায় চলে যেতে। অনৈতিক আবদার মেনে নেইনি বলে মূলত বরখাস্ত করা হয়েছে।  বরখাস্ত অবৈধ ঘোষণা করে শিক্ষা বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এড. হুমায়ূন কবির বলেন, কোন শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্ত করার ক্ষমতা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নেই। তা আইনগত ভাবে অবৈধ এবং সরকারের আইনের অবমাননা করার সামিল। আর এ ধরনের অপরাধের জন্য অপরাধীদের আদালতে তলব করে ধিক্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।

বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান বলেন, আমি হাইকোর্টের রায়ের কাগজ পেয়েছি। শামসুজ্জোহা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে ম্যানেজিং কমিটি গায়ের জোরে অবৈধ ভাবে বরখাস্ত করে। এমপিওভূক্ত শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির অধীনে চাকুরি। তবে কোন শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্ত করতে হলে শিক্ষা বোর্ডে অনুমোদন লাগবে। যেহেতু ম্যানেজিং কমিটি নিয়ম অনুসরণ না করে শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে তাই এখন ম্যানেজিং কুিমটির উচিৎ হবে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করা। তারা হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করলে আদালত অবমাননার সামিল হবে।  তখন ম্যানেজিং কমিটিকে হাইকোর্ট তলব করতে পারে।

এ ব্যপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন বলেন, আমরা এখনো কোর্টের আদেশের কপি পাইনি। কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যদি হাইকোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে এক তরফা রায় দেয়া হয়েছে। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। তবে বরখাস্তকৃত শিক্ষকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেব না।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক এরশাদ উল্লাহকে দুর্নীতির দায়ে ম্যানেজিং কমিটি ৮৪/৮৯ এর গ্যাজেট মোতাবেক স্থায়ী বরখাস্ত করেছে। আর এ বিষয়টি এমপি সেলিম ওসমান অবগত আছেন। এরশাদ উল্লাহ’র দুর্নীতির অনেক প্রমাণ স্কুলে রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আদালতে দাখিল করবো।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / রূপা

Categories: আইন-আদালত,নারায়ণগঞ্জের খবর

Tags:

Leave A Reply

Your email address will not be published.