শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

জীবন বাঁচাতে অন্ন, সাজাতে দরকার বস্ত্র

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: জীবন বাঁচাতে অন্ন। জীবন সাজাতে বস্ত্র। কেউ অন্ন বেচে জীবন সাজাচ্ছে। কেউ বস্ত্র বেচে জীবন বাঁচাচ্ছে। ‘বৃত্তি’ বলে কথা! জীবনের বিশুদ্ধ বাঁচা ও উন্নত সাজার পসরা সাজাতে গিয়ে আবির্ভূত সুতা ও বস্ত্র। কালক্রমে পরিণতি পেয়ে হয় ‘শিল্প’। খাদ্য শিল্প ও বস্ত্র শিল্পের জন্য আমাদের সরকারেরও আছে পৃথক মন্ত্রণালয়। আজ আমরা শিল্পিত অন্ন ও বস্ত্রে কৃতার্থ।

বস্ত্র শিল্পের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘সুতা’। কালক্রমে বস্ত্রের পাশাপাশি সুতা-শিল্পও বিকশিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এখন সুতা শিল্পে। এ বছরের ‘বিশ্ব সুতা সম্মেলন’ Global Cotton Summit বাংলাদেশে হচ্ছে। অতিথি বক্তা নাহলে আমারও জানা হতোনা।

সভ্যতার বিকাশ বস্ত্রবসনে। বস্ত্র সুতাজাত। সুতা নাহলে কিছু হতোনা! তাই, জীবনের সৌন্দর্যে সুতা। জীবনের সৌকর্যে সুতা। জীবন রাঙ্গাতে সুতা। জীবন সাজাতে সুতা। জীবনের আগমনে সুতায় বরণ। জীবনের প্রবাহে সুতায় অবস্থান। জীবনের অবসানে সুতায় নির্গমন। হয়তো জীবন-মাহাত্ম্য গেয়েই এবারের বিশ্ব সুতা সম্মেলনের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে Cotton for Better life…. ‘উন্নততর জীবনের তরে সুতা’।

সুতির তৈরি কাপড় আমাদের প্রথম পছন্দ। বৃহত্তর পরিসরে সকল কৃত্রিম তন্তু ‘সুতা’ হিসেবে গণ্য হলেও প্রাকৃতিক তুলাজাত সুতির তৈরি কাপড় জীবনকে আসলেই আরামদায়ক করে। সুতা ও সুতা শিল্পে সম্পৃক্ত সবার সুখ ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা আমরা করতেই পারি।

সুতা শিল্পের বিস্তার ও সমৃদ্ধির জন্য দেশে কাজ করছে ‘বিসিএ- বাংলাদেশ কটন এসোসিয়েন’ বিটিএমএ-বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েন। আলোচ্য গ্লোবাল কটন সামিট ২০১৮ এর আয়োজক বিসিএ ও বিটিএমএও।

২০২১ সালের মধ্য ৭.৭মিলিয়ন বেল সুতা আমদানির লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি দেশের সুতা শিল্পে বিরাজমান বৈশ্বিক উত্তমাচার ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা তুলে ধরা এ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ছাড়া, সুতা শিল্পের বিশ্ববিখ্যাত আন্তর্জাতিক বণিকদের সাথে দেশের সুতা উৎপাদক, পরিবেশক, স্পিনারস, এজেন্টস, নিয়ন্ত্রক ও সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের সাথে পরিচিতি ও সংযোগসাধন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদিন ধরে আয়োজিত সম্মেলনের শেষ দিনে আজ বক্তা হিসেবে যোগ দিলাম। দেশী বিদেশী বহু সংখ্যক প্রতিনিধির সামনে কথা বলতে হলো। ‘ল্যান্ড কাস্টমস ফরমালিটিস’ বিষয় হলেও এমন সামিটের মঞ্চে এই প্রথম কথা বলা। সময় পেলে আরো ভালো করা যেত।

একবার মনে হয়েছে সম্মেলনে যেতেই পারব না। সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নাম, ছবি ভাসছে দেখে অন্য ব্যস্ততা গুটিয়ে তৈরি হয়ে গেলাম। আন্তর্জাতিক এমন একটি সম্মেলনে বক্তা হতে পারা গৌরবের!

ধন্যবাদ অনুজ প্রতিম পাভেল Pavel Hossain, সেক্রেটারি জেনারেল ও রোটারিয়ান আইয়ুব ভাই, সাবেক সভাপতি বিসিএ ও চেয়ারম্যান গ্লোবাল কটন সামিট ২০১৮! আপনাদের মাধ্যমে সম্মেলনে বর্ণাঢ্য ও আড়ম্বরপূর্ণ এ আয়োজনে সম্পৃক্ত উভয় সমিতির সকল নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। আপনাদের পরবর্তী দাওয়াতও কবুল করলাম। আরো উৎকৃষ্টতর ও উদ্বুদ্ধকর নৈবেদ্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

আপনাদের হাত ধরে এ দেশের ‘সুতা শিল্প’ সমৃদ্ধির উৎকর্ষে আসীন হোক। সুস্মিত শুভকামনা, সম্মেলনে যোগদানকরী দেশী বিদেশী সকল অংশগ্রহণকারী ও অংশীজনকে।

কেবল জীবনের প্রারম্ভে ও জীবনের সায়াহ্ণে নয়, জীবনের সকল মন্থনে ‘সুতা’র জগৎ সুতানময় ও বর্ণিল হোক। সুতার স্বপ্নাচারীদের স্বপ্নভূবন অনিন্দ্য ভরপুর থাকুক। সোনার বাংলা সুতার বৈশ্বিক আদর্শ ও উত্তমাচারের আলোকময় ‘সুতিকাগার’ হয়ে উঠুক।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অর্থনীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.