শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন ওষুধ নয়

মো. আরিফুর রহমান ফাহিম: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাধারণ জ্বর, কাশি এবং সর্দির জন্য বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়ালে তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন আয়োজিত অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সম্মেলনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষকের প্রধান রেবেকা মোলেস ৯৭ জন বাবা-মা ও কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ওপর গবেষণা করে বলেন, ‘বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, এদের মধ্যে বেশিরভাগই মনে করেন ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যেসব ওষুধ কেনা যায় সেগুলো অবশ্যই নিরাপদ।’ মোলেস বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৪ ভাগ বাবা-মা তাদের সন্তানদের ওষুধের সঠিক মাত্রা দিতে ভুল করছে এবং ৬৪ ভাগ বাবা-মা চেষ্টা করে সঠিক মাত্রায় ওষুধ খাওয়াতে। ওষুধ প্রথমে আমাদের পাকস্থলীতে যায়, এরপর সেখান থেকে তা শরীরে শোষিত হয়ে রোগ নিরাময় করে। ওষুধ শোষণের মূল কাজটি হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে, পাকস্থলীতে নয়। কারণ ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণতল, পাকস্থলীর শোষণতল থেকে অনেক বেশি। আমাদের প্রচলিত ধারণা, ভরা পেটে ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাকস্থলীতে খাদ্যের উপস্থিতি ওষুধের শোষণ ব্যাহত করে। ওষুধ শোষণের পূর্বশর্ত হলো তা দ্রুত পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছানো। কিন্তু খাদ্যের উপস্থিতি এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে এবং ওষুধের কার্যকারিতা মন্থর করে দেয়। তাই বেশিরভাগ ওষুধ খালি পেটে খাওয়া ভালো। খালি পেটে ওষুধ খাওয়া বলতে বোঝায়, খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে বা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। কারণ পাকস্থলীতে খাবার দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। আবার এটিও সত্যি যে, কিছু কিছু ওষুধ ভরা পেটে সেবন করতে হয়। যেমন- ব্যথার ওষুধ। কারণ ব্যথার ওষুধগুলো পাকস্থলীতে এসিডিটি ঘটায়, তাই ভরা পেটে এগুলো না খেলে এসিডিটি বাড়বে। এজন্য ভরা পেটে এগুলো সেবন করা উচিত। আরও কিছু ওষুধ আছে যেগুলো খুবই লিপোফিলিক তা ভরা পেটে খাওয়াই উত্তম। আবার আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পর চা বা কফি খাওয়া উচিত নয়, কারণ চা-কফি আয়রন শোষণে বাধা দেয়। আমাদের শরীরে নানাভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। মুখে খাওয়ার ওষুধ আর চোখে দেয়ার ওষুধ একইভাবে শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়বে না; কিংবা নাকের ওষুধ ও ফুসফুসে সরাসরি প্রয়োগ করা ওষুধ একইভাবে তৈরি হয় না। তাছাড়া ত্বকে লাগানোর ওষুধ কিংবা জিহ্বার মাধ্যমে প্রয়োগ করা ওষুধ একই প্রক্রিয়ায় হজম হয় না। কিছু ওষুধের বিপাক এত দ্রুত হয় যে, ওষুধের ক্রিয়া বেশি সময় থাকে না। তাই এসব ওষুধ ঘন ঘন প্রয়োগ করতে হয়। তাই ওষুধ সেবনের আগে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র নিন।

মো. আরিফুর রহমান ফাহিম
বিভাগীয় প্রধান, ফার্মেসি বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.