সোমবার ৪ পৌষ, ১৪২৪ ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ সোমবার

খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করছে ব্যাংক

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: অধিকাংশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করছে। গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে-২০১৭’-এর বক্তারা এ কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকৃত খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ। কিন্তু জিডিপিতে দেখানো হয় মাত্র ১২ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না করে অধিকাংশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করছে। সম্মেলনে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়-দায়িত্ব ও মূলধন সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের নীতিমালা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি আরো বলেন, এ সম্মেলনে যেসব পেপার উপস্থাপনা করা হবে, তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে, যা আমাদের নীতিমালা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

প্যানেল আলোচনায় ট্রাস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, অধিকাংশ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে। জিডিপিতে খেলাপি ঋণ ১২ শতাংশ দেখানো হয়। যদিও জিডিপিতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খেলাপি ঋণের কোনো কারণ স্পষ্ট নয়। কী কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, তা তুলে আনতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নাকি ব্যবস্থাপনা কমিটির কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, তা দেখতে হবে। বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আলী বলেন, শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো ঠিকভাবে তাদের নিয়ম পালন করছে না। এই ব্যাংকগুলোর জন্য একটি আইন প্রণয়ন জরুরি। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় ব্যাংকারদের চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন-২০১৭ বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘মাইক্রো ব্যাংকিং এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক একটি অধিবেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়াতুল ইসলাম।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের (আজ) উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর। এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্ন ভোজের পর ‘ডিজিটাল টেকনোলজিস ফর ড্রাইভিং ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ফর দ্য লাস্ট মাইল: গ্লোবাল পারস্পেকটিভ অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ ও ‘প্রমোটিং ক্লায়েন্ট-সেন্ট্রিক অ্যাপ্রোচেস ইন ডিএফএস: প্রডাক্ট ইনোভেশন ফর লো ইনকাম গ্রুপস অ্যান্ড স্মল বিজনেসেস’ শীর্ষক দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন বি আইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান। সমাপনী অধিবেশনের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের মাধ্যমে শেষ হবে দুদিনের এ সম্মেলন।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.