শনিবার ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ ২৩ জুন, ২০১৮ শনিবার

মুশফিকের অবিশ্বাস্য বীরত্বে ইতিহাস কাঁপানো জয়

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: বাংলাদেশ কেনো ২০০ রান করতে পারে না? নিদাহাস ট্রফি খেলতে দেশ ছাড়ার আগে এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন সৌম্য সরকার। তখন তিনি বলেছিলেন, হয়ে যাবে! সত্যিই হয়ে গেলো এবং টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ২০০ হওয়ার দিনে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে হারিয়ে দিলো শ্রীলঙ্কাকে। সেটাও এমন এক জয়, যা বহুদিন মনে থাকবে দর্শকদের।
কন্ডিশন বৃষ্টিভেজা ছিলো মাহমুদুল্লাহ টস জিতে নেন বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত। কিন্তু বোলাররা এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এবং শ্রীলঙ্কা তুলে ফেলে ২১৪ রান। যা প্রেমাদাসার সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ২১৫ রানের লক্ষ্য, অর্থাৎ ওভার প্রতি অবিশ্বাস্য স্ট্রাইকরেটে (১০.৭৫) রান তোলার চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েন তামিম-মুশফিকরা।

চ্যালেঞ্জটা কমিয়ে দেন দুই তামিম ও ওপেন করতে নামা লিটন দাস। তারা ৫.৫ ওভারে ৭৪ রান করে বাংলাদেশকে এনে দেন জয়ের ভিত্তি। লিটন ১৯ বলে বলে ৪৩ রান করে দেন তিনি। তার ব্যাটেই ভিত্তিটা পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
পরের কাজটা এগিয়ে নিতে থাকেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য। আগের ম্যাচে স্লো ব্যাটিং করে বিরক্তির উদ্রেক করা তামিম এদিন খেলতে থাকেন তার চেনা রূপে। ২৯ বলে ৪৭ রান করে যান তিনি। যা জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকে বাংলাদেশকে। ১৫১ রানে গিয়ে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর জুটি গড়েন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেন ৪২ রান, মাত্র ২০ বলে। ১৯৩ রানে গিয়ে এই জুটি ভাঙে। দুসমন্ত চামিরার বলে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদুল্লাহ। অন্য প্রান্তে হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন মুশফিক। তার সঙ্গে জুটি বাধেন সাব্বির রহমান।

শেষ দুই ওভারে বাংলাদশের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৯ রান। ১৮তম ওভারের প্রথম চার বলে আসে তিন রান। এর মধ্যে নির্বোধের মতো দৌড় দিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন সাব্বির রহমান এবং বাংলাদেশ পড়ে যায় আকাশসমান চাপে। পঞ্চম বলে ছয় মেরে পরিস্থিতি সামাল দেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে ব্যাটিং করতে থাকা মুশফিক। ১৯তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে শেষ ওভারে নিজের স্ট্রাইক ধরে রাখেন মুশফিক। শেষ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় নয় রান।

বল হাতে আসেন থিসারা পেরেরা। প্রথম বলে দুই রান নেন মুশফিক। দ্বিতীয় বলে অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার দিয়ে চার মেরে দেন তিনি। চার বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন দাঁড়ায় তিন রান। তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে স্কোর সমান করেন মুশফিক। পরের বলে এক রান নিয়ে গড়েন ইতিহাস গড়া জয়ের অবিশ্বাস্য নজির। মুশফিক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৭২ রান করে। বাংলাদেশ জিতে যায় পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান করে শ্রীলঙ্কা। দুই কুসাল, মেন্ডিস ও পেরেরার অসাধারণ দুটি ইনিংসে ভর করে ২১৪ রান তুলে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে বেশি রান করতে পারেনি কেউ। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসেই ইতিহাস গড়ে ফেলে তারা। সঙ্গে বাংলাদেশের সামনেও ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসে হতাশ করেন বাংলাদেশের পেসাররা। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন মিলে ১১ ওভারে খরচ করে ফেলেন ১৩৩ রান! এর মধ্যে তারা নিতে পারেন মাত্র চার উইকেট। তিনটিই নেন মোস্তাফিজ। তিন উইকেট নিতে মোস্তাফিজ খরচ করেন ৪৮ রান। টি-টোয়েন্টিতে এতো বেশি রান কখনোই দেননি তিনি। রুবেল দেন ৪৫ রান এবং তিন ওভারে ৪০ রান দেন তাসকিন।

বোলারদের এই রকম পারফরম আরো একটা হতাশার গল্পের জন্যই প্রস্তুত করে তুলেছিলো সমর্থকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোলারদের আক্ষেপে ভরা পারফর্ম্যান্সকে ভুলিয়ে দিলেন মুশফিকরা। অসাধারণ জয়ে তৈরি হলো দুর্দান্ত ইতিহাস এবং যে ইতিহাসের নায়কের নাম অবশ্যই মুশফিকুর রহিম!

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: খেলাধূলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.