রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

‘সন্ত্রাসে অর্থায়নকারী’ কাতারের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ!

 

 

 

 

 

  • সূত্রঃ চ্যানেল আই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারকে ‘সন্ত্রাসের অর্থায়নকারী’ বলে অভিযুক্ত করার কয়েকদিনের মধ্যেই দেশটির সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ কাতারে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়; যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে কাতার।

দোহায় আসা এই যুদ্ধজাহাজ কাতারের নৌবাহিনী কাতারি এমিরি নেভির (কিউইএন) সাথে মহড়ায় অংশ নেবে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প কাতারকে অভিহিত করেছিলেন, ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় সন্ত্রাসের অর্থায়নকারী’ দেশ হিসেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি এই কাতারেই অবস্থিত। দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ১১ হাজার সেনার সমাবেশ রয়েছে। শতাধিক বিমান এখান থেকে পরিচালিত হয়।

বুধবার এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো দোহায় পৌঁছায় বলে খবর প্রকাশ করে কাতার নিউজ এ্যাজেন্সি (কিউএনএ)। একই দিনে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে কাতার।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, কাতার ৩৬টি যুদ্ধবিমান ক্রয় করেছে।

তবে বর্তমান সঙ্কটের আগেই দোহায় যুদ্ধজাহাজের আগমনের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো, নাকি এটা পেন্টাগনের সমর্থনের ইঙ্গিতবাহী, তা স্পষ্ট নয় বলে জানায় আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যের কয়েকটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান ক্রয় করছে কাতার। যুদ্ধবিমানগুলো ক্রয়ের বিষয়টি সম্পন্ন হয় কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ আল আতিয়াহ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের মধ্যে। ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় জানায় কিউএনএ।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি কাতারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার বৃদ্ধি করবে।

জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ এনে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং পরে লিবিয়া, ইয়েমেন ও মালদ্বীপ দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

ইরান এবং সশস্ত্র জঙ্গি বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে। কাতার বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাতারের সাথে নিজেদের সীমান্তও বন্ধ করে দিছে সৌদি আরব। একমাত্র সৌদির সাথেই কাতারের স্থল সীমান্ত রয়েছে। এর ফলে ব্যাপক হারে খাদ্য আমদানকারী দেশটি অসুবিধায় পরে।

এছাড়াও সৌদি, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমাও কাতারের বিমানের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে আমদানি এবং ভ্রমণে গুরুতর অসুবিধার সম্মুখিন কাতার।

মার্কিন বিমান ঘাঁটির জন্য এবং ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্থায়ী প্রতিশ্রুতির জন্য’ গত সপ্তাহেই পেন্টাগন পুনর্বার কাতারের প্রশংসা করে। পেন্টাগনের এই পুনর্নিশ্চয়তা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সাথে বিরোধপূর্ণ। কাতারকে অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি অভিনন্দন জানান এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এই অবরোধে নিজের কৃতিত্ব দাবি করেন।

এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবং ঐতিহাসিকভাবেই কাতার উচ্চমাত্রায় সন্ত্রাসের অর্থায়নকারী একটি দেশ। আমাদের সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। কাতারকে অর্থায়ন বন্ধের কথা বলার সময় এসে গেছে।

বি.বা/ডেস্ক/ক্যানি

Categories: আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.