বুধবার ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২১ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

নির্বাচনের বিকল্প নেই বিএনপির

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে সহায়ক বা অন্য কোনো ফর্মুলার সরকার গঠন না হলেও দলটিকে নির্বাচনের পথেই থাকতে হচ্ছে। সেই নির্বাচন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও বিএনপির করার কিছু থাকবে না বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিই দলটিকে ভোটের পথে টেনে নিয়ে যাবে। বিএনপির একটি কট্টরপন্থি অংশ বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ডও নির্বাচনের পক্ষেই সায় দিতে পারে।

তবে দলটির নেতাদের ভাষ্য, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে দলটি আপাতত ব্যস্ত থাকলেও আইনি মোকাবিলায় খালেদা জিয়াকে বের করে আনতে চায়। আর খালেদার মুক্তির আন্দোলনই হবে দলের জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি। তবে চেয়ারপারসন নির্বাচনে অযোগ্য হলে ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যাবে না বলে যে দাবি তোলা হচ্ছে তা শুধুই সময়ের প্রয়োজনে বলা। নির্বাচন প্রশ্নে এখনই চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি। তাই আপাতত দাবি-দাওয়ার মধ্যেই রাজনীতি সীমিত রাখতে চান তারা।

এদিকে, পুলিশের ধরপাকড়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে ঠিকে থাকা নিয়ে দলেই সংশয় আছে। বিএনপির দুই প্রধানের বাইরে দলের একাধিক সিনিয়র নেতাও আটক হতে পারেন। তখন মাঠের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। নেতারা মনে করেন, সরকার আইন-আদালতকে ব্যবহার করে আগামী নির্বাচনে ওয়ার্ক ওভার পাওয়ার যে নীলনকশা করছে তাতে দল হিসেবে বিএনপির করার কিছুই থাকবে না। তাই বিএনপি নির্বাচন প্রশ্নে এখনই সিদ্ধান্তে আসবে না। দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য মনে করেন, খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাছাড়া সহায়ক সরকারের দাবিতে মাঠে আছে দলটি। সেই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যাওয়া বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে গিয়ে সরকারকে বৈধতা দেওয়ার থেকে না যাওয়াই ভালো। তিনি মনে করেন, দেশে এক দলের শাসন চলছে একটি অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে। গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে তারা আবারও সেই পথেই আছে। এভাবে চললে এটা শুধু বিএনপির ক্ষতি নয়, সামগ্রিকভাবে দেশেরই ক্ষতি। এটা দেশের সব পক্ষকে বুঝতে হবে। এখানে বিএনপির কথা পরিষ্কার যে, সরকার একটি যেনতেন মামলায় আমাদের দলের চেয়ারপারসনকে জেলে রেখেছে, সিনিয়র নেতাদের আবারও জেলে নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে, এ অবস্থায় দলের কিছু হারাবার নেই। সরকারকে বৈধতা দিতে অবশ্যই বর্তমান কাঠামোতে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে দলটির মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা অবশ্য এখনো হয়নি। তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ায় দলটির সামনে কী করণীয়, সে আলোচনা অনানুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসছে। বিএনপি নেতাদের শঙ্কা, শেষ পর্যন্ত জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিললেও আইনগত মারপ্যাঁচে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য গণ্য করা হতে পারে। বিএনপি নেতারা এমন অভিযোগ প্রকাশ্যেই করছেন। আর আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন বলছে, বিষয়টি যা করার তা আদালতই করবেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকার যে আইন-আদালত ব্যবহার করছে তাতে সন্দেহ নেই। সরকারের তত্ত্বাবধানে চলা এসব আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি শঙ্কিত নয়। সরকার আবারও একটি ভুয়া নির্বাচন করার জন্য প্রকৃত কোনো বিরোধী দল দাঁড়াতে দেবে না। এমন উপলব্ধি বিএনপির আছে। কিন্তু আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় থাকব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বাইরে রেখে দলটি নির্বাচনে যাবে কি না, তা এখনো বলার সময় আসেনি। তবে তারা যে দাবি দাওয়া নিয়ে মাঠে আছে সেটি আদায় করার মতো সাংগঠনিক শক্তি সামর্থ্য বিএনপির আছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থায় বিএনপির সিদ্ধান্ত কি হবে তাই দেখার বিষয়। তবে, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হলে এবং সহায়ক সরকারের দাবি আদায় না হলে বিএনপি আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে নেগেটিভ চিন্তা করতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, অচিরেই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তিলাভ করবেন। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। তাকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তাতে, শেষটা শোনার জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। তবে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.