মঙ্গলবার ৫ মাঘ, ১৪২৭ ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ মঙ্গলবার

প্রথম আলোর সাংবাদিকের জানাজায় তোপের মুখে জাফরুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক:- জেষ্ঠ্য সাংবাদিক ও দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের জানাজায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। নিহত সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে তার আপত্তিকর মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ডিসেম্বর মাসে মিজানুর রহমান করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর গণসাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়। সেখানে পাঁচ দিন থাকার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় অন্য হাসপাতালে৷ সেখানেই তিনি সোমবার মারা যান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জানাজা শুরুর আগে মিজানুর রহমান খানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে জানান, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের অবহেলার কারণেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা কোনো অভিযোগ করছেন না।

জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা না বুঝে কথা বলবেন না। আসলে মিজানুর রহমানের ভাই মশিউরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

এই কথা বলতেই মশিউরসহ অনেকে তার দিকে চড়াও হতে থাকে। প্রেসক্লাবে উত্তেজনা দেখা যায়। তখন জাফরুল্লাহর কাছ থেকে মাইক নিয়ে যাওয়া হয়। আর তাকে দ্রুত গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মশিউরই হত্যা করেছে এটা খুব একটা ভুল কথা নয়। আর আমিতো এটা কথার প্রেক্ষিতে বলেছি। আমি গিয়েছি জানাজায়। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তারা লিখিত দিতে পারেন। কিন্তু এভাবে জনসমক্ষে ঘোষণা দিয়ে বলছেন এক ভদ্রলোক যে, গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ভালো না, আমাদের গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি আরও বলেন, ‘তখন আমি বলেছি যে, আমাদের এখানে মিজান ছিলই পাঁচ দিন। তার এক মাস পর অন্য হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সে মারা গেছে। আমরা কেন, তাকে কেউ মারলে সেটা তার ভাই মশিউর।’

‘তখন তারা আমার ওপর চড়াও হয়।’-যোগ করেন জাফরুল্লাহ।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে মিজানুরকে আমাদের এখানে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিনের মাথায় রাত ২টার দিকে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে তার ভাই মশিউর বলেন, তাকে (মিজানুরকে) অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাবে। মিজান আমার বন্ধু মানুষ, কিন্তু পরিবার তো সবার আগে। তাই আমি বললাম নিতে চাইলে নেন। সে নিয়ে গেল।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘পরে আমরা লোক পাঠিয়েছিলাম তার খোঁজ নিতে। কিন্তু হাসপাতাল জানিয়েছে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারবে না। মশিউরকেও অনেকবার আমি নিজে ফোন করেছি সে ধরেনি। এমনকি তাদের যে বাকি ভাইরা আছে তাদেরকেও কোনো তথ্য দেয়া হয়নি৷ সিদ্দিকুরসহ বাকি ভাইরা তাকে বিএসএমইউ কিংবা সিএমএইচ নিতে চাইছিল৷ আমাকে অনুরোধ করেছে যেন আমি মশিউরকে বোঝাই৷ মশিউর একচেটিয়াভাবে সব করেছে।

‘এই সন্দেহ শুধু আমার না। তার বাকি ভাইদেরও। পরে শুনলাম আয়েশা মেমোরিয়াল এর সাথে প্রথম আলোর টাকা পয়সার না কি যেন একটা ডিল আছে। মশিউরও সেটা পেত।’

জাফরুল্লাহ বলেন, আমি বলছি না। আমাদের এখানে থাকলে সে বেঁচে যেত। কিন্তু সেবা পেত।

পরে মশিউর রহমান বলেন, ‘উনি মুরব্বি মানুষ। উনার এখন একটু কথাবার্তায় সীমানা আনা উচিত৷ উনাকে কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করেনি। গণস্বাস্থ্যের কথা বলেছে। সেখানে উনি আমাকে ব্যক্তিগত এটাক করে বসলেন। অব্যবস্থাপনার কথা বলেছি মাত্র, অভিযোগও করিনি৷ ভাই হারিয়েছি৷ আপাতত কিছু বলতে চাচ্ছিনা।

বিষেরবাঁশী.কম / ডেস্ক / রূপা

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.