বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

আমার স্মৃতির আয়নায় গোস্বামী স্যার

cc3f439eee3b88ca4e7c9092a5753c66-595745e96d0f1

      সুভাষ সাহা: বিশিষ্ট সংগীত গবেষক করুনাময় গোস্বামী আর নেই। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১২ টায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। স্যারের শবদেহ শমরিতা হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষিকা চিত্রা দেবীও গুরুতর অসুস্থ বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষাগুরু ড.করুনাময় গোস্বামী সত্তরের দশকে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজে আমার ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। সুদীর্ঘকাল তোলারাম কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ,হরগঙ্গা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামখ্যাত কলেজে সুনামের সাথে অধ্যক্ষের আসন অলংকৃত করে জীবনের শেষসময়ে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজের অধ্যক্ষ্য হিসেবে নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখেন। শিক্ষকতা ছাড়াও নজরুল গবেষক ড.গোস্বামী ছিলেন একজন সুকণ্ঠী রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী। অতুল প্রসাদের গানও তিনি নিবিড়ভাবে চর্চা করতেন। জীবনের সিংহভাগ সময় নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ছিলেন স্বর্গীয় ড.করুনাময় গোস্বামী। ক্ষণজন্মা এই জ্ঞানতাপসের প্রয়াণের খবরে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আমৃত্যু নিবেদিত প্রাণ আমাদের পরমপ্রিয় শিক্ষাগুরু ড.করুনাময় গোস্বামীর নাম নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

19553891_1421129247978286_3505509053693233530_n
ছবিতে ২০১০ সালে বিষেরবাঁশী সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীজনদের মাঝখানে প্রধান অতিথি বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের বাঁ পাশে প্রয়াতঃ ড.করুনাময় গোস্বামী,মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী,প্রয়াতঃমাহবুব কামরান,কুতুবউদ্দিন আকসির, বিষেরবাঁশীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাজী কবীর /প্রধান অতিথির বাঁ পাশে বিশেষ অতিথি বারডেম হাসপাতালের প্রধান কনসালটেন্ট ভাষা সৈনিক প্রফেসর মির্জা মাজহারুল ইসলাম,সম্মননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক আজিজুল হক,বিষেরবাঁশী সম্পাদক সুভাষ সাহা,সম্মাননাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ইসহাক, বিশেষ অতিথি সাংবাদিক আনিসুর রহমান

আমার সঙ্গীত চর্চায় স্যারের অনুপ্রেরণা আমাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছিল। স্যার নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিচারকের আসন অলংকৃত করেছেন। আমার ছাত্রজীবনে ও পরে দু’টি নজরুলগীতি প্রতিযোগিতায় স্যারের বিচারে আমি প্রথম পুরস্কার লাভ করেছিলাম। আমার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক বিষেরবাঁশী পত্রিকার প্রথম প্রথম সংখ্যায় স্যার নজরুলের বিষেরবাঁশী নামকরণ নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা উপহার দিয়ে আমাকে গভীর কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেন। স্যারের ঋণ লিখে শেষ করা অসাধ্য।
তবে,২০১০ সালে বিষেরবাঁশী গুণীজন সংবর্ধনা স্মারক স্যারের হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য করতে পেরেছি।
আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসে স্যার খুশী হয়েছিলেন এটুকু অনুধাবন করতে পেরেছি। স্যার আমার বিষেরবাশী সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করে আমাকে যে সম্মানিত করেছেন তা আজীবন আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকবে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে একই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের ৮ গুণীজনকে বিষেরবাশী সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল তাঁরা হলেন: মরনোত্তর অধ্যক্ষ খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, প্রয়াতঃ শিক্ষিকা হেনা দাস, প্রয়াতঃড.করুনাময় গোস্বামী, প্রয়াতঃসাংবাদিক আজিজুল হক, মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াতঃ মহবুব কামরান,মোহাম্মদ ইসহাক,ক্রীড়াব্যক্তিত্ব কুতুবউদ্দিন আকসির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি কাজী এবাদুল হক। (ফাইল ছবি)
আমার শিক্ষাগুরু ড.করুনাময় গোস্বামী একুশে পদক,বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ আরো অনেক সম্মাননা ও পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য,স্যারের ছেলে সায়ন্ত গোস্বামী এখন কানাডায় এবং মেয়ে তিথি গোস্বামী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ছেলে মেয়ে দেশে আসার পর প্রযাতঃ ড.করুনাময় গোস্বামী স্যারের শেষকৃত্যের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

বিষেরবাঁশী.কম/এস.এস/নিঃতঃ

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.