বুধবার ৩০ কার্তিক, ১৪২৫ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে, আক্রান্ত শিশুরা

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: শীতের প্রকোপে দেশে ডায়রিয়া ও কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। রাজধানীতে সবে শীত পড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। রাজধানীর এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বিশেষ করে শিশুরা। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতি বছর বর্ষার আগেও এই দুই রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ডায়রিয়া ও কলেরা রোগের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় আইসিডিডিআরবি (ইন্টান্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশ) হাসপাতালে। রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এ জন্য এখানে ডায়রিয়া ও কলেরা রোগীর ভিড় থাকে। এবার শীতের শুরু থেকে দৈনিক গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এখানে।

গতকাল মঙ্গলবার আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হাসপাতালটিতে গত ২ মাসে (নভেম্বর ও ডিসেম্বর আংশিক) দৈনিক গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কোনো রোগী হাসপাতালে ২ থেকে ৫ দিন অবস্থান করে চিকিৎসা নিয়েছেন। আবার কোনো রোগী ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন।

মিডিয়া ম্যানেজার তারিফুল ইসলাম জানান, শীতের আগমনের সময় রোটা ভাইরাসজনিত কারণে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রাদুর্ভাব হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছরই এটা হয়ে থাকে। এবার শীতেও রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি জানান। এ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সবাইকে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুদের ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত রাখতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সক্ষমতা অনেকের নেই। তবে যে পানি দিয়ে হাত ধৌত করবেন সেটাকে অবশ্যই পরিষ্কার পানি হতে হবে। আর এক বোতল পানিতে ৩ টাকা দামের একটি মিনি শ্যাম্পু মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে অনেক দিন ধরে হাত ধোয়া যায়। এটা করলেও অনেক টাকা সাশ্রয় হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর বরাত দিয়ে তারিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৫০ ভাগ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব শুধু হাত পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি হাত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। শীতের শুরুতে আইসিডিডিআরবিতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তারিফুল বলেন, এই সময়টাতে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ৬০-৬৫ শতাংশ শিশু এবং বাকিরা বিভিন্ন বয়সের হয়ে থাকেন। ডিসেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি রোগী এসেছিল ৫, ৭ ও ৮ তারিখে। ওই তিন দিন দৈনিক পাঁচ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নভেম্বর মাসের ১ ও ১৩ তারিখে দৈনিক পাঁচ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এমনিতে দৈনিক চার শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা এখানে দেওয়া হয়। শীতের সময় কখনো কখনো রোগীর সংখ্যা হাজার হয়ে যায়।

তারিফুল বলেন, জায়গার অভাবে এখান থেকে কোনো রোগী ফেরত পাঠানো হয় না। আমাদের হাসপাতালে সাড়ে ৩০০ রোগী রাখার ব্যবস্থা থাকলেও আমরা কখনো কখনো সহস্রাধিক রোগী রেখেও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। তখন তাঁবু খাটিয়ে, বারান্দায়, করিডরে বেড পেতে রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ সরকার আগামী ২০১৮ সাল থেকে রোটা ভাইরাসের প্রতিরোধক টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, ২০১৮ সালের পর বাংলাদেশে ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ অনেকটা কমে আসবে। এই টিকা বর্তমানেও বাজারে পাওয়া যায়। এটা যে কেউ ইচ্ছা করলে কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

ডেমরা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মতি মিয়া (৫৫) গত সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যা নিয়ে আইসিডিডিআরবিতে আসেন। রিমু সাহা এসেছেন মান্ডা থেকে। সোমবার তার ৪ বছর বয়সের শিশু অর্পণের পাতলা পায়খানা ও বমি হয়। অনেকবার হওয়ার পর তিনি স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে বিকেল নাগাদ কোনো উন্নতি না হওয়ায়, ছেলেকে নিয়ে আসেন আইসিডিডিআরবিতে। এখানে আনার সঙ্গে সঙ্গে তার ছেলেকে ভর্তি করে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ছেলে এখন অনেকটা ভালো। রিমু সাহা বলেন, ছেলের পাতলা পায়খানা হওয়ার কোনো কারণ জানাতে না পারলেও ঠান্ডার কারণে হতে পারে বলে তিনি জানান।

আইসিডিডিআরবি পরিচালিত হয় অনুদানের টাকায়। এ সংস্থার তিনটি (মহাখালী-মিরপুর-চাঁদপুরের মতলব) হাসপাতালে প্রতি বছর দুই লাখেরও বেশি রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে খরচ হয় পাঁচ মিলিয়ন ডলার। এই খরচ বাংলাদেশ সরকার, ইউকে এইড, কানাডার সিডা ও সুইডিশ সিডা ছাড়াও বিভিন্ন দাতা সংস্থা জোগান দিয়ে থাকে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুদান গ্রহণ করে আইসিডিআরবি। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার আয়কর রেয়াত সুবিধা পান।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.