রবিবার ২২ ফাল্গুন, ১৪২৭ ৭ মার্চ, ২০২১ রবিবার

নবীনগরে চাঁদা দাবি ও প্রকাশ্যে গুলির অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক:-  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে এক ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় অবশেষে জেলা ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নেতার নাম ইকবাল হোসেন রাজু (৪৮)। রাজু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও নবীনগর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি নবীনগরের নরসিংহপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি নবীনগর সদরের পদ্মপাড়ায় বসবাস করেন।

নবীনগর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার সন্ধ্যায় তাকে নবীনগর বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত সাবেক ছাত্রদলের এই আলোচিত নেতার গ্রেপ্তারের খবরটি পুলিশ নিশ্চিত করার পর থেকে এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। 

জানা গেছে, নবীনগর বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী মার্সেল এক্সক্লুসিভের ডিলার রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গত বছরের ১২ মে সন্ধ্যায় মাস্কপড়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চায়। কিন্তু দাবিকৃত ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী রফিককে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পৌর শহরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যবসায়ী রফিক জুয়েল, ইয়াছিন ও আলাল নামের তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য মোহন মিয়ার ছেলে সাদেকুল ইসলামের ঘর থেকে ৪৭ রাউন্ড গুলিসহ সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত আলোচিত সেই অত্যাধুনিক রিভালবারটি উদ্ধার করে। 

কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি আগেই টের পেয়ে সাদেকুল পালিয়ে যান। তবে গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বহুল আলোচিত সেই সাদেকুলও। এর আগে এ মামলার আসামি ইয়াছিন ও আলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা এখন জেল হাজতে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি পুলিশের খাতায় থাকা ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জুয়েলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নবীনগর থানার এস আই মিশন বিশ্বাস বলেন, এ মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইকবালকে গ্রেপ্তার করেছি। এই ইকবালই এ ঘটনার ‘নাটের গুরু’ বলে বিভিন্ন তথ্যে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।ছাত্রদলের এই নেতাকে আজ আদালতে পাঠিয়ে রিমাণ্ডে আনার আবেদন করা হবে। আশা করছি, তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পরই আমরা প্রধান আসামি জুয়েলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবো।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / রূপা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,আইন-আদালত

Leave A Reply

Your email address will not be published.