বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় পিছিয়ে নারীরা

পাঠান সোহাগ: আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ রোগ সম্পর্কে জানেন না অর্ধেকের বেশি নারী। এদের বিরাট একটা অংশ হৃদরোগ, কিডনি, অন্ধত্ব, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত।

নারীদের গর্ভধারণকালে রক্তে হরমোনের উচ্চমাত্রাও ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। ওজনাধিক্য, বেশি বয়সে সন্তান নেওয়া, কায়িক শ্রমহীনতা, ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস-এ ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়। প্রস্রাবের সংক্রমণ, যোনিপথে ছত্রাক প্রদাহ ছাড়াও আগে গর্ভপাত হয়েছে বা সন্তান গর্ভেই মারা গেছে কিংবা যারা আগে অতি ওজনের শিশু জন্ম দিয়েছেন, তারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার ৬ থেকে ১৪ শতাংশ। তবে নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও ডায়াবেটিক রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি।

জানা যায়, একবার আক্রান্ত হলে পরবর্তী গর্ভধারণের সময় ৬৫ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদের পরবর্তীতে ৫০ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার শঙ্কা থাকে। এসব মায়ের জন্ম নেওয়া শিশুদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নারীদের মধ্যে এ হার ২৫ শতাংশ। পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ৮৩০ জন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিরোধযোগ্য জটিলতায় মারা যান। তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আক্রান্ত হয় এ রোগে। নারীদের ক্ষেত্রে এর পরিণতি ভিন্ন। রোগ নির্ণয়, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত ওষুধ না কেনায় পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে তারা। এতে নারীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ কারণে নারীদের মৃত্যুর হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে বাল্যকাল থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত খেলাধুলা, পরিমিত ব্যায়াম, নিয়মিত হাঁটা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন সম্পর্কিত চেকআপ ইত্যাদির মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ। এ সংখ্যা বছরে এক লাখ করে বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১০০ জনের মধ্যে ২০ নারীই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বর্তমানে দেশে অর্ধেক রোগীই জানেন না তারা এতে আক্রান্ত। ফলে তারা থাকছেন চিকিৎসা আওতার বাইরে। নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও ডায়াবেটিক রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস একটি মহামারী রোগ। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.