বুধবার ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২১ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

সংস্কার ও উন্নয়নে বিকল্প ব্যবস্থায় সঞ্চালন অব্যাহত রাখার দাবি-ক্যাব চট্টগ্রাম

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: প্রতি শুক্রবারে পত্রিকায় বড় করে বিজ্ঞাপন শনিবার কোন কোন স্থানে বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও লাইন সংস্কারের জন্য প্রতি শনিবার দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। সংস্কারের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ থাকতে পারে এটি স্বাভাবিক হলেও নগরীতে প্রতি শনিবার এমনকি মাঝে মাঝে শুক্রবারও এ ধরণের সংস্কারের কথা বলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ থাকার ঘটনা এখন নিত্যদিনকার রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। যার কারনে শনিবার সরকারী ছুটির দিন বন্ধ হলেও এটি এখন আতঙ্কে পরিনত হয়েছে। নগরীর দোকানপাট থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক শপিংমলের ব্যবসায়ী ও গার্মেন্ট মালিক, অফিস, বাসা-বাড়ীতে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন । আর এজন্য তাদের গুনতে হচ্ছে বিপুল বাড়তি জ্বালানির খরচ। সপ্তাহ ঘুরে শনিবার এলেই পুরোদিন বিদ্যুৎবিহীন কাটানোর প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। সরকার একদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে কিন্তু প্রতি পদে পদে এ ধরনের ভোগান্তি কোন ভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধে প্রিপেইডড মিটারে ব্যবস্থাপনায় নানা ত্রুটির কারনে প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রক্রিয়াটিও গ্রাহক ভোগান্তির নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম। নগরীতে বিদ্যুত বিভাগের শনিবার আতঙ্কে প্রতি শনিবারে বিদ্যুৎ বিহীন দিবস উযাপনের কারনে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ এ অভিাযোগ করেন। তাই বিদ্যুত লাইনের সংস্কার ও উন্নয়নের আগে বিকল্প ব্যবস্থা নির্ধারন করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন জ্বালানীর চাহিদা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, যা সংবিধান স্বীকৃত। সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানীর মূল্য প্রতিনিয়তই বাড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেবার মান বাড়ানো, গ্রাহক ভোকান্তি নিরসন বা নিরবিছিন্ন সেবা প্রদানের পরিবর্তে প্রতি শনিবারে দীর্ঘক্ষন বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে জনগনবে বাধ্য করার ঘটনা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করার সামিল।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন ক্যাব সব সময় উন্নয়ন বা সংস্কার কার্যক্রমে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তরগুলি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে না। কারন কোন প্রকার পুর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই সংস্কার বা উন্নয়নের নামে অত্যাবশ্যকীয় সেবা দীর্ঘক্ষন বন্ধ রাখা হচ্ছে। যাতে করে ভোক্তারা বিশেষ করে রূপ্তানী নির্ভর গামেন্টস ও অন্যান্য শিল্প, দোকান পাট, অত্যাধুনিক শপিংমল, এপার্টমেন্ট ও বাসা বাড়ীতে বিকল্প বিদ্যুৎ সঞ্চালন রাখতে গিয়ে মোট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি হলেও বিদ্যুতের দীর্ঘসময় অনুপস্থিতি পুরো ব্যবস্থাকে থমকে দিচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিদ্যুত বিভাগ প্রতিনিয়তই দাবি করছে লোড শেডিং নাই। কিন্তু সাট-ড্উান, সাব স্টেশন, ও লাইনের সংস্কার ইত্যাদি নামে প্রতিদিন অনেক দীর্ঘ সময় বিদ্যুত বিহীন থাকতে হচ্ছে। যখনই বিদ্যুত সঞ্চালন বন্ধ থাকছে, তখনই জেনারেটর দিয়ে বিকল্প জ্বালানী সঞ্চালন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। যার কারনে গ্রাহকরা একদিকে যেমন বিদ্যুতের বেশী মূল্য দিচ্ছে, তেমনি বিকল্প জ্বালানীর জন্য মোটা অঙ্কের মাশুল গুনতে হচ্ছে। যা কোন ভাবে কাম্য নয়। আর শনিবারে সরকারী অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও অন্যান্য বেসরকারী অফিস ও শিল্প, কলকারখানা, শপিংমল, বিনোদন পার্ক, দোকান পাট খোলা থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষন বিদ্যুত না থাকায় এ সমস্ত জায়গায় ভোক্তারা দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন সরকার ভোক্তাদেরকে আধুনিক সুবিধা প্রদানের জন্য প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের জন্য প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেও প্রে-পেইড মিটার রিচার্জ করতেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার চার্জ, সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন নামে পুরো টাকাই কেটে নেয়া হচ্ছে। আবার রিচার্জ কার্ডের বিশাল অংকের কোড নাম্বার একটু ভুল হলেই ১৫ শত টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে। বিষয়গুলি কোন ভাবেই ভোক্তা বান্ধব নয়। মিটার স্থাপন ও রক্ষনাবেক্ষনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলির দায়সারা সেবা প্রদানের কারনে ভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুত বিভাগের লোকজনও যথাযথ নজরদারি করছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে না। তাই প্রে-পেইড মিটার স্থাপন ও রক্ষনাবেক্ষন সেবাকে আরও ভোক্তা বান্ধব করতে হবে এবং বিভিন্ন সেবার নামে জনগনের অর্থ হাতিয়ে নেবার প্রবণতা বন্ধ না করলে জনগন এ ব্যবস্থার সেবা উপভোগ করতে পারবে না।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, প্রমুখ।

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.