শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

না’গঞ্জে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

হার্ট এ্যাটাকের পর জরুরী সুচিকিৎসার অভাবে নারায়ণগঞ্জে অকালে ঝরে পড়ছে অগণিত প্রাণ। নারায়ণগঞ্জে ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে উঠা একমাত্র নামসর্বস্ব ‘ইসলাম হার্ট সেন্টারে সুচিকিৎসার অভাবে অথবা ঢাকায় নেয়ার পথে যানজটে আটকে স্বজনদের চোখের সামনেই বীনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন কতো জানা অজানা লোক তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। নিরুপায় স্বজনরা ঝুঁকি সত্ত্বেও জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জে একমাত্র অবলম্বন ‘ইসলাম হার্ট সেন্টারেই ভীড় করেন’। দুই একজন অনভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল এই ‘ইসলাম হার্ট সেন্টারকে” আশ্রয় করে অঘটনের শিকার আশংকাজনক হারে বাড়ছে বলে ভূক্তভোগিরা জানান।। যার সর্বশেষ নজির নারায়ণগঞ্জ কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, অপচিকিৎসায় নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সরকারী তোলারাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জীবন কানাই চক্রবর্তীর ছেলে মেধাবী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তীর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে স্থানীয় একটি সহযোগী অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরের শিরোনাম,”ভুল চিকিৎসায় না ফেরার দেশে নারায়ণগঞ্জ কলেজের স্বপন স্যার”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,’ভুল চিকিৎসার কারণে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নারায়ণগঞ্জ কলেজের মেধাবী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী। গত ২৪ জুন শনিবার রাতে সহকর্মী একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসিরউদ্দিনের বাসায় অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে ইফতার করার সময় হার্ট এ্যাটাক হলে স্বপন চক্রবর্তীকে রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় বালুর মাঠ এলাকায় অবস্থিত ‘ইসলাম হার্ট সেন্টারে’ নেয়া হয়। সেখানে হার্ট সেন্টারটির মালিক ডা.নুরুল ইসলাম স্বপন চক্রবর্তীকে ৫০০০ টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশান পুশ করে শুইয়ে রাখেন। তারপর ডা.নুরুল ইসলাম ‘আউট অব ডেঞ্জার’ বলে উপস্থিত স্বজনদের আশ্বস্থ করেন।কিছুক্ষণ পর রোগীকে সুপ খাওয়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানান। রাত দশটার দিকে ডা.নুরুল ইসলাম উপস্থিত সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও অন্যান্য স্বজনদের আবারো ব্রিফিং করে জানান,’স্বপন চক্রবর্তী সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছেন।আপনাদের কারো রাতে এখানে অপেক্ষা দরকার নেই। রোগী এখন ঘুমোচ্ছেন।’

এদিকে রাত ১১ টার দিকে স্বপন চক্রবর্তীর বন্ধু সাংবাদিক আঃ সালাম আইসিইউতে গিয়ে দেখেন একজন জুনিয়র ডাক্তার স্বপন চক্রবর্তীর শরীরে পাঞ্চ করছেন।এসময় রোগীর প্রেসার ৬০ এর নিচে নেমে যাচ্ছিল।পেট ফুলে গেছে। জুনিয়র ডাক্তার হার্ট সেন্টারের মালিক ডা.নুরুল ইসলামকে কল করেন। ডা.নুরুল ইসলাম অবস্থার অবনতি ও বেগতিক দেখে স্বপন চক্রবর্তীকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ততক্ষণে সব শেষ। রাত প্রায় ১২ টার দিকে সবাইকে কাঁদিয়ে স্বপন চক্রবর্তী চিরকালের মতো বিদায় নেন।

স্বজনদের অভিযোগ,’ইসলাম হার্ট সেন্টারে টানা প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দেয়া হয়েছে।আরো অনেক আগেই স্বপন চক্রবর্তীকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য বলা হলেও ডা.নুরুল ইসলাম গুরুত্ব দেননি। এ মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না’।

  • না’গঞ্জে টাকা উড়ে : নেই হৃদরোগ হাসপাতাল

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে ৩০০ ও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক দু’টি সরকারী হাসপাতল থাকলেও এখানে নেই কোন বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসা ইউনিট বা পৃথক কোন হৃদরোগ হাসপাতাল। ফলে, হার্ট এ্যাটাকের পর জরুরী চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেযেছে। হৃদরোগে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এ মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জের দুটি সরকারী হাসপাতালে জরঁরী ভিত্তিতে বিশেষায়িত হৃদরোগ ইউনিট প্রতিষ্ঠা জরুরী। সেইসঙ্গে সরকারী অথবা বেসরকারি উদ্যোগে ন্যুনতম ২০০শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত একটি হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের দাবী নারায়ণগঞ্জবাসীর।

  • স্থানীয় সহযোগী অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরটি তুলে ধরা হলো

গত ২৪ জুন শনিবার রাতে প্রয়াত স্বপন চক্রবর্তীর সহকর্মী একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসিরের বাসায় অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে ইফতার করার সময় হার্ট এ্যাটাক হলে তাকে রাত আটটার দিকে বালুর মাঠ এলাকার অবস্থিত ইসলাম হার্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর ইসলাম হার্ট সেন্টারের মালিক ডা. নুরুল ইসলাম তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করে শুয়ে রাখে।

স্বপন চক্রবর্তীর পরিবার এবং সহকর্মীদের অভিযোগ, ২২শ টাকার ইনজেকশনের দাম তাদের কাছ থেকে ৫হাজার টাকা রাখা হয়। ক্লিনিকে উপস্থিত সহকর্মীদের এসময় ডা. নুরুল ইসলাম জানান স্বপন চক্রবর্তী আউট অব ডেনজার। তাকে স্যুপ খাওয়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্র্তী সরকারী তোলারাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জীবন কানাই চক্রবর্তীর ছেলে।

এদিকে রাত দশটায় অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তীর বন্ধুরা তাকে দেখতে গেলে ডাঃ নুরুল ইসলাম তাদের সামনে ব্রিফিং করে  জানান, স্বপন চক্রবর্র্তী সম্পূর্ন সুস্থ্য আছে। আপনাদের কারো রাতে অপেক্ষা করার দরকার নেই। সে এখন ঘুমাচ্ছে। রাত এগারটার দিকে স্বপন চক্রবর্তীর বন্ধু ও নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম ইসলাম হার্ট সেন্টারের আইসিইউতে দেখতে গেলে তিনি দেখেন একজন জুনিয়র ডাক্তার স্বপন চক্রবর্তীর শরীরে পাঞ্চ করছে। এসময় তার প্রেসার ৬০এ নেমে যাচ্ছিল। পেট ফুলে যাচ্ছে। স্বপন চক্রবর্তী অচেতন অবস্থায় প্রশ্রাব করানোর পরামর্শ দেয়া হলে জুনিয়র ডাক্তার একটি ক্যাথেটার নিয়ে আসার জন্য বলেন। এসময় তিনি নার্সকে ডাঃ নুরুল ইসলামকে খবর দেয়ার জন্য বলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাঃ নুরুল ইসলাম তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করার জন্য বলেন। কিন্তু তার আগেই রাত বারোটায় স্বপন চক্রবর্তী হাজার হাজার শিক্ষার্থী মায়া কাটিয়ে পরলোকগমন করেন।

সেখানে উপস্থিত স্বপন চক্রবর্তীর বন্ধু দিলীপ দত্ত অভিযোগ করেন, ইসলাম হার্ট সেন্টারে কোন প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই স্বপনকে রাত আটটা থেকে ক্লিনিকে রেখে দেয়া হয়েছে। আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করলে তিনি কোন আগ্রহ না দেকেয়ে এখানেই চিকিৎসা করা হবে বলে জানান।

তিনি বলেন, একজন হার্ট এ্যাটাক রোগীকে কিভাবে ডাক্তার স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। ৪ঘণ্টা একজন রোগাীকে আটকে রেখে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে তিনি অভিযোগ করেন। কারন তার ক্লিনিকে হার্ট এ্যাটক চিকিৎসার কোন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা সুযোগ সুবিধা নেই।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক রুমন রেজা বলেন, আমারা যখন সহকর্মী স্বপন চক্রবর্তীকে ইসলাম হার্ট সেন্টারে নিয়ে যাই তখন আমরা বলেছিলাম উন্নত চিকিৎসার কথা। কিন্তু ডাঃ নুরুল ইসলাম আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন তেমন কিছু হয়নি। রাত বারোটায় যখন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায় তখন তিনি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু স্বপন দা তখন আর নেই। তিনি বলেন বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। তার মতো একজন মেধাবী শিক্ষককে আমরা হারালাম।

এ ব্যাপারে ডাঃ নুরুল ইসলামের সাথে দুইদিন যাবত মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের পরিচালনা পরিসদের সদস্য ডাঃ শাহনেওয়াজ চৌধুরী জানান, ডাঃ নুরুল ইসলামের মোবাইল নষ্ট। স্বপন চক্রবর্তীর যদি ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে তাহলে বিএমএ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

 

Categories: সারাদেশ,স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.