বুধবার ১১ মাঘ, ১৪২৪ ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ বুধবার

মধু বিক্রির আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালাতো আবু সাঈদ

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নব্য জেএমবির প্রধান সুরা সদস্য আবু সাঈদ ওরফে কারিম ওরফে তালহা ওরফে শ্যামলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশের সভাকক্ষে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আসাদুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১টার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শ্যামল কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চরচাঁদপুর গ্রামের শহিদুলল্লাহ শেখের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, আবু সাঈদ ওরফে কারিম ওরফে তালহা ওরফে শ্যামল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেএমবি’র প্রধান সুরা সদস্য। এছাড়াও সে ভারতের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে ২০১৪ সালের বোমা বিস্ফোরণ মামলার শীর্ষ আসামি। ওই ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে প্রচারপত্র বিলি করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারি সংস্থা (এনআইএ)।
বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ সদর দপ্তরের ইনটেলিজেন্স শাখার যৌথ অভিযানে আটক করা হয় তাকে। তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, আট রাউন্ড গুলি, একটি চাকু ও একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো: আসাদুজ্জামান, জানান, ২০০২ সালে জেএমবিতে যোগ দেয় আবু সাঈদ। ২০০৪ সালে রাজশাহীর বাগমারায় সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে তথাকথিত সর্বহারা নিধনে অংশ নেয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার দিন সে নওগাঁয় বোমা হামলায় অংশ নেয়। ওই মামলায় নিম্ন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ফলে ২০০৭ সালে আবু সাঈদ ভারতে পালিয়ে যায় এবং ২০০৯ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জেএমবি সদস্য ইয়াদুল ইসলামের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করে। গত বছর বগুড়ার একটি বাসস্ট্যান্ড থেকে তার স্ত্রী খাদিজা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, ২০১০ সালে ভারতের নদীয়া জেলায় জেএমবির দায়িত্বশীল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ২০১২ সালে নদীয়া জেলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও বর্ধমান জেলারও দায়িত্ব পায়। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই বোমা হামলার পর ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ রাখ রুপি ঘোষণা করে প্রচারপত্র বিলি করে। ফলে সে দেশে আসে এবং নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আবু সাঈদ ভারতে শ্যামল নামে পরিচিত ছিল। আবু সাঈদ তার আসল নাম হলে সে ১১টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতো। শুধু তাই নয়, মধু বিক্রেতার ছদ্মবেশে ভারতে জঙ্গি তৎপরতা চালাতো সে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। এরা হলেন, শাকিল গাজী ও করিম শেখ। বাংলাদেশের জেএমবি এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল হোতা বলে দাবি করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.