শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

স্মার্টফোন বুদ্ধি কমায়!

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সারাক্ষণ স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হাতের মুঠোয় সারা বিশ্বের জ্ঞান নিয়ে আসতে পারছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মানসিক ক্ষতিও বাড়ছে। স্মার্টফোনের ওপর করা এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও বুদ্ধি কমিয়ে দেয়।

এর পেছনে ফোনের প্রতি মনোযোগকেই দায়ী করেছেন গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্কের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। মস্তিষ্কের বেশির ভাগ মনোযোগ যদি ফোনের পেছনে থাকে, তাহলে অন্যান্য কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়, ফলে সেসব কাজে দক্ষতা কমে। দৃষ্টিসীমার মাঝে একটি ফোন থাকা মানেই মনোযোগ কমে যাবে। মানুষ ছোটখাটো কাজ করতে ব্যর্থ হবেন এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাবে। ফোন পকেটে, ব্যাগে এমনকি পাশের ঘরে থাকলে মনোযোগে এত ব্যাঘাত ঘটে না।

এ গবেষণার জন্য ৫২০ জন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীকে নেওয়া হয়। ফোনের আশপাশে থাকা অবস্থায় তাদের বুদ্ধি এবং স্মৃতির পরীক্ষা করা হয়। ম্যাথমেটিক, স্মৃতি এবং যুক্তির ওপর নির্ভর করে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। এ সময়ে তাদের ফোন ডেস্কে, পকেটে, ব্যাগে বা পাশের রুমে রাখা হয়। দেখা যায়, যাদের ডেস্কে ফোন রাখা হয়, তারা পরীক্ষায় ১০ শতাংশ কম নম্বর পায়। স্পিড টেস্টেও তারা খারাপ ফল দেখায়। ফোন বন্ধ করে ডেস্কের ওপর রাখলেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। যাদের ফোন পাশের রুমে ছিল তাদের ফলাফল এ তুলনায় ভালো হয়। এর থেকে বোঝা যায়, একজন মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে স্মার্টফোন।

গবেষণার লেখক ডক্টর অ্যাড্রিয়ান ওয়ার্ড বলেন, যারা নিজেরাই বলেন, তারা ফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি হতে দেখা যায়। তারা নিজেদের মনোযোগ ফোন থেকে দূরে রাখার জন্যও অনেকটা শক্তি খরচ করেন, ফলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাদের ফল খারাপ হয়। একে তিনি ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বলে অভিহিত করেন।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Leave A Reply

Your email address will not be published.