রবিবার ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ রবিবার

হকার পুনর্বাসনে ডিএসসিসির ১০ কোটি টাকার প্রকল্প

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: হকার পুনর্বাসনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নয় কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবর প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠান ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোম্মদ বিলাল। যেখানে জনস্বার্থে (ডিএসসিসি) বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত হতে উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসনের জন্য এই প্রকল্প অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, যানজট নিরসনে চলতি বছরের শুরুতে পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি।প্রথমদিকে পুলিশ, ডিএসসিসির নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযান চালিয়ে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে পথচারীদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়োগ করা হয় স্বেচ্ছাসেবক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের। এতে অনেকটা সফল হয় সংস্থাটি।

এরপর পুনর্বাসনের দাবিতে দফায় দফায় সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে হকারদের একাংশ। এরপর হকারদের তালিকা করে হলিডে মার্কেট, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া, বিদেশ পাঠানোসহ, পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন মেয়র সাঈদ খোকন। সংস্থাটি জানায়, যদি কোনো হকার ফুটপাত ছেড়ে কর্মসংস্থানের জন্য চাকরি করতে বা বিদেশ যেতে চান, তাহলে সিটি করপোরেশন তাদের চাকরি দেবে বা বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। করপোরেশনের এমন ঘোষণার পর উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অন্তত ৬৯ জন বিদেশ যেতে আবেদনও করেন।

সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্তের পর চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, পুনর্বাসনের জন্য হকারদের আবেদন পাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় কয়েকজন হকার নেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও করপোরেশনের সে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা থাকেনি। সিটি করপোরেশন যাদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে, তাদের অধিকাংশই হকার নন। যে কারণে প্রকৃত হকারদের পক্ষ থেকে করপোরেশনের এ উদ্যোগে সাড়া মিলছে না।

হকার নেতারা জানান, পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যে শুধু ১২ জুন তাদের নিয়ে একটি সেমিনার করেছে ডিএসসিসি। এ ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান কাজ তাদের চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, এটি সিটি করপোরেশনের একটি ভালো উদ্যোগ। রাজধানীতে চার হাজার নিবন্ধিত হকার রয়েছে, এর মধ্যে গুলিস্থানে দুই হাজার ৫০২ জন, শাহবাগে ৬৪২, নিউমার্কেট এলাকায় ৭২ জন। এ ছাড়া আরো দুই হাজার হকারের তালিকা করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হকারদের কেউ আর অবহেলিত থাকবেন না।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি, যা পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এটি পাস হলে একটি কমিটি গঠন করা হবে। যে কমিটির মাধ্যমে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পে হকার পুনর্বাসনের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে কম খরচে বিদেশ পাঠানো, স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়াসহ অন্য বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প অনুমোদন পেলেই পুনর্বাসন কাজ আরো দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত গুলিস্তান, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেট, স্টেডিয়াম গেট, জিপিও, পুরানা পল্টন মোড়, ফুলবাড়িয়া ও গোলাপশাহ মাজার এলাকায় জরিপ চালিয়ে সম্প্রতি দুই হাজার ৫০২ জন হকারের তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া নিউমার্কেট এলাকায় ৯৩৪ জন হকারের তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে হকারদের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ব্যবসার ধরন ও স্থান ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করে। এর আগে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। হকারদের পরিচয়পত্র দিলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত হকারদের সুবিধাজনক স্থানে পুনর্বাসন করা যাবে বলে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কিছুদিন পর তা-ও স্থগিত হয়ে যায়।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.