বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

দেশপ্রেম মানুষকে আলোর পথ দেখায়

মুহাম্মদ আশরাফ বিন সামসুদ্দিন: সঠিক শিক্ষা মানুষকে সুন্দর পথ দেখায়, সুশিক্ষা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, মানবতার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়

নিজ দেশের কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষাকে ভালোবাসা মানবজীবনের একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। জাতি-ধর্ম-বর্ণÑ নির্বিশেষে দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ রেখে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিবেদিত থাকতে হবে সবাইকে। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে নিজ মাতৃভূমি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। শিশু থেকে শুরু করে বড়দের মাঝে পারিবারিকভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু পাঠ্যশিক্ষা নয়, নৈতিকতার সঠিক পরিচর্যা আমাদের মাঝে থাকতে হবে। অসহায়-দরিদ্র পরিবারের প্রতি সায়লা ফারজানার উদারতা ও ভালোবাসা খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নেয়। কয়েক দিন আগে সায়লা ফারজানার জন্মদিন ছিল। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, নিম্নবিত্তের ঘরে জন্ম আমার। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক। মা গৃহিণী। আটপৌরে জীবনযাপন আমাদের। খুব অভাবে পড়তে হয়নি কখনও, আবার সচ্ছলও ছিলাম না।
অভাব যে ছিল না তা নয়, তবে বাবার প্রাণবন্ত চেষ্টা ছিল আমরা যাতে অভাব বুঝতে না পারি। নানা টানাপড়েন, সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ, হাসি-কান্না আর বাবা-মায়ের গভীর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ছিল আমাদের সংসার। কোনো পারিবারিক উৎসব পালনের রেওয়াজ আমাদের পরিবারে ছিল না। বিশেষ করে জন্মদিন। গ্রামে নিম্নবিত্তের পরিবারগুলোতে এ রীতি ছিল না।
তবে অনেক সময় দেখেছি কারও কারও মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়ার আয়োজন করা হতো। স্কুলের গ-ি পার করে যখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি তখন দেখেছি আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে যারা সচ্ছল পরিবারের তাদের জন্মদিন পালনের ধুমধাম। কেউ কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে এ দিনটি কাটানোর জন্য হোস্টেল ছেড়ে বাসায় চলে যেত। তখন কখনও জন্মদিন পালন তো দূরের কথা, নিজের যে একটা জন্মদিন আছে তা-ও মনে হতো না। চাকরিতে প্রবেশের পর সহকর্মীদের জন্মদিন পালন করতে দেখেছি। অভাবের গ-ি তখনও পার হইনি। তাই নিজের জন্মদিন পালনের কথা ভাবিনি। মনে হয়েছে, ওটা আমাদের জন্য নয়। পরিবারে জন্মদিন পালনের রেওয়াজ শুরু হয় ছেলেমেয়ের জন্মদিন পালনের মাধ্যমে।
ফেসবুকের কল্যাণে প্রতি বছর এ দিনটিতে বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক অভিনন্দন ও ফোন পেয়ে থাকি। কিন্তু এ বছর ছিল একদম ব্যতিক্রম। জেলা প্রশাসক হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করছি। অতিবাহিত হলো এক বছর। এক বছরে যে এত মানুষের মনে স্থান নিতে পেরেছি তা জানা ছিল না। অন্যান্য বছর যেসব বন্ধু ফোন করে তাদের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে অনেক অনেক নতুন শুভানুধ্যায়ী। অফিসে আমার সহকর্মীরা কেক কেটেছে। সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির অনেকে দেখা করতে অফিসে এসেছিলেন। তাদের সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমারও নয়ন সিক্ত হলো। ভাবছি আসলেই কি মানুষের কাছে পৌঁছতে পেরেছি? তিনি বলেন দেশ গড়ার কাজে নিবেদিত সংগঠন আলোকিত বন্ধু ফোরামের প্রশংসনীয় কর্মকা-ে রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন। মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সুশিক্ষা, সততা, সাধুতাÑ সব কিছু মিলিয়ে যেন সায়লা ফারজানা তারুণ্যের এক আলোকিত মানুষ।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.