শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

জাকাত আদায় না করার ভয়াবহ পরিণতি

হমুহাম্মাদ আবু আখতার: জাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। পবিত্র কোরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা নামাজ কায়েমের নির্দেশের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান যুগের অধিকাংশ সম্পদশালী মুসলমান জাকাত আদায়ের ব্যাপারে চরম অবহেলা করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, এমন অনেক ধনী লোকও ঠিকভাবে জাকাত আদায় করেন না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। জাকাত গরিবের ওপর ধনীর করুণা নয়; বরং ধনীর সম্পদে গরিবের পাওনা। কোরআন-হাদিসে জাকাত আদায় না করার জন্য ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা এসেছে। যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জাকাত আদায় না করে ধনসম্পদ জমা করে রাখে, তাদের শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যারা সোনা-রুপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের কপাল, পার্শ্ব ও পিঠকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং (আল্লাহর পথে ব্যয় না করে) সম্পদ জমা করে রাখার জন্য শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।’ (সূরা তাওবা : ৩৪-৩৫)।
হাদিসে এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সোনা-রুপার অধিকারী যেসব লোক জাকাত আদায় করেন না, কেয়ামতের দিন তার ওই সোনা-রুপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্ব ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যখনই ঠান্ডা হয়ে আসবে, ফের তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের আর জাহান্নামের দিকে।’ (মুসলিম : ৯৮৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী আয়েশা (রা.) কে জাকাত আদায় না করার জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রহ.) বলেন, আমরা নবী (সা.) এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) এর কাছে গেলে তিনি বললেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার কাছে এসে আমার হাতে রুপার বড় আংটি দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলন, হে আয়েশা! এটা কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর জাকাত দাও? আমি বললাম, না, অথবা বলেছি, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বললেন, তোমাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট। (সুনানে আবু দাউদ : ১৫৬৫)।
সামান্য অলংকারের জাকাত আদায় না করার কারণে উম্মাহাতুল মোমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এর প্রতি যদি এত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়, তাহলে যারা বিশাল সম্পদের মালিক হয়েও সঠিকভাবে জাকাত আদায় করে না, তাদের পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

হমুহাম্মাদ আবু আখতার
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: লাইফস্টাইল

Leave A Reply

Your email address will not be published.