বুধবার ৫ কার্তিক, ১৪২৭ ২১ অক্টোবর, ২০২০ বুধবার

দেশে করোনায় সুস্থতা ছাড়িয়েছে ৩ লাখ

অনলাইন ডেস্ক:- দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২২৩তম দিনে এই ভাইরাস থেকে সুস্থ মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৭৩৮ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫০৯ জন।

শুক্রবার শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে শুক্রবার সুস্থতার হার শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেশি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৫৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫২৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে শুক্রবার ৭৩ জন কম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ১৪ হাজার ১০৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬০০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গতকালের চেয়ে শুক্রবার শনাক্তের হার শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কম।

দেশে এ পর্যন্ত মোট ২১ লাখ ৪০ হাজার ১২৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক শূণ্য ৪ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত এই হার ছিল ১৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালও ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৬২৩ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় শুক্রবার মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত ৭ অক্টোবর থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৪ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২৬১ জনের। গতকালের চেয়ে ৪৭৭টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ১০৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৭৭ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ১০৪ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৫২৭টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২২৬৭ দশমিক শূন্য ১ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৭৬৫ জন এবং প্রতি ৮৬ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ৩৩ দশমিক শূন্য ২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায মৃত্যুবরণকারী ১৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন, আর নারী ২ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৩২৭ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ২৯৬ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ; নারী ২৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের বছরের ৪ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১০ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৭ জন; যা শূন্য দশমিক ৪৮ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৫ জন; যা শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১২৬ জন; যা ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩১৫ জন; যা ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৭০৮ জন; যা ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৫০১ জন; যা ২৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ৯০১ জন; যা ৫১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রংপুর বিভাগে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ৮৭৫ জন; যা ৫১ দশমিক ১৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১২৯ জন; যা ২০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩৬০ জন; যা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪৫৪ জন; যা ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৯৩ জন; যা ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২৩৯ জন; যা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২৫৫ জন; যা ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৮ জন; যা ২ দশমিক ১০ শতাংশ।

ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৯টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৪ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৭৮৫টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩১৪টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৬৬ জন ও শয্যা খালি আছে ১৪৮টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭৮২টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৫৪ জন ও শয্যা খালি আছে ৬২৮টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৭ জন ও শয্যা খালি আছে ২২টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮৬টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৪৯৮ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৮৮৮টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭৬ জন ও শয্যা খালি আছে ১৩৫টি। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১১ হাজার ৬৮৭টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৩৭৬ জন এবং শয্যা খালি আছে ৯ হাজার ৩০১টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৬৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৫৯ জন এবং খালি আছে ৩০৫টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৯৮৭টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫৪১টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৫৬টি।

০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ১ হাজার ৫০৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ৮৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩১ জন, রংপুর বিভাগে ৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪০ জন, সিলেট বিভাগে ৫৬ জন এবং ময়মনসিংহে ২০ জন সুস্থ হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১১৭ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ১৮৭ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ৯১৭ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৭১ হাজার ৬৫৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ২৫৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৭৪৮ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৮৪০ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫ লাখ ৪ হাজার ৯৪৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৯ হাজার ৯৯৫ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৮২টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ১৪৮টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৩০টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭টি।

এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ৯৯৮ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৮ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ৮০১ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ লাখ ৪ হাজার ৩৬৬ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৫২৯ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৯ জন এবং এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: জাতীয়,শীর্ষ সংবাদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.