শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় মহাপরিকল্পনা

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ভূমি ধসে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর পাহাড়ি এলাকা ঘিরে দুর্যোগ মোকাবেলায় মহাপরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য এ সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বৈঠকের বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে পাহাড়ি এলাকা ঘিরে ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রতিবেদন তৈরিতে ২১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল।

তিনি বলেন, ভূমি ধসের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিতে আগামী সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের শীর্ষ ব্যক্তি এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ভূমিধসের প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করে পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পাদদেশের বসতি সরানো, কারিগরি বিষয়গুলো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকারে রাখতে হবে কর্মপরিকল্পনায়। গত ১১ জুন ভারি বর্ষণে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। এক দশকে পাহাড়ে এত প্রাণহানি আর কখনও ঘটেনি। এর আগে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পাহাড় ও গাছ কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন আবহাওয়া অধিদফতরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার।

তিনি বলেন, বর্ষায় কোনো না কোনো সময় ভারী বর্ষণ হবেই। তবে তার সঙ্গে পাহাড় কাটা, বনের গাছপালা কেটে ফেলার ঘটনা যোগ হলেই ধ্বংসাত্মক ঘটনা বেশি ঘটবে। তিনি জানান, প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করতে হবে। ২০০৭ সালের ভূমিধসের পর দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণে পাহাড়ে অতি ভারি বর্ষণ হয় জুন থেকে আগস্ট মাসে। কিন্তু এখন পরিবেশগত পরিবর্তন বেড়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহন কুমার দাস। তিনি বলেন, পরিবেশগত ডিগ্রেডেশন বেড়ে যাওয়ায় অবিরাম বর্ষণের প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে ঘটছে ভূমিধস। অপরিকল্পিত বসতি থাকায় প্রাণহানি বেড়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ভূমিধসের দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অনুযায়ী সব ধরনের কার্যক্রম তারা নিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে বড় কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করব, যাতে সবার অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়ন দ্রুতভাবে করা যায়। ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম শহর এলাকায় ভারী বর্ষণে ব্যাপক প্রাণহানির পর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হয়েছিল জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, তাদের কিছু সুপারিশ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এ অবস্থায় আমরা আগামীর প্রস্তুতি নিয়ে মহাপরিকল্পনা করার চেষ্টা নিয়েছি। পরিবেশগত পরিস্থিতি, পূর্বাভাস ও প্রশাসনিক কাজ বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড় যেন নিজের মতো থাকতে পারে। কারও যেন হস্তক্ষেপ না থাকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এবারের ২১ সদস্যের কমিটির প্রধান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন বন্ধ করা হবে। গাছপালা কেটে পাহাড় যেন ন্যাড়া না করা, যত্রতত্র বসতি স্থাপন নয় ও প্রকৌশল কৌশল নির্ধারণ করে সমস্যা সমাধান করা হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.