শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

অশনিসংকেত

সাঈদ চৌধুরী: অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের ২৩৯টি পোশাক শিল্পকারখানার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাদের ওয়েবসাইটে চুক্তি বাতিলকৃত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ এই কারখানাগুলোর সঙ্গে তারা তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাতিল করেছে। বিল্ডিংকোড ও অন্যান্য নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের এমন সিদ্ধান্তের কারণে বেকার হয়ে পড়ছে অনেক শ্রমিক এবং অদূর ভবিষ্যতে বেকার হতে পারে আরো অনেকে। ফলে বেকার শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবিকা ও মানবিক সব চাহিদা প্রাপ্তিতে চরম ব্যাঘাত ঘটাবে এবং এভাবেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলে আসাটাও অস্বাভাবিক হবে না। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণ করতে না পারা এসব প্রতিষ্ঠান এতদিনেও কেন শর্ত পূরণ করতে পারেনি বা করেনি এবং অভিযোগগুলো আদৌ কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা কিন্তু গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা উচিত। দায়িত্বটা বিজিএমইএ ও সরকারকেই নিতে হবে। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স যে যে কোম্পানিকে তাদের চুক্তির আওতা মুক্ত করে দিয়েছে তারা বেশির ভাগই ভাড়া জায়গায় ফ্যাক্টরি করার ফলে বিল্ডিং কোড ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হয়তো অর্থনৈতিক সমস্যার কারণেও সঠিক সময়ে সব নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে পারেনি। অ্যালায়েন্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি। কারখানাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নিরাপদ কারখানার সঙ্গে ব্যবসা চলমান থাকবে। কিন্তু শ্রমিকের জন্য কোনো অনিরাপদ কারখানার সঙ্গে অ্যালায়েন্সভুক্ত কোনো সদস্য ব্যবসা না করার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এসব কারখানা কাক্সিক্ষত নিরাপত্তামানে উন্নীত হতে পারেনি। কারখানা মালিক তা সংস্কারে অনাগ্রহী বা সমর্থ নন। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব কারখানা আর আমাদের সরবরাহ চেইনে থাকতে পারছে না। সরকারের এখন দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো সঠিক বিল্ডিংকোড মেনে এবং শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে না, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনে আমাদের দেশীয় অডিটিং সিস্টেম এবং করণীয় সম্পর্কে টিম তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এক্ষেত্রে সরকার অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট জায়গায় শিল্প নগরী দ্রুত স্থাপন করে অভিযোগকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সেখানে পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দেওয়াপূর্বক ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার পথ বের করে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। যদি ঋণ দিলে কোম্পানিগুলো নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারে, তবে সরকার তাও করতে পারে। যেকোনো মূল্যে পোশাক খাতের অগ্রযাত্রা বহমান রাখতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স সবক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি না সেটাও সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি করা প্রয়োজন। শ্রমিক নিরাপত্তায় অনেক ফ্যাক্টরিই এখন বাংলাদেশে বিশ্বমানের এবং কোনো কোনো ফ্যাক্টরি বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আধুনিক। এগুলো আমাদের জন্য ইতিবাচক হওয়ার পরও এতগুলো ফ্যাক্টরির সঙ্গে চুক্তি বাতিল সত্যিই হতাশাজনক। বিজিএমইএ পোশাক খাত বাঁচাতে যেকোনো পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস। সাধারণ শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়লে অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। প্রয়োজনে ভিন্ন বাজার খোঁজাও সমাধান হতে পারে। বিশ্বে পোশাক উৎপাদনে সর্ববৃহৎ দেশগুলোর মধ্যে একটি হলে আমরাও অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মতো গুণগত মান নির্ণয়ক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারি বা করা উচিত বলে মনে করি। আমাদের শিল্প মালিকরা সে পথেই হাঁটবেন—এটাই প্রত্যাশা।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.