বুধবার ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ ২ ডিসেম্বর, ২০২০ বুধবার

কেন মৃত তরুণীরাই হতো মুন্নার ধর্ষণের স্বীকার?

অনলাইন ডেস্ক:- হঠাৎ করেই সামনে আসা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ঘটে যাওয়া বিভৎস ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। মৃত কিশোরীদের ধর্ষণ এর অভিযোগ উঠে এসেছে মর্গের ডোমের সহকারী মুন্না ভগতের (২০) উপর।

গ্রেফতারের পর থেকেই উঠে আসছে নানা আশ্চর্যজনক ঘটনা যা বিভৎসতার চরম সীমা অতিক্রম করেছে ইতোমধ্যে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে অভিযুক্ত মুন্না ভগত প্রবল যৌন বিকৃতি বা “সেক্সুয়াল ফেটিসিজম” নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত।

মৃত ব্যাক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক গঠনের ঘটনা পুরাতন না হলেও বাংলাদেশে এ ঘটনা এবারেই প্রথম। দেশের মাটিতে এবং একইসাথে এত জনপ্রিয় একটি হাসপাতালের মর্গে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এমন বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারছেন না অনেকেই। সি আই ডি এর গোপন তদন্তের প্রেক্ষিতে গত ১৯শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার, গ্রেফতার করা হয় মুন্না ভগতকে। মুন্না সম্পর্কে হাসপাতালের ডোম রজত কুমারের ভাগিনা।

কিন্তূ ঠিক কি কারণে এমন পথ বেছে নেয় মুন্না?

গ্রেফতারের পর মুন্নার জবানবন্দি থেকে জানা যায়, লাশের সাথে কাজ করতে করতেই লাশের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে তার। একইসাথে বাড়তে থাকে যৌনলিপ্সা। প্রেমিকার সাথে রাতে কথা বলার পর নিজেকে কন্ট্রোলে রাখতে না পারার ফলেই রাতে জায়গা করে নিতো লাশ ঘরে। ১১ থেকে ১৭ বছরের মৃত কিশোরীদের মাঝেই যৌন আকর্ষণ বোধ করায় তাদের উপরই চলত নির্যাতন।

যৌনবিকৃতি বা সেক্সুয়াল ফেটিসিজম বিষয়টি নিয়ে এখনো বেশ ঝাপসা গবেষণা থেকে গেলেও ভারতীয় কিছু গবেষকদের মতে এই যৌন বিকৃতি হতে পারে প্রায় ৫৪৯ বা তারও কিছু বেশী ধরণের। মুন্নার কেস হিস্টোরি দেখে মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য থেকে জানা যায়, মুন্না নেক্রোফিলিয়া নামক মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। একে কেউ কেউ থানাটোফিলিয়াও বলে থাকেন।

নেক্রোফিলিয়ার কিছু বৈচিত্র‍্যের কথাও জানা যায় গবেষণার মাধ্যমে, যার মধ্যে মুন্নার ব্যাধিটি রেগুলার নেক্রোফিলিয়ার অন্তর্গত। যারা রেগুলার নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত হন তারা নিজেদের যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য বেছে নেন মৃতদেহকেই। আর গবেষণা বলছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা সকলেই পুরুষ হয়ে থাকেন।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/রূপা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.