বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

নারায়ণগঞ্জে রাজউকের সভা বয়কট সিটি করপোরেশনের

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্লট বিক্রি, ভবনের নকশা অনুমোদন সহ আরো কিছু ইস্যুতে কাউন্সিলর ও নাগরিক সমাজের লোকজনের ক্ষোভে তোপের মুখে পড়েন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা রাউকের কর্মকর্তারা। ওই মতবিনিময়ে রাজউকের চেয়ারম্যান না থাকায় কাউন্সিলর ও নাগরিক সমাজ ওই সভা বয়কট করেন।
৮ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সভাকক্ষে ওই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান তথা ড্যাপ এর বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারনের সাথে মতবিনিময় সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, কাউন্সিলরবৃন্দ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম, শিক্ষাবিদ কাশেম জামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে রাজউকের দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে রাজউকের ড্যাপ প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় থাকা সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, মতবিনিময় সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান থাকবেন বলা হয়েছিল। সে হিসেবেই আয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। সে কারণেই আমরা আমাদের দাবী কিংবা ক্ষোভ আক্ষেপের কথা কার কাছে বলবো সেটা বলেছি। পরে আমি কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে সভা বয়কট করে স্থগিত করতে বলি। আমার কথায় মেয়রও সমর্থন করেন।
তিনি আরো বলেন, আগে সিটি করপোরেশন ভবনের নকশা অনুমোদন দিত ও দেখভাল করতো। কিন্তু এখন সেটা রাজউক করে। বহু টাকার বিনিময়ে নকশা অনুমোদন দেওয়ার পর আর কোন তদারকি করা হয় না। ফলে যে যার মত ভবন করছে। কোন নিয়ম মানছে না। আর সিটি করপোরেশনও কিছু বলতে পারছে না। তাছাড়া সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের অনেক জায়গা রাজউক বিক্রির টেন্ডার আহবান করেছে। এসব নিয়ে আমরা ক্ষুব্ধ। এসব অভিযোগ বলার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান আসেনি।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর জায়গা প্লট হিসেবে বিক্রি বন্ধ করে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ফেরত আনতে আশাবাদী সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, এ জায়গাগুলো রাজউকের কিন্তু একটা সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ছিল। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহরের উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রচুর প্লট রাজউক নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্রিও করেছে। ২০০৩ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে আমরা আমাদের জায়গাগুলো ফেরত চেয়েছি। অব্যবহৃত ও আমাদের যে ৫টি মার্কেট ছিল সেটা ফেরত চেয়ে ছিলাম। দীর্ঘদিন আইনী লড়াই চলছে এখনও আমরা আইনী লড়াইয়ে আছি। মন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছিল। মন্ত্রীর কথা দিয়েছিলেন ৫টি মার্কেট ফেরত দেওয়ার জন্য কিন্তু এখনও আমাদের মার্কেটগুলো ফেরত দেওয়া হয়নি উপরন্ত এগুলো টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রেসক্লাবের পিছনের জায়গাটা রাজউকের ম্যাপে দেখানো আছে এটা একটি কার পার্কিং স্পট। সেই কার পার্কিংয়ের জায়গাও টেন্ডার করেছে তারা। এটা মামলা চলমান অবস্থায় তারা টেন্ডার করেছে। আমি চেষ্টা করছি কাজটা সমাধান করার জন্য তাই আজকেও আমি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। ওনি আমাদের কথা দিয়েছেন আমাদের যে দাবি ৫টি মার্কেট ওনি ফেরত দিবেন এবং পার্কিংয়ের জায়গা তিনি করে দিবেন তারপর তিনি তাদের জায়গা বুঝে নিবেন। এখন মন্ত্রীর উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
মেয়র আইভী আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী যারা আছেন, আমরা যখন ২০০৬ সালে আন্দোলন করেছি ওই সময়টাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। এখন আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন তখন যদি আর্মির সময়ে আমরা আন্দোলন করে বন্ধ করতে পারি তবে কেন এখন আমাদের জনপ্রতিনিধি হয়ে শুনবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কথায় সাড়া দিবে। সুত্র: নিউজ নারায়ণগঞ্জ

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.