শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার চার শিক্ষক ও এক এডমিন

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে একটি গ্রুপের নামে পেজ খোলা হয়। পরীক্ষার সকল সাজেশন দেয়া হবে বলে প্রচারণা চালিয়ে সেই গ্রুপে সদস্য সংগ্রহ করা হয়। বিস্তারিত জানার জন্য নিজের গ্রুপের ইনবক্সে যোগযোগ করার বিষয়টি উল্লেখ থাকে। এই ইনবক্সে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। মূল গ্রুপে কাউকে যুক্ত করার আগে দর কষাকষি করা হয়। ইলেকট্রনিক ডিভাইসে প্রশ্নপত্রের জন্য টাকা লেনদেন করে তাদেরকে এনলিস্টেট করা হতো। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মুল গ্রুপে এড করতেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ সদস্য র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এমনই তথ্য মিলেছে। এই চক্রের গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রাজধানীর উত্তরখানের ক্যামব্রিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক তানভির হোসেন ও মো. সজীব মিয়া, সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক এনামুল মিয়া ও ইব্রাহিম এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের একটি গ্রুপের এডমিন হাসানুর রহমান ওরফে রকি (২৯)। রবিবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান ও গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার দুই মাস পুর্বে ফেসবুকে প্রচারনা চালিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতো। পরে তাদেরকে নিয়ে একটি গ্রুপ খোলা হত। শুধু একটি পরীক্ষার জন্য একটি গ্রুপ। মজা, আড্ডা, ব্লাড ডোনেশন-১,২,৩ নামে আরো গ্রুপ থাকত। ধরা পড়ার আশংকায় গ্রুপের বিভিন্ন নাম পরিবর্তন করা হলেও এডমিন একই থাকত।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, তারা মুলত তিনটি পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। প্রথমত, সদস্য সংগ্রহ করে গ্রুপ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, গ্রুপ তৈরি করে প্রশ্নপত্রের জন্য টাকা নিশ্চিত করা হয়, তৃতীয়ত পরীক্ষার প্রশ্নেপত্রের সমাধান করা হয়। এই তিনটি পদ্ধতিতেই প্রশ্নফাঁস চক্রের এই সদস্যরা কাজ করে। তবে প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন্য রকি টপটেন নামের একটি গ্রুপের সাহায্য নিত। টপটেনই পরীক্ষার দিন সকাল ৮টা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দিত। তারপর অন্যান্য চক্রগুলো প্রশ্নপত্রের সমাধান করে পরীক্ষার আধা ঘন্টা আগে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছে দিত।
মুফতি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রকি প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার বিষয় এবং সে কিভাবে এই কাজ করে তার বর্ণনা দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জড়িত আছেন। একটি স্কুল ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ঢাকায় ৪ জন, খুলনায় ৯ জন, নাটোরে ১০ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন, কুষ্টিয়াতে ১ জন এবং বগুড়া হতে ১ জনসহ সারাদেশে ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,শিক্ষা

Leave A Reply

Your email address will not be published.