বুধবার ৩০ কার্তিক, ১৪২৫ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

‘সংযত’ মুদ্রানীতি আসছে

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি ও আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে ‘সংযত’ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আগামী ৩১ জানুয়ারি (বুধবার) নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। যার বৈশিষ্ট্য হবে ‘সংযত’ বা সংকোচনমূলক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে অব্যাহতভাবে বাড়ছে ঋণ বিতরণ। বর্তমানে এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশেরও বেশি। আবার চাল, পেঁয়াজসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির হারও বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি থাকার কথা ৫ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে। কিন্তু এরইমধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ; যা নভেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৮৩ ভাগ। এ মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ; যা নভেম্বরেও ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, আগের মুদ্রানীতিতে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর আগামী জুন পর্যন্ত এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু নভেম্বরেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনি বছরে দেশে টাকার প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। আবার শেষ ছয় মাসে সরকারের খরচও বাড়বে। এতে ব্যাংক থেকে সরকারও বেশি ঋণ নেবে। এ কারণে আসন্ন মুদ্রানীতির ধরন ‘সংযত’ হওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, এই বছরের মুদ্রানীতি ‘সংযত’ বৈশিষ্ট্যের হওয়া জরুরি। কারণ, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আবার ডলারের দামও বাড়ছে। আমদানির চাপও বেশি। বেসরকারি খাতে ঋণও বেশি গেছে। যে কারণে সামগ্রিক বিবেচনায় নতুন মুদ্রানীতির ধরন ‘সংযত’ হওয়া দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। অক্টোবরে ১৮ দশমিক ৬৩, সেপ্টেম্বরে ১৯ দশমিক ৪০, আগস্টে ১৯ দশমিক ৮৪ এবং জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জুনে ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বিগত পাঁচ মাস ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশের ওপরে রয়েছে। একইভাবে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে আমদানির চাপে দেশীয় মুদ্রার (টাকা) বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও আকাশচুম্বী।

আবার রেমিটেন্স প্রবাহে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসা এবং আমদানি ব্যয়ের অনুপাতে রফতানি আয় বৃদ্ধি না পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি বছর হওয়ায় সামনে টাকার প্রবাহও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অর্থবছরের শেষ ৬ মাসে সরকারের খরচও বাড়বে।

এদিকে, যে সব ব্যাংক আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করছে, তাদের ঋণ বিতরণে সর্তক হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একক গ্রাহকসীমা অতিক্রম করা ১৬ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে তাদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায়ও আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ না করার জন্য ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.