শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

সব শেষ হইয়্যা গেছে, পথের ফকির হইয়্যা গেছি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: সব শেষ হইয়্যা গেছে। পথের ফকির হইয়্যা গেছি! একটা সুতা বের করার টাইম পাইনি। বাচ্চাটা কোলে নিয়ে দৌড়ে বাইর হইয়্যা পড়ছি। শ্যাষ সব শ্যাষ!’

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে ইলিয়াস মোল্লার বস্তিতে পুড়ে যাওয়া নিজের ঘরের স্তুপে শেষ সম্বল খুঁজতে খুঁজতে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিঃস্ব হয়ে যাওয়া আকলিমা।

শুধু আকলিমার নয়, হাজার ঘর পুড়ে যাওয়া ইলিয়াস মোল্লার বস্তি জুড়ে সোমবার (মার্চ ১২) সকালে ছিল শুধুই আহাজারি ও আর্তনাদ। আগুনে একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই পুড়ে গেছে বস্তিবাসীর।

মিরপুর ১২ নম্বরের এই বস্তিতে ভোর চারটার দিকে আগুন লাগে। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল পৌনে ৮টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে হাজারো ঘর পুড়ে নিঃস্ব হয়েছে বস্তিবাসী।

দুইটা ঘর নিয়ে শেফালী ১০ বছর ধরে এ বস্তিতে বাস করেন। তিল তিল করে জমানো টাকায় সাজিয়েছিলেন ঘর। পরনের পোষাক ছাড়া কিছুই বাঁচাতে পারেননি।

শেফালী বলেন, প্রথমে ভাবছিলাম স্বপ্ন দেখছি। একটু পরেই আগুন আগুন বলে চিল্লা-চিল্লি। আমি বাচ্চা নিয়ে দৌড়ে বের হই। কিছুই বের করতে পারি নাই। ক্যান্টনমেন্ট এক স্যারের বাসায় কাজ করি। আমাকে অনেক কিছু দেয় সব পুড়ে শ্যাষ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী।

আকলিমা-শেফালীর মতো আগুনে নিঃস্ব হয়েছে খোরশেদ। মুদি ব্যবসায়ী খোরশেদের ঘরে জমানো কিছু টাকাও ছিল পুড়ে শেষ হয়েছে সে সম্বল।

খোরশেদ বলেন, সব শেষ, কিছু জমানো টাকা ছিলো তাও পুইড়্যা গেল, এখন কি নিয়ে বাঁচমো। রাস্তায় থাকন ছাড়া কোনো উপায় নাই।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.