মঙ্গলবার ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ ১২ নভেম্বর, ২০১৯ মঙ্গলবার

ডায়াবেটিক রোগীর দাম্পত্য

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: যাদের হঠাৎ ডায়াবেটিস দেখা দেয় তারা থমকে যান ও ভেঙে পড়েন। এ ছাড়া নানা টেনশনও ফিল করেন। ডায়াবেটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বংশগতভাবে হয়। এছাড়া নানাবিধ কারণেও এ রোগটি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সারা জীবন খেলাধুলা, ব্যায়াম ও জিম করেন তাদের ডায়াবেটিস কম হয়। আবার যারা বসে বসে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি করেন, হাঁটাচলা কম করেন তাদের ডায়াবেটিস বেশি হয়। এর মূল কারণ, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া।

ডায়াবেটিস হলে প্রথমেই যা করতে হবে তাহলো, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে লাইফ স্টাইল বদলে ফেলা। এ রোগ প্রতিরোধে নিয়ম ও রুটিনমাফিক চলা আবশ্যক। তরুণ বয়সের ডায়াবেটিক রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিচলিত হন তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে। একটি কথা এ রোগ সম্পর্কে শুরুতেই বলতে পারি, ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ; কিন্তু রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এ রোগের কারণে সৃষ্ট অন্য যে কোনো উপসর্গ ও জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো যায়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগীরা যৌন এবং দীর্ঘ সময় এটি নিয়ন্ত্রণ না করার ফলে তারা নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৬০ ভাগ পুরুষ ডায়াবেটিক রোগীর পুরুষাঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা বা পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে মূত্রথলি, মলত্যাগ ও প্রস্রাবজনিত সমস্যাও থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার পরিবর্তে বিপরীতমুখী বীর্যস্খলনের সমস্যার কথাও বলা হয়। জানা থাকা প্রয়োজন, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কারণে স্নায়ু দুর্বলতার জন্য পুরুষত্বহীনতা থাকলেও বীর্যস্খলন হয়।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত দম্পতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়। এ রোগে আক্রান্ত পুরুষ ও মহিলা উভয়ের চরম তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব। মহিলা ডায়াবেটিক রোগী চরম তৃপ্তির জন্য পর্যাপ্ত উত্তেজনা ও অধিক সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে মহিলা ডায়াবেটিক রোগী পুরুষের মতো নানা সমস্যায় ভোগেন না। অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রান্তিক স্নায়ু দুর্বলতা বা পেরিকেরাল নিউরোপ্যাথি থাকলে তারা যৌন সমস্যার কথা বলেন এবং মানসিক অবসাদে ভোগেন। ফলে গোপনাঙ্গে বারবার ইনফেকশন হয় এবং অঙ্গের পিচ্ছিলতা হ্রাস পায়।

রোগ উপশম : আমাদের মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিক রোগীর স্নায়ু দুর্বলতা চিকিৎসায় তেমন ভালো ফল পাওয়া যায় না। গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু আবার উজ্জীবিত হতে পারে, তবে এতে যৌন সমস্যার সমাধান হয় না। স্নায়ু দুর্বলতার সঙ্গে যদি রক্ত সংবহনতন্ত্রের দুর্বলতা যুক্ত হয়, তবে তা আরো জটিল হয়।

পুরুষাঙ্গে কিছু ওষুধ সরাসরি ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়, যা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও নির্দেশনায় করা উচিত। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকুয়াম ডিভাইস বা যন্ত্রের মাধ্যমেও পুরুষাঙ্গের উত্থান ঘটানো সম্ভব। বর্তমানে অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ ইমপ্ল্যাট সংযোজন করা হচ্ছে। এ রোগীর যদি দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা থাকে, তবে চিকিৎসকের কাছে সেক্সথেরাপি নেওয়া বিশেষ উপকারী। এ ক্ষেত্রে কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘ জীবন সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা সম্ভব।

সহকারী অধ্যাপক (চর্ম-যৌন-অ্যালার্জি)
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
কামাল স্কিন সেন্টার

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.