মঙ্গলবার ১১ কার্তিক, ১৪২৭ ২৭ অক্টোবর, ২০২০ মঙ্গলবার

মা বেঁচে থাকলে এমন দিনে ফোন দিতেন রশিদকে

অনলাইন ডেস্ক : কান্না আটকাতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল রশিদ খানের? হয়তো। আফগানিস্তানের লেগ স্পিনারের স্মৃতিতে যে বারবার ভেসে আসছিল বাবা-মায়ের মুখ। খুব চাইলেও যাঁদের এখন আর একবার দেখতে পান না রশিদ।
বাবাকে হারিয়েছেন এক বছরেরও বেশি আগে। মা-ও রশিদ খানকে ছেড়ে অন্যলোকে পাড়ি জমিয়েছেন মাস তিনেক। তাঁদের কথা মনে করে আফগান স্পিনারের গলা ধরে এসেছিল কাল আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-দিল্লি ক্যাপিট্যালস ম্যাচের পর। দারুণ বোলিংয়ে সানরাইজার্সকে ম্যাচটা জিতিয়েছেন রশিদ, ম্যাচসেরাও হয়েছেন। পুরস্কারমঞ্চেই ২২ বছর বয়সী আফগানের মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথা। মনে পড়ল, মা বেঁচে থাকলে এমন দিনে নিশ্চিত ফোন দিতেন তাঁকে।

৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট—এর চেয়ে ভালো বোলিং রশিদ অনেকবারই করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই ৫ উইকেট নিয়েছেন দুবার, ৪ উইকেট ৩ বার। সেখানে তাঁর সেরা বোলিংই ফিগারও চোখ কপালে তোলার মতো—২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তবে আইপিএলে কাল রশিদের বোলিংয়ের বিশেষত্ব—আগের দুই ম্যাচে হারের পর সানরাইজার্স এবারের আইপিএলে কাল প্রথম জয়টা তুলে নিয়েছে রশিদের সৌজন্যেই।
দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার (৩৩ বলে ৪৫) ও জনি বেয়ারস্টোর (৪৮ বলে ৫৩) এনে দেওয়া দারুণ শুরু আর কেন উইলিয়ামসনের ২৬ বলে ৪১ রানের সৌজন্যে দিল্লিকে ১৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় হায়দরাবাদ। জবাব দিতে নামা দিল্লির ব্যাটিংয়ের ঘাড়ই ভেঙে দেন রশিদ। তাঁর তিন উইকেট দিল্লির ওপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানের—ওপেনার শিখর ধাওয়ান, তিনে নামা শ্রেয়াস আইয়ার ও চারে নামা ঋষভ পন্ত। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানে থেমেছে দিল্লি।

এমন ম্যাচে ম্যাচসেরা তো রশিদই হওয়ার কথা! পুরস্কারটা কাকে উৎসর্গ করছেন, সেই প্রসঙ্গেই রশিদের মনে পড়ে গেল তাঁর মৃত বাবা-মায়ের কথা। ‘গত দেড় বছর খুব কঠিন ছিল আমার জন্য। প্রথমে বাবা মারা গেলেন, এরপর (এই জুনে) মা মারা গেলেন। এই মানসিক অবস্থা থেকে ফিরে আসতে একটু সময় লেগেছে আমার’—কথাগুলো বলার সময় রশিদের গলা যেন ধরে আসছিল।
মা-ই তাঁর চোখে ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভক্ত। অবশ্য কোন মা তা নন! তবে রশিদের বারবার মনে হচ্ছিল, মা বেঁচে থাকলে হয়তো কাল রাতেও অন্তত ফোনে মায়ের কণ্ঠটা শোনা যেত! আফগান স্পিনার স্মৃতি হাতড়ে বলছিলেন, ‘আমার মা ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় ভক্ত। বিশেষ করে আইপিএলে যখন আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেতাম, তিনি সব সময় ফোনে সারা রাত কথা বলতেন আমার সঙ্গে।’

মায়ের স্মৃতির পাশাপাশি আবেগটাকে বুকে চেপে পথ চলতে শিখছেন রশিদ। হয়তো সে কারণেই চাপ-টাপ তাঁর গায়ে লাগে না! মাঠে নেমেই কাল যেমন বুঝে গেলেন, ধীর গতির এই পিচে একটু জোরে বল করতে হবে। ‘আজ একটু জোরে বল করেছি। প্রথম বলটা করার পরই বুঝতে পেরেছিলাম এভাবে করতে হবে। আপনার কেমন গতিতে বল করা উচিত, সেটা দু-তিনটি বল পরই বুঝে যাবেন। এই কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানকে ব্যাক অব দ্য লেংথ বল করতে হয়’—বলছিলেন রশিদ।
নিজের পছন্দমতো বোলিং করার পথে অধিনায়কের সমর্থনও রশিদ পেয়েছেন, ‘ওয়ার্নার সব সময় আমাকে সমর্থন জুগিয়ে যায়। সে আমাকে বলছিল, দলের জন্য সবচেয়ে ভালো কী করা উচিত সেটি তুমিই জানো। যখন সবকিছু আমার পরিকল্পনামতো হয় না, তখনই কেবল আমি অধিনায়ককে গিয়ে জিজ্ঞেস করি কী করা উচিত।

সূত্র : প্রথম আলো

বিষের বাঁশি/ডেস্ক/ব্রিজ

Categories: খেলাধূলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.