শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

নির্মূল হয়নি কুষ্ঠরোগ, বাড়ছে নতুন রোগী

পাঠান সোহাগ: কুষ্ঠরোগ আগের মতো মহামারী আকারে না থাকলেও এখনো রোগটির প্রাদুর্ভাব রয়েছে। প্রতি বছর কুষ্ঠরোগের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে কুষ্ঠ আক্রান্তের হার একজনের নিচে নেমে এলেও নিমূল হয়নি—এমনটিই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, নজরদারির অভাব, মাঠপর্যায়ে কাজের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু কারণে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে কুষ্ঠরোগ উচ্ছেদ ঘোষণা করা হলেও কাগজে-কলমের হিসাবেই প্রতি বছরই যোগ হচ্ছে নতুন কয়েক হাজার রোগী। এখনই নজর দিলে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা। আজ বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জিরো ডিজঅ্যাবিলিটিসি ইন গার্লস অ্যান্ড বয়েজ’ বা ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য কুষ্ঠ আক্রান্তের মাত্রাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনো’। এ স্লোগান নিয়ে দিবসটি পালন করবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কয়েকটি সংগঠন। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রাসহ প্রচার-প্রচারণা ও সভা ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে কুষ্ঠ আক্রান্তের হার ১ একজনের নিচে নেমে এলে সে দেশে কুষ্ঠ উচ্ছেদ বলা যায়। সে ক্ষেত্রে ১৯৯৮ সালে দেশে রোগটির হার শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ হওয়ায় কুষ্ঠরোগ উচ্ছেদ ঘোষণা করা হয়। এরপর রোগে আক্রান্তের হার ১-এর ওপরে না উঠলেও রোগ শনাক্তের ব্যাপারে খামখেয়ালির কারণে অনেক রোগী শনাক্তের বাইরে রয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাতাদের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। এদিকে প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ হাজারেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। রোগটির প্রাদুর্ভাব আবারও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৯১ সালে দেশে প্রতি ১০ হাজারে রোগটির হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর প্রাদুর্ভাব পর্যায়ক্রমে কমতে থাকে। তারপর ১৯৯৮ সালে কুষ্ঠ উচ্ছেদ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ধীরগতিতে হার কমলেও বাড়ছে নতুন রোগী। এমনকি ২০১৩ সালে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৪১ জন। ২০১৪ সালে শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৬২১ জন। ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৯৭৬ জন। এবং ২০১৬ সালে ৩ হাজার ১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে মহাখালীতে সরকারি ল্যাপ্রসি কনট্রোল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুষ্ঠরোগের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলেও নতুন রোগী বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে সেবা নিতে এলেই তারা হিসাবের আওতায় আসে। এর বাইরে এমন রোগী আছে কি না, তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায় থেকে হিসাব করলে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কুষ্ঠরোগী পাওয়া যাবে। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি ছিল। অথচ সারা দেশে সরকারিভাবে ঢাকা, নীলফামারী ও সিলেটে মোট ১৪০ শয্যার তিনটি হাসপাতাল রয়েছে। যেখানে মাত্র ১২ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। এ ছাড়াও দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের ৬২৫টি কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা উপকরণ প্রদান করা হয়।

মহাখালী কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (লেপ্রসি) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামক জীবাণুর সংক্রমণের কারণে কুষ্ঠরোগ হয়ে থাকে। এ রোগ ত্বক, অন্ডকোষ, চোখ এবং নাকের মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতি করে। কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জিন সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে। সংক্রমণের ৫ থেকে ৭ বছর পর উপসর্গগুলো দেখা যায়। জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গহানি হতে পারে। রোগটি গরিবের রোগ নামেই পরিচিত।

তাই চিকিৎসকদের কুষ্ঠরোগী নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ কম। আগ্রহ কম বলে স্কিনের ডাক্তাররাই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, কুষ্ঠরোগ নির্মূল করতে হলে সরকারকে আরো নজর দিতে হবে। মহাখালী কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পরিণিত করে আগ্রহী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.