শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

ঢাকায় হয়ে গেল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ঢাকায় হয়ে গেল ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখেছেন Ñআবদুল মান্নান
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি অনুধাবনে এ ধরনের সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন এবং একই সঙ্গে এর প্রাণচঞ্চল সাহিত্যসম্পদের সাক্ষাৎ পেতে দক্ষিণ এশীয় সাহিত্যের নিবিড় পাঠ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ঢাকায় হয়ে গেল ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২২ ফেব্রুায়ারি সকালে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক ছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি অনুধাবনে এ ধরনের সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন এবং একই সঙ্গে এর প্রাণচঞ্চল সাহিত্যসম্পদের সাক্ষাৎ পেতে দক্ষিণ এশীয় সাহিত্যের নিবিড় পাঠ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
মূল প্রবন্ধে ড. ফকরুল আলম বলেন, দক্ষিণ এশীয় লেখকদের সাহিত্যে প্রান্তীয় মানুষের স্বর যেমন উঠে আসে, তেমনি নতুন এক সাহিত্যরীতিরও এ অঞ্চলের লেখকরা জন্ম দিয়ে চলেন; যার মধ্যে সময়-দেশ ও মানুষের মহাস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়ে চলে।
আলোচনায় ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যে নানা অভিমুখ পরিলক্ষিত হলেও মানবমুখী প্রবণতাই প্রধান।
ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষকে যেমন স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা দান করেছে, তেমনি এ অঞ্চলের লেখকদের মাঝে নতুন সাহিত্যিক রূপরীতি অনুসন্ধানের মানস গঠন করেছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে দুপরে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা। তারা বলেন, সাহিত্যিককে সময়ের সঙ্গে নিজেকে নবায়ন করে নিতে হয়। চারপাশের মুহুর্মুহু পরির্বতনকে আত্মস্থ করতে হয় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে জীবনকে অবলোকন করতে হয়। জীবনরসের সন্ধান না পেলে সাহিত্য মানুষের সঙ্গে সংযোগহীন হতে শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যেও ব্যক্তি ও সমষ্টিÑ উভয়ই সমগুরুত্ব লাভ করেছে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা। এ পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রিফাত মুনিম। আলোচনা করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ ও খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যিকরা যেমনি শিল্পমান সম্পর্কে সচেতন, তেমনি মানুষের অধিকারের কথা নতুনতর গদ্যরীতিতে পরিস্ফুট করছেন। যদিও একমাত্রিক বিশ্বায়নের প্রভাবে কথাসাহিত্যের ভাষাও আজ এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উপনীত। এ অঞ্চলের কথাসাহিত্য-পরিসরে দলিত সাহিত্য, নারীস্বর যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনি লিখিত রীতির পাশাপাশি মৌখিক কথকতার রূপরীতিও কথাসাহিত্যের অবয়বে ফুটে উঠেছে।
প্রথম দিনের শেষ পর্বে বিকালে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটারবিষয়ক আলোচনা। এ পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনা করেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।
বক্তারা বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নাটক শিল্পমাধ্যম হিসেবে আজ এক নতুন দিগন্তের সামনে এসে উপস্থিত। সারা বিশ্বের শৈল্পিক উত্তরাধিকারকে বহন করে দক্ষিণ এশিয়ার নাটকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র, নারীদের জীবনসংগ্রাম এবং সর্বতোমুখী বৃত্ত ভাঙার প্রয়াসে ঋদ্ধ। মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনূদিত ও রূপান্তরিত নাটকে দক্ষিণ এশিয়ার জীবনের সঙ্গে অন্বয় সাধন এক নতুন নাট্য-আঙ্গিকের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারের সমান্তরালে প্রতœথিয়েটার, পরিবেশ-থিয়েটার ইত্যাদি এ অঞ্চলের থিয়েটারকে শিল্পসত্য ও মানবমুক্তির সত্যের মুখোমুখি করে।
সম্মেলনের শেষ দিন সকালে অনুষ্ঠিত হয় ‘দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা। এছাড়া দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা এবং অনুবাদ’ শীর্ষক সমাপনী আলোচনা।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: সাহিত্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.