বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

সারা দেশে উত্তেজনা, মুখোমুখি দুই দল

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: আগামীকাল খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। রায়কে সামনে রেখে দল দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও পাল্টা পাল্টি রাজপথে থাকার কথা বলছে। দলীয়প্রধানকে সাজা দেওয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারে।অন্যদিকে সরকারি দল ‘বিএনপির নৈরাজ্য’ রুখতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহঅবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে, রয়েছে উত্তেজনাও।

এদিকে রাজধানীতে আগামীকাল সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঢাকায় যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হলেও দেশের অন্য কোথাও এমন নির্দেশনার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকায় জমায়েত না করতে পারলেও সারা দেশে জমায়েতের চিন্তা বাদ দিচ্ছে না রাজনৈতিক দলগুলো।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ৮ ফ্রেরুয়ারি ঘিরে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ১৩টি এবং বিএনপি ছয় স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ আজ থেকে মাঠ দখলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উপলক্ষে এক বর্ধিত সভা করেছে দলটি।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, খালেদার দুর্নীতি মামলা রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য রায় ঘোষণার আগের দিন বুধবার সন্ধ্যা থেকে নগরের ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় মিছিল করবেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে এ কে খান মোড়, ইপিজেড মোড়, কাটগড়, বিমান চত্বর, বাদামতলী, দেওয়ানহাট, ওয়াসা, জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট মোড়, অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতুর নগরপ্রান্ত, চকবাজার এবং দলীয় কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটের চত্বরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে এই রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার ১৪টি উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। রায় ঘোষণার দিন ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের ছয়টি মোড় এবং দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপজেলা সদরেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর ছয়টি স্থানে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবেন। আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

বিএনপি ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে নগরের সিটি গেট, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর নগরপ্রান্ত, অক্সিজেন মোড়, ইপিজেড, দেওয়ানহাট এবং বহদ্দারহাট মোড়ে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে কর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেবেন নগর কমিটির শীর্ষ নেতারা।

আমাদের খুলনা প্রতিনিধি জানায়, গত দুই দিন ধরে ধরপাকড় চলছে খুলনাজুড়ে। তাই রায়কে সামনে রেখে আগাম কর্মসূচি ঘোষণা থেকে বিরত রয়েছে দলটি। গত সোমবার খুলনা মহানগর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে রায়ের দিন প্রস্তুত থাকতে নেতাকর্মীদের কাছে গোপন বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি কোনো কর্মসূচি রাখেনি আওয়ামী লীগও। ওই দিন জনসভা করার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুলিশ সূত্র জানায়, নাশকতা প্রতিরোধে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কেএমপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রবেশদ্বারে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার পরপরই আমাদের কর্মসূচি শুরু হবে। কর্মসূচি কী হবে, সেটা ওই সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে সবকিছুই করা হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে মাঠে থাকবে আ. লীগ ও বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগরসহ রাজশাহীর সব উপজেলা সদরে অবস্থান নেবে আ. লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করলে ‘প্রতিহত’ করতে আওয়ামী লীগ সকাল থেকেই মাঠে থাকবে। অপরদিকে নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, রায়ের দিন সকাল থেকেই বিছিন্নভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় থাকবে।

রায়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেতাকর্মীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ জানানোর জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোনাদিঘী, সাহেবাজার, মালোপাড়া, রানীবাজার, নিউমার্কেট ও কাদিরগঞ্জসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় নগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় অবস্থান নেবে। এরই মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রায় ৯৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।

বরিশাল প্রতিনিধি জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার মামলার রায়ের দিন বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে মহানগর ও জেলার নেতারা তিন লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বরিশাল আগমন উপলক্ষে একদিকে চলছে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা। বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছেন। বিশেষ করে প্রথম সারি ও মধ্যম সারির নেতারা গ্রেফতার আতঙ্কে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, ‘আমি ঢাকায় আছি। ম্যাডাম খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি অন্তরীণ হলে রাজপথ উত্তপ্ত হবে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা মো. নূরুল আলম ফরিদ জানান, একইদিনে খালেদা জিয়ার রায় এবং বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে পুলিশ। তাই ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আগমনের দিন বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠে নামার সম্ভাবনা কম। অপরদিকে প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আ. লীগের সভাপতি সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ জানান, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ৩ লাখ নেতাকর্মী নিয়ে মাঠে থাকব। বরিশালে কেউ কে নো বিশৃঙ্খলা করলে তা প্রতিহত করা হবে।’

খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারেও চলছে নানা গুঞ্জন। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামার প্রস্ততি নিচ্ছে বলে জানায় দলীয় সূত্র। সাজা হলে রাজপথে তাৎক্ষণিক বড় মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে পারেন নেতারা। এদিকে জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান জানান, আদালতের রায় যাই হোক না কেন কাউকে অহেতুক অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সব উপজেলা ও পৌর এলাকায় আ. লীগ নেতাকর্মীরা মাঠে সজাগ থাকবে।

এর বাইরেও আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, দেশের প্রতিটি মহানগর জেলা উপজেলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দুই দল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও নিয়েছেন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: রাজনীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.