বুধবার ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ বুধবার

প্রসঙ্গঃ জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের ননক্যাডার ঘোষণার পায়তাঁরা

 

  • মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন

সদ্য জাতীয়করনের জন্য চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কতিপয় সদস্যবৃন্দ।সম্প্রতি তাদের সাথে জাতীয়কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পরিষদের কতিপয় সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয় ও বুঝে অথবা না বুঝে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাথে হাত মিলিয়ে জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের non cadre পদে রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে নাকি বার বার আবেদন করে যাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক সচিব বলেছেন, যদি জাতীকৃত কলেজ শিক্ষকরা এখনি এর প্রতিবাদ না করেন তবে জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকরা non cadre ই থেকে যেতে পারেন। আমরা জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের পক্ষ হতে এই ষড়যন্ত্র ও অপ তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই । জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকরা পূর্বের জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের মতো শিক্ষা ক্যাডারেই থাকবে। এর অন্যথায় মেনে নেয়া হবে না। এ বিষয়ে সকল জাতীয়কৃত কলেজের শিক্ষকদের এখনি প্রতিবাদ করার জন্য অনুরোধ করছি।
FB_IMG_1497903021130
সম্প্রতি গুলশানের কালাচাঁদপুর স্কুল এন্ড কলেজ জাতীয়করণ সংক্রান্ত ” ওয়াকিল উদ্দিন ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র”মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম শহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের এ দ্বৈতবেঞ্চ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ৮ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন ইংরেজিতে ২০ পৃষ্ঠার ঐ রায়ে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতিমালা” শিরোনামের অংশটি বাংলায় লেখা হয়।

ওই রায়ে বলা হয়, “ভবিষ্যতে কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হলে নিন্মোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।”

১) কোনো বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ করা হলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শুধু সে সকল কর্মরত শিক্ষকগণকে সরকারী চাকরিতে আত্মীকরণ করা হবে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বি সি এস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিযুক্তির জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার অনুরূপ।

আত্মীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রথমে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং পরবর্তীতে সরকারী কর্ম-কমিশন কর্তৃক তার উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়মিত নিয়োগদান করা হবে।

২) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও যে সকল কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগতা বিধি অনুসারে সরকারি বিদ্যালয়ে নিযুক্তির জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার অনুরূপ, শুধু তাদেরকেই উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর আত্মীকরণ করা হবে। তদানুযায়ী আত্মীকরণ বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

৩)নীতিমালায় বলা হয়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি অন্তত: দশ বৎসর নিয়মিত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত না হয়ে থাকে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য বিবেচিত হইবে না।

৪)নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, জাতীয়করণের জন্য এলাকার প্রাধিকার নির্ধারণ, জনসংখ্যা ও তথায় বিদ্যমান শিক্ষর সুযোগ পর্যালোচনার ভিত্তিতে করতে হবে।

জাতীয়করণের জন্য প্রস্তাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পূর্ববর্তী পাঁচ বৎসরের পাবলিক পরীক্ষায় উৎকৃষ্ট ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের জন্য বিবেচনা করা হবে।

৫)নীতিমালায় রয়েছে, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী পূর্ববর্তী পাঁচ বৎসরের মধ্যে পরীক্ষায় দূর্নীতির জন্য বহিস্কৃত হয়েছে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য বিবেচিত হবে না।

৬)আরো বলা হয়েছে, জাতীয়করণ করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৭) জাতীয়করণের পর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আত্মীকৃত শিক্ষক/
শিক্ষিকাগণ ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) বৎসর উক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে বাধ্য থাকবেন।

৮)নীতিমালায় রয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি ও গুণগত উৎকর্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত: একটি করে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। বর্তমানে যে সকল উপজেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, শুধু সে সকল উপজেলার বিদ্যালয় কোনো বেসরকারি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ অথবা নতুন স্কুল স্থাপনের মাধ্যমে এ নীতি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। উপজেলার এ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে একটি মডেল বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ ইত্যাদির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর ফলশ্রুতিতে উপজেলায় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুপ্রেরণা লাভ করবে এবং এদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করবে। সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে দশ বৎসর মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

অতএব হাইকোর্টের উপরিউক্ত নির্দেশনার কারনে বিসিএস সাধারন শিক্ষা সমিতি ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।তাদের হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

সদ্য জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস সাধারণ শিক্ষায় আত্মীয়করণের বিরোধিতাকারী শিক্ষক ভাইদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই,

এদেশে প্রথম ১৯৭৮ সালে কলেজ সমুহ সরকারিকরণ শুরু হয় এবং এর পরে উক্ত কলেজসমূহের আত্বীকৃত শিক্ষকরা অবসরে গেলে ঐ পদে পিএসসি নিয়োগ দেয়া শুরু করে।এখন ২৮৫টি কলেজ জাতীয়করণ হলে উক্ত কলেজসমূহে প্রায় ১৫০০০ হাজার নতুন পদ সৃস্টি হবে অধ্যাপক,সহযোগি অধ্যাপক ও প্রভাষক (ক্যাডার পদ) হিসেবে এবং তারা অবসরে গেলে ঐ পদে সরাসরি বিসিএস পাসকৃতদের নিয়োগ হবে। এ ছাড়া এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ি ও নতুন অধ্যাপক,সহযোগি অধ্যাপক,সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদ সৃষ্টি হবে।সেখানে কাদের নিয়োগ হবে? নিশ্চয় আত্বীকৃতরা নয়।জাতীয়কৃতদের পদ নন ক্যাডার হলে আপনারাতো সেই নন ক্যাডার পদে আসতে পারবেন না।সুতরাং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য ভাইদের বলছি,শুধু শুধু নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করা কেনো?হায়রে NO BCS,NO CADRE দাবিদার ভাইয়েরা, আপনাদের বুঝে,শুনে ও চিন্তা করে সিদ্বান্ত নেওয়া উচিত। আপনাদের সিনিয়ররা কিন্তু ভবিষ্যতে উক্ত পদসমূহে বদলির লোভে আপনাদের সাথে নাই।

তা ছাড়া নিয়োগের ৫/৬ বছরের মধ্যে জাতীয়কৃত কলেজসমূহের ৫০% আত্বীকৃত শিক্ষক অবসরে চলে যাবেন আর সেখানে কাদের পদায়ণ হবে?আপনাদের সহকর্মীদেরইতো? তাছাড়া জাতীয়কৃত কলেজসমূহে অধ্যক্ষ পদে এখনই নিয়োগ হচ্ছে কাদের? এসমস্ত কলেজসমূহে অধ্যক্ষ হতে এখনি কারা দলবেঁধে যোগাযোগ করছে,ভাই? তখন আর NO BCS, NO CADRE মনে থাকে না?

নরসিংদি সরকারি মহিলা কলেজের Principal Sir, প্রফেসর মহিউদ্দিন একজন ধা’মিক লোক।তিনি Absorbed Principal( আত্তীকৃত প্রিন্সিপাল) অথচ তাঁর প্রশংসা করে বিশাল পোস্ট দিলেন সাবেক বিসিএস সাধারণ শিক্ষক নেতারা। এ যেনো ভূতের মুখে রাম রাম।

এত কিছু সত্বেও জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের জুনিয়রিটি (তাও নিয়মিত করণের পরে) কেন মেনে নেয়া যায় না? আমাদের জন্যই পদ সৃজন হচ্ছে।এত অহংকার করা ঠীক নয়।

১৯৮১ বিধির পরে ১৯৯৮ সালের বিধি ( Absorption Rule passed by The Appellate Division) বাদ দিয়ে ২০০০ বিধি ওতে আপনারাই করেছেন।জাতীয়কৃত শিক্ষকরাতো সেই বিধিতেই নিয়োগ পাচ্ছে । পূর্বে ১৮ টি জাতীয়কৃত মহিলা কলেজের শিক্ষকরাও সকল সুবিধা ৮১ বিধিতেই পাচ্ছে।তাছাড়াও Effective service এর “পদোন্নতির জন্য” অংশটুকু কে বাদ দিয়ে জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতি ও কৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে। আর কি বাকি আছে?তাদের অপরাধ কি?কই সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা তো মাধ্যমিক স্কুল জাতীয়করন নিয়ে আপনাদের মতো হই চই করছে না। হাই স্কুলের শিক্ষকরা স্ব স্ব পদে নিয়োগ পাচ্ছেন তাতে কেউ আপনাদের মত সরকারের বিরোধিতা করছে না।

শুনলাম কতিপয় শিক্ষক মামলা করছেন ১৪/১৬ ব্যাচ দিয়ে Appointment, promotion, Absorption & encadrement এর বিরুদ্ধে। লাভ নাই কারন 14/16 batch ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ।শুনেছি পূর্বের জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকদের মতো সদ্য জাতীয়কৃত কলেজ সমূহের শিক্ষকরা শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারলে সারাদেশে এর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ এর বেশি মামলা হতে পারে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা?এগুলো বাদ দিয়ে আসুন আমরা সরকারকে সহযোগিতা করি। আপনারা মহা শিক্ষিত দাবি করছেন অথচ জাতীয়কৃতদের অশালিন ভাষায় গালমন্দ করছেন। বেশি ভাল যোগ্যতা থাকলে আপনাদের শিক্ষা ক্যাডারের বদলে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ হতো। মনে রাখা উচিত যে BPSC এর শেষ পদ হলো সাধারণ শিক্ষা।লোকে বলে মাস্টারেরা বেশি অহংকারি আর কথাও বেশি বলে। মনে কিছু নিবেন না। জাতীয়কৃত কলেজসমূহের শিক্ষেকেরা পিএসসির যোগ্যতা নিয়ে এবং অনেক বছরের Teaching Experience নিয়েও আপনাদের এবং জাতীয়কৃতদের নাতির বয়সী ছাএের নিচের অবস্থানকে মেনে নিচ্ছে।আর যাদের BPSC এর যোগ্যতা নাই তারা তো ক্যাডারভুক্ত না হয়ে বর্তমানে এমপিও ভূক্ত রয়েছেন।তাই জাতীয়কৃতদের আগমনে কারো কোন ক্ষতি নাই বরং এর মাধমে শিক্ষা ক্যাডারে হাজার হাজার পদ সৃষ্টি হচ্ছে যা আপনাদের কাজে আসবে।তাই না বুঝে শুধু হইচই ও বিরোধিতার দরকার নেই।আপনাদের এসব অপরিণামদর্শী কার্যকলাপকে অনেকেই সরকারি চাকুরি বিধি ভংগের কারণ হিসেবে মনে করছেন।ভবিষতে যারা BPSC এর মাধ্যমে আসবে তারা জাতীয়কৃতদের ও সন্তান।আপনারা তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করে জাতীয়কৃতদেরকে হয়রানি করছেন। তাদেরকে নিয়ে আপনাদের চিন্তার দরকার নাই।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ইচ্ছা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই উপজেলা ভিত্তিক স্কুল ও কলেজ সমূহ সরকারি হচ্ছে।সুতরাং তাঁকে সহযোগিতা করুন।জাতীয়কৃতদের ছাএরাই বিসিএস পরিক্ষা দিয়ে চাকরি করছে।কেন আপনারা তাদেরকে হি;সা করছেন?তাদেরকে তো ভাই হিসেবে আপনাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা উচিত।

মনে রাখবেন, শিক্ষা প্রসারে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের অবদান অনেক অনেক বেশি।এই কলেজ গুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও বোড’ পরিক্ষায় টপ র্যাংকিং এ থাকে। তাই বেসরকারি প্রতিস্ঠানসমূহকে অবহেলার কোনো সুযোগ নাই। যেমন ভিকারুননেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজ, আইডিয়েল স্কুল এন্ড কলেজ এর মত কলেজে কাদের সন্তান পড়ে?আপনাদের সন্তানরাওতো পড়ে,তাইনা?বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও কি ক্যাডার? তাদের যোগ্যতা কি আপনাদের চাইতে কম?তাহলে মিছে কেনো এতো আত্ম-অহমিকা?

আপনাদের জানা উচিত যে ১০ বছর আইনজীবী থাকলে বিচারপতি হওয়া যায়।এতে অন্যের ক্ষতি হয় না? তাছাড়া শিক্ষা ক্যাডার থেকে প্রশাসন ক্যাডারভুক্ত হয়। তাতে তো প্রশাসন ক্যাডারের কোন ক্ষতি হয় না?২৮৫টি কলেজ সরকারি হলে প্রতি থানায় কত আত্বীকৃত শিক্ষক থাকবে? মনে রাখা উচিত যে,ঢাকা কলেজ ও রাজশাহী কলেজ সহ মাত্র তিনটি কলেজ ছাড়া সারাদেশের সবগুলো কলেজইতো Nationalized বা জাতীয়কৃত কলেজ। এসব কলেজ জাতীয়কৃত না হলে পিএসসি আপনাদের কোথায় নিয়োগ দিতো,একবার ও কি তা ভেবে দেখেছেন? জাতীয়কৃত কলেজ শিক্ষকরা পূর্বের ও বর্তমানের জাতীয়কৃত কলেজসমূহেই বদলি হবে।অর্থাৎ তারা তো তাদের কলেজেই বদলি হবে তাতে আপনাদের সমস্যা কি?তাও আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ৩ বছরের পূর্বে নয়।আপনারা এতদিন কোথায় বদলি হয়েছেন বা হবেন? Nationalized College এইতো? নাকি অন্য কোথাও? আসুন সমস্যা নাই। জাতীয়কৃতরা আপনাদের আন্তরিকভাবে গ্রহন করবে। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি — মহামান্য রাষ্ট্রপতি কতৃক অফিসিয়াল চিঠি ইতোমধ্যে মাননীয় সচিব বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে যা আত্নীকৃতদের পক্ষে।মহামান্য হাইকোট গুলশানের কালাচাঁদ কলেজের মামলার রায়ের Observation এ কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ শিক্ষা ক্যাডারে দেয়ার মতামত দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা মধ্যম আয়ের দেশের দ্বারপ্রান্তে ।যারা এগিয়ে নিচ্ছেন তারা কি সবাই আপনাদের মত ক্যাডার?বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বড় বড় এমডি গণ সবাই কি ক্যাডার? দেশের সেবায় সকলের অংশগ্রহণ থাকবে। এটাইতো স্বাভাবিক দেশের উপজেলা লেভেলের ভাল কলেজকে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী সরকারি করছেন।এতই যদি আপনাদের আপত্তি থাকে তাহলে আমরা ক্যাডার বাদ দিয়ে জুডিশিয়াল সাভি’সের মত ‘National Education Service’ চাই। তখন আপনাদের হিংসা আর থাকবে না।

তবে সকলকে গনহারে আত্মীয়করণে আপত্তি থাকলে জাতীয়কৃত কলেজসমূহের সকল শিক্ষকদের ও বিসিএস পরীক্ষার মতো ন্যুনতম মেধাযাচাই মূলক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে উত্তীর্ণদের ক্যাডার সার্ভিসে আত্তীকরণ করা যেতে পারে।এক্ষেত্রে তাদের স্বপদে,স্বস্থানে ও সম্মানে পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা গণনা করে আত্তীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।তাহলে আর আত্তীকৃত কলেজসমূহের অধ্যক্ষগণ সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ,কারোও কোন আপত্তি বা হতাশা থাকার কথা নয়।

মনে রাখবেন,জাতীয়কৃত কলেজের শিক্ষকরাও এদেশের ই নাগরিক।আপনার আমার ভাই,তাঁদেরকে অবমূল্যায়ন করে নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে পারবেন না।সাংবিধানিকভাবে দেশের সকল নাগরিকের অধিকার সমান।একই কলেজে ক্যাডার ও নন ক্যাডার করে ব্রিটিশ আর পাকিস্তানীদের মতো “Divide and Rule এর চিন্তা বাদ দিন।আসুন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মধ্যম আয়ের দেশ গঠনে সবাই একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।

লেখক সভাপতিঃ বাংলাদেশ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ।
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ)

সিএ/ক্যানি

Categories: শিক্ষা

Leave A Reply

Your email address will not be published.