মঙ্গলবার ৬ ভাদ্র, ১৪২৫ ২১ আগস্ট, ২০১৮ মঙ্গলবার

জেএমবি’র সোয়েবকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেলো কারা?

  • জামিউল আহসান সিপু

মাদারীপুরের কালকিনির রায়পুরা গ্রাম থেকে সোয়েব শেখ ওরফে সোয়ায়েব (৩২) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিককে পুলিশ পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধরে নিয়ে গেছে। গত ১৯ মে ১০/১২ জন ব্যক্তি নিজেদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী রিনা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি স্বামীর সন্ধানে মাদারীপুরের কালকিনি থানা ও ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, সোয়েব শেখ ওরফে সোয়ায়েব নামে কাউকে আটক করা হয়নি। তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জেএমবিতে তিনি মওলানা সোয়ায়েব নামে পরিচিত।

সোয়েব শেখের পারিবারিক সূত্র জানায়, নড়াইলের লোহাগড়া থানার চরআড়িয়ারা গ্রামে সোয়েবের বাড়ি। টঙ্গীর সাইনবোর্ড এলাকার রেডিয়্যান্ট সোয়েটার নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় স্যুইং শাখার লিংক ইন পদে চাকরি করেন সোয়েব। সম্প্রতি তার ৫ বছরের সন্তান সুমাইয়ার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়েছে। চিকিৎসার ব্যয় জোগাতে স্ত্রী রিনাও চাকরি নেন রেডিয়্যান্ট সোয়েটার কারখানায়। গত ১৮ মে সোয়েব তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনির রায়পুরা ভাটাবালিতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন সকাল ১০ টার দিকে ১০/১২ জন ব্যক্তি নিজেদের ঢাকার ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসায় যায়। সোয়েব ঘরের বারান্দা বসে ছিলেন। এসময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিয়ে ধরে নিয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রিনা বলেন, ‘আমি ঐ সময় তাদেরকে বলেছিলাম যে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই। তাদের পা ধরেছিলাম। তারা বলেন, ঢাকায় ডিবি অফিসে খোঁজ নিবেন। এরপর ঢাকায় ডিবি অফিসে এসে আমি আমার স্বামীর কোন খোঁজ পাননি। এ ব্যাপারে কালকিনি থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডিও নেয়নি।’

সোয়ায়েবের স্ত্রী রিনা আরো বলেন, তার স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নাজাম পড়েন। তবে জঙ্গি কোন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কিনা সে বিষয়ে তার ধারণা নেই। বছরখানেক আগে তার স্বামী ভারতের ভিসা জন্য আবেদন করেছিলেন। ঐ সময় তিনি দাঁড়ি কেটে ফেলেন। কিন্তু ভিসা তার হয়নি বলে ভারতে যাওয়া হয়নি।

অপরদিকে, গত বছরের ৩১ মে র‌্যাব তেজগাঁও বেগুনবাড়ি পোস্ট অফিস এলাকা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদী বইসহ জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন মফিজুল ইসলাম ওরফে তুষার ওরফে তাওহীদ (২৯), রকিবুল ইসলাম ওরফে রকিবুল মোল্লা (২৫) ও ইলিয়াছ আহমেদ (১৯)।

ঐ সময় র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল ইফতেখারুল মাবুদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পীরের আস্তানা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোই তাদের টার্গেট ছিল। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ জেএমবির ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতা ইয়াসিনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০। দুই বছর ধরে গ্রুপটি পরিচালিত হচ্ছে। শুরুর দিকে এ গ্রুপের দল নেতা ছিল ইয়াছিন। তাকে র‌্যাব গ্রেফতারের পর এদের দলনেতা নিযুক্ত করা হয় সোয়েব শেখ ওরফে মওলানা সোয়ায়েবকে। সে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ গ্রুপের সদস্য ১৫-২০ জন। তাদের বেশিরভাগই গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। তারা পরস্পরের সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাপস টেলিগ্রাম, থ্রিমা ও ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। তাদের মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, তারা পীরবিদ্বেষী। তাদের দৃষ্টিতে পীর ও ফকিররা ইসলামের আদর্শ পরিপন্থী।

গ্রেফতারের ঘটনায় পরদিন ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় র‌্যাব-২ এর পরিদর্শক রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় চার নম্বর আসামী হিসাবে মওলানা সোয়ায়েবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল মামলার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মামলায় গ্রেফতার তাওহীদ, রকিব ও ইলিয়াছ কাশিমপুর কারাগারে বন্দী আছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, ইয়াসিন মূলত মোটিভেশন দিয়ে তাদের জঙ্গিবাদে নিয়ে আসে। তারা মাওলানা জসিমউদ্দিন রাহমানির বক্তৃতা শুনেও জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়। মওলানা সোয়েব শেখ ওরফে সোয়ায়েব নড়াইলের একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। ২০১০ সালে গাজীপুরের একটি তৈরি পোষাক কারখানায় চাকরি নেয়ার পর জেএমবিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের মধ্যে জেএমবি’র কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচারণা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসএস/ক্যানি

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.